এখন আমি কীভাবে কবিতা লিখবো
মাজহার সরকারপ্রকাশিত : আগস্ট ০২, ২০১৮
কে যেন বললো, এখনই নাকি কবিতা লেখার সময়
আমি তাকে বললাম, অনুভূতি না থাকলে লিখবো কোত্থেকে?
ভুল কিছু বলিনি। তবু সে আমার কথায় হেসে ফেললো। ভাবলো কি অন্য কিছু।
তার হাসি কখন থেমেছিল, জানি না। নাকি আমার কাছ থেকে গিয়েও হেসেছে
হয়তো ততক্ষণে কবিতা লেখার সময় চলে গেছে
অভিধানকে তুচ্ছ করে, হৃদয়কে শূন্য বিবেচনা করে
শব্দেরা অনুভূতিরা বিদ্রোহ করে চলে গেছে
ঢাকার রাস্তায় রাস্তায়
সাদা ইউনিফর্ম জুতোমোজা পরে, কাঁধে স্কুলব্যাগ
মনের অনুভূতিগুলো ত্বক চিরে টপকে বেরিয়ে গেছে অথচ আমি বুঝিনি
কবিতা লেখার সময় আমার পেরিয়ে গেছে।
সে শুধু বলেছিল, আর কখনও এমন কথা বলবেন না
আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল
যে মানুষটি প্রতিদিন বাসে কিংবা রিকশায় যাই, ফিরে আসি একা
মাথার চুলে শহরের লজ্জাহীন মলিন ঝড়ে
বুকের ওপর ধ্যানস্ত সন্ন্যাসীর মতো বসে থাকে দুঃখের জটা
শেকড়ের মতো জড়ায় আর কামড়ায়
স্কুলফেরত বালিকার সঙ্গে পাশাপাশি সিটে বসেও তো অনেক গেছি
কই কখনো তো ভাবিনি সে আমারই বোন দিয়া আক্তার মিম!
কিংবা যে কিশোর ছেলেগুলো লাফ দিয়ে বাসে উঠে ঝুলে ঝুলে হেসে কুটিকুটি হয়ে নেমে গেল পরের স্টপেজে
ওদের মধ্যেই একজন আবদুল করিম!
তাহলে আমার ব্যস্ততা কী নিয়ে?
মিম আমার বোন ছিল বলে আমার দু`চোখের শেষাশ্রু পরাজিত হয়েছিল মিমের কাছে
ফুটপাতে উঠে আসা বাস নাকি মহিষের শিঙে মিমের ছোট্ট শরীরটাতে
শেষাশ্রুর চিরকুটে রক্তজল কণায়
একটা বিস্ময়কর সাগর গড়ে উঠেছিল
আবদুল করিম, ভাইটি নিভে যাওয়া আত্মিক অগ্নিকুণ্ডে
বাবার শাসনে কলেজে যাওয়ার আগে যে ছেলেটা
আরও ক’টা টাকার জন্য ঝিম মেরে থাকতো মায়ের উষ্ণ শরীর বৃত্তে
কী চৈতন্যে আজ আঁতকে উঠলাম
আমি তো খুব সাহসী লোক নই
সামান্য ছুরি দেখলেই হাত কাঁপে, রোগীর আর্তনাদ কী রক্তের একটা ফোঁটা
ভেতরটা কেমন কুঁকড়ে বিমূঢ় করে আনে
আমি কীভাবে বিচার চাইবো
যেখানে সারাদিন একে অপরের বিরুদ্ধে মৃত্যুবাক্য উচ্চারণ করে?
সেসময় রাস্তায় বেরিয়ে দেখি, শব্দেরা আকাশ থেকে মেঘ টেনে এনে খেলছে।
এখানেও রক্তের দাগ শব্দের জুতোতে ইউনিফর্মে পাখির ছিটছিটে ডিমের মতো লালরঙ
কে দিল মেখে দম্ভে, হিংস্রতায়!
ধূসর রাস্তার পিচে ঢাকা দিয়া কিংবা করিমের হাতে জেগে ওঠা সূর্যের মুখ
উত্তপ্ত করে তোলে বেরিয়ে আসছে নতুন দুটো কচি ডানা।























