এ শহর জাদুর শহর

আদিত্য প্রণয়

প্রকাশিত : অক্টোবর ২০, ২০১৮

একটা শহরের ভেতর... আরো অনেকগুলো শহর
আছে। সে শহরে দুপুরে ট্যাক্সির ড্রাইভার দরজায়
পা তুলে ঘুমোয়... অজস্র অলিগলি দিয়ে হাঁটলে
সাতপুরোনো বাড়ি দেখা যায়। যার ঘরের সিঁড়িটা
মাটির তিনফুট ওপরে শেষ হয়েছে। সেই শহরটার
সব গয়নার দোকানই লক্ষ্মীবাবুর আসল সোনা ও
রুপার দোকান।

এই শহরের ভেতর অন্য এক শহর লুকিয়ে আছে!
যেখানে আজও কাজ ফেরত রাস্তার কলে গামছা
পরে গায়ে সাবান ঘসে কোনো মানুষ। সেখানে অল্প
দাগঅলা আপেল, ধূপ, গাঁদা আর জবার মালায়
পুজো দিতে যান ঘোমটা টানা বউ। দুপুরের রোদ
বাঁচিয়ে ছাদের কার্নিশ থেকে, ঝুঁকে পড়ে ওই স্কুল
ফেরত প্রেমিকটির চোখে, চোখ রাখে কোনো এক
কিশোরী! একটা চিরকুট উড়ে এসে পড়ে হিরো
সাইকেলের সামনে।

মাঝেমাঝেই প্যান্ডেল টাঙিয়ে রক্তদান শিবির হয়ে
যায়। গান বাজে ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত
প্রাণ হলো বলিদান...‘ রক্ত দেয়ার সঙ্গে এর কী
সম্পর্ক, কে জানে! তবু হয়। এই শহরের ফুটপাতে
হাঁটলে ফুলের মালা থেকে সুবাস ভেসে আসে...

হাতে টানা রিকশাগুলো এদিক ওদিক দিয়ে ঢুকে
পড়ে বিব্রত করে ফেলে গাড়িদের। এখানে মানুষ
পান খেয়ে রাস্তায় পিক ফেলে আর টিপ বিস্কুটের
প্যাকেট উড়িয়ে দেয় হাওয়ায়। দুপুরে সবাই এখানে
ভাত খায়। তাই অন্য খাবার পাওয়া যায় না দুপুরে।
‘ওসব ভাজাভুজি এখন না... সন্ধ্যেবেলা পাবেন`
গম্ভীর মুখে স্পষ্ট জানিয়ে দেন দোকানদার।

তবু এই শহরে বৃষ্টি হলেই সোঁদা সুবাস মেলে। পথ
চলতে তেষ্টা পেলে... চাইলে জলের সঙ্গে বাতাসা
পাওয়া যায়। বাসের রাস্তা গুলিয়ে ফেললে পাড়ার
বড় ভাই সঙ্গে করে পৌঁছে দেন বাসস্টপে। এ শহর
অভিনেত্রীর মতো। তার অনেক রূপ।

কিন্তু কোথাও চেনা মফঃস্বলের আঁচলের স্নেহটা
আজও মিশে আছে...! এই শহরে আজও রাস্তায়
ছাতিমের সুবাস মন কেমন বয়ে আনে। আর ঠিক
তক্ষুণি একটা চিঠিতে গোটা গোটা করে লিখতে
ইচ্ছে করে, ‘দেখা হওয়ার কথা ছিল’, মনে আছে?