তারেক মাহমুদ

তারেক মাহমুদ

তারেক মাহমুদের করোনাকালের কবিতা

প্রকাশিত : মে ০২, ২০২০

সুখি ভাবিজান

ভাবিজানের মনটা এখন বেজায় ভালো
ভাইজান একচল্লিশ দিন বাড়িতে
প্রথম কয়দিন ভাইজানের কষ্ট হইতো
ভাবিজানরে জ্বালায়ে মারতো
এ্ইডা করো। ঐডা করো। এইডা আনো। ঐডা আনো।
এইডা কোনো রান্না হইলো? কেন যে কাজের মাইয়াডারে বিদায় দিলা?

প্রথম কয়েকদিন ভাবিজানের জান যায় যায়।
মরদ মানুষ হক্কল সুম ঘরে থাকলে আর কিছু করার জো থাহে

ভাইজানও বাউণ্ডুলে সেরাম
ছাওয়ালের দুধ আনার কতা কইয়ে সপ্তাহখানেক উধাও

ঐদিন গেছে গা

ভাইজান এহন সক্কাল সক্কাল উইঠা কলপাড়ে বাসন মাজে
ভাবিজানের কাপড় ধোয়
ঘর মোছে
হাইসিল ঘরে বসে বটিতে মাছ কাটে শাক কাটে পিঁয়াজ রসুনও কুচি করে
ভাবিজানের এহন অনেক আয়েশ

আয়েশে ভাবিজানের ওজন বাড়ে ভাইজানের কমে
একপেইচা থন ভাবিজান এহন ডেরেজ দিয়া কাপড় পরে
মিষ্টি জর্দার পান খায় রাইতে
ভাইজানের বিড়ি খাওয়া গেছে গা সেই তেরো দিনেই

ভাইজানরে কয়
থালাবাসন ধুইয়া শুইতে আহো

ভাবিজানরে মুবাইলে কই
কিগো ভাবিজান আছো কেমুন
ভাবিজান খলখলাইয়া হাসে
আর কয় তুমগো এলাকার কি খবর
মরার রোগ যাইবো কবে

করোনাকালের স্বাধীনতা

এখন স্বাধীনতা মানে দু’রকম
ডিজিটালি যদি বলি
তাহলে ভার্চুয়ালি ঘুরে আসতে পারি পৃথিবী
পৃথিবী ছাড়িয়ে যেতে পারি মহাকাশেও
যা দেখতে চাই দেখতে পারি
যা শুনতে চাই শুনতে পারি

ম্যানুয়ালি যদি বলি
বেডরুম থেকে একটু কিচেনে গিয়ে
এক কাপ চা বানিয়ে ড্রয়িংরুমে বসতেই
নিশপিশ করে হাত
আহারে অনেকক্ষণ হাতে সাবান লাগানো হয়নি
আবার যাই বেসিনে
২০ সেকেন্ড কয় সেকেন্ডে হয়
ঘড়ি তো আর থাকে না সাথে
মনে মনে গুণি ৩০..৩১..৩২..৩৩..৩৪..৩৫
মনে হয় হলো ২০ সেকেন্ড

ড্রয়িংরুমে বসবার আগে আরেকবার স্যানিটাইজার হাতে লাগানো
কাপে ঠোঁট ছোঁয়াতেই বুঝি কোল্ড টি হয়ে গেছে
ও চা তুমি গরম থাকো না কেন

বিছানায় এপাশ ওপাশ
ঘরের মধ্যেই হাঁটাহাঁটি
কতক্ষণ বা ভালো লাগে বেলকনিতে উদাসভাবে সিগ্রেট খেতে

অনেক সাহস করে বাসার গেট অবধি যাই
বেলিফুলের গাছটি কেমন আরো যুবতী হয়ে উঠেছে
তারপাশে গিয়ে একটু দাঁড়াই

ও পৃথিবী তুমি আবার কবে আগের পৃথিবী হবে?

করোনা যুদ্ধে জিতবেই বাংলাদেশ

আমরা বীরের জাতি
আমরা মুক্তির জন্য যুদ্ধ করি
আমরা মুক্তিযোদ্ধা

বাঙালি ভয় পায় না কিছুতেই
আমরা লড়াকু
আমরা লড়াই করতে জানি

বাঙালি হারে না, হারিয়ে দেয়
নদী ফুলে উঠুক যতই তুফান
ঝড়ের মুখে রুখে দাঁড়ায় পেশীল সাহসী বাঙালি

আমরা জিতেছি ৫২, ৬৬, ৬৯
আমরা জয় করে এনেছি ১৯৭১
প্রতিকূল প্রকৃতির সাথে আমরা লড়াই করে জিতেছি সাহস
আজকের পৃথিবী লড়ছে প্রকৃতির সাথে
সেই বিরূপ প্রকৃতির নাম ‘করোনা’
আমরাও লড়ছি
লড়ছে এদেশের সাহসী মানুষ

আমাদের জয় সুনিশ্চিত
এ কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র

সব যুদ্ধে ঘর ছাড়তে নেই প্রিয়
এ যুদ্ধ ঘরে থাকার
থাকুন বাঙালি
ঘরে থাকুন
থাকুন কিছুটা নিয়মের বাঁধনে

পেশীতে ধার দিন
মনে প্রাণে আরো মানবিক হোন
আসছে নতুন পৃথিবী
আসছে নতুন বাংলাদেশ
গড়তে হবে বীর বাঙালির
স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ

কৃষিজীবি প্রেম

যখন আবার আসবে লকব্রেকের দিন
সেদিন আবার বেরিয়ে পড়বো
পড়েনি যে পথে আমার পায়ের চিহ্ন
সে পথ ধরে বহুদূর হেঁটে যাব
তোমার রুপালি হাত ধরে
এটুকু স্বপ্ন তো দেখতেই পারি
কি বলো প্রিয়? প্রিয়তমা হে!

তোমার চুলের প্রবাহে দেখো মেঘ হবে
দেখো বৃষ্টি হবে
দেখো কাঙ্ক্ষিত ঝড় হবে
হয়তো বন্যাও হবে
তারপর জমবে পলি
দেখো তখন
ঊর্বর জমিতে
আমরা গড়বো আবারও কৃষিজীবি প্রেম
এটুকু স্বপ্ন তো দেখতেই পারি
কি বলো প্রিয়? প্রিয়তমা হে!

মৃত্যু তোমাকে নিমন্ত্রণ, তবে

মৃত্যু তোমাকে নিমন্ত্রণ, তবে কথা আছে
এখনই ছুঁয়ো না আমাকে
তুমি আমার প্রিয় চেয়ারটিতে বসো
আমি নিজ হাতে তোমাকে কফি বানিয়ে দিচ্ছি
এই নাও আজকের দৈনিকগুলো, দেখো
ডেস্কের দিকে তাকাও
একটি অসমাপ্ত ছবি দেখতে পাচ্ছ নিশ্চয়ই
চিনতে পারো কি? ওটা তোমার ছবি
ওটা শেষ করতে পৃথিবীর সব জল শুকিয়ে যাবে

হাতে কিছু কবিতার কাঠামোও দেখতে পাচ্ছ নিশ্চয়ই
এগুলোও শেষ করতে লেগে যাবে ওরকম কিছু সময়
এছাড়াও রয়েছে আমার ব্যক্তিগত কিছু কাজ

মৃত্যু আমাকে বলো... এখন কি তোমার সাথে যাওয়ার সময় আমার?

একী মৃত্যু, কফিটুকু শেষ না করেই উঠলে যে
মৃত্যু তুমি দাঁড়াও, দাঁড়াও প্লিজ
আমার এত কষ্টের কফিটুকু পান করে যাও