এলিজা খাতুন
এলিজা খাতুনের কবিতা
প্রকাশিত : জুন ১০, ২০২০
চিঠি না পাওয়া অভিযোগে
চিঠি লিখছি কত কত...
তোমার কাছে পৌঁছায় কিনা জানি না
প্রায়শ জানাতে ইচ্ছা হয়
আমাদের আগামী সাধ ও স্বপ্নের কথা,
গন্তব্যের সোনালি শিখরে পৌঁছে যাবার আশা,
আমাদের ক্ষেত ও শস্যের ভাষা,
ভিটে মাটি বৃক্ষ আর শেকড়ের কথা
নাগরিক ভিড়ে মানুষের অবয়বে
কী বিচিত্র রং দেখি প্রতিদিন
কারো কারো আলাপে ক্রোধের মিশেল
কোনও কোনও সংলাপে মৃত্যুর কালো থাবা
কিছু কিছু নষ্ট তত্ত্বে অমঙ্গলের ধ্বনি
তোমাকে লিখিনি এসবের কোনোকিছু
চিঠি পাঠিয়েছি কত কতভাবে!
জীবনের দাবি মাখা তাতে
এখানে কারফিউ তবু জীবনের ঢল
যখন দেখেছি—
অযুত চোখে তুষারের মতো স্বপ্নমাখা
সেইসব চোখ এঁকে দিয়েছি চিঠির খামে
তোমাকে লিখেছি—
কণ্ঠ চুয়ানো বিশ্বাসী ঘামের কথা
কালিঝুলি মাখা উত্তাল হাতের কথা
তোমাকে লিখেছি—
দেয়াল ভাঙার পঙক্তি
দ্বিধার বাকল খসে পড়া
আর শাখায় গজানো নতুন পাতার কথা
লিখতে পারিনি
চিকিৎসালয়ে মুমূর্ষু রোগীর শয্যা না পাওয়া তথ্য
শ্বাসকষ্টে বোতলবন্দি অক্সিজেনের সংকট
লিখতে পারিনি
কবরে শশ্মানে লাশ ফেলে আসা গল্প
লিখতে পারিনি
শ্বাসের উপর হাঁটু চাপা দেয়া বিভৎসতা
এসব কথা লিখতে গেলেই
কলমের নিবে আসে নিদারুণ ক্ষোভ
স্নায়ুর তীরে বাঁধে বিক্ষোভ-দানা
এভাবে কি রোজ চিঠি লেখা হতে পারে!
কবে থেকে যেন কলম ছেড়ে
টিকে থাকতেই দাঁড়িয়ে আছি
ক্ষুব্ধ হাতে সাহসের শিখা ধরে
মনে নেই... ভালো মনে নেই...
আবারও
যতক্ষণ বুকে শ্বাস, ততক্ষণ বড় আশ
আবারও মুখর হবে
মায়ানিবিড় মাঠ, গোয়ালপাড়ার পথ
আবারও রাখাল ভীষণ বাজাবে
বাঁশিতে জমে ওঠা অতীতের টান
আবার দেখা যাবে
পুকুরের জলে পাতা নড়াচড়া ছবি
পদ্মর ভিড়ে সাপেরা পাবে না ঠাঁই
আবার দেখবো
উঠোন কাঁপানো কুপির আলো বাতাসে অনড়
আবার আসবে হাতে হাত রাখা দিন
জিরোনো শেষে হাঁটবো আবার জোরে
উল্টে যাওয়া দোয়াত আবার সোজা হবে
মুছে যাবে মানুষের মুখে ভাসা মেঘ
ভুলগুলো ভুলে আবার আসিও;
পাথর কুড়োনো পথিক এখনও একলা দাঁড়িয়ে
অন্ধকারে তুমুল খুঁজবো আলোর কিরণ
বাতাসের ঘায়ে পাপড়ি ছিঁড়ে; তবু—
অক্ষত হাসি ফোটায় যেমন কুঁড়ি আর ফুল























