অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরিন
তিন কবির কবিতা
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮
লুনা আহমেদ
তবুও মানুষ ভুল করে
জলগুলি গড়িয়ে পড়ে
গড়াতে গড়াতে শুকিয়ে যায়।
ক্ষতগুলো শুকায় না
দাগ কেটে রাখে অদৃশ্যভাবে
ভিতরে ভিতরে রক্তক্ষরণ।
রক্তের দাগ বিলীন হয়
কিন্তু আঁশটে একটা গন্ধ থাকে
নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে গন্ধে।
থেমে থাকে না সময়
থামে না আবেগ
ভালোবাসা ক্রমশ বাড়ে।
এত কিছু হয়ে যায়
তবুও মানুষ ভুল করে
প্রেমে পড়ে আবার নতুন।
বিবর্তনবাদ চলছে
যুগযুগ ধরে বাঁচার জন্য
ভালো থাকার ব্যর্থ প্রয়াস।
সৈয়দ রিয়াদ হোসেন আকাশ
দেবান্বিতা
মধ্যরাতের তারাগুলো যখন মিটমিট করে জ্বলছিল
আর চাঁদের মলিন আলো যখন আকাশে খেলা করছিল
তখনও ঘুম ঘুম চোখে তোমার কথা ভাবছিলাম।
যখন নিদ্রায় আমি মগ্ন প্রায় তখনও আমার ঠোঁটে তোমার নাম, দেবান্বিতা।
যখন আমার স্বপ্ন ঘেরা রাজ্যে আমি রাজা হয়ে প্রবেশ করলাম
তখনও তুমি আছো রাজকন্যা হয়ে আমার পাশে
কিন্তু অমাবশ্যার কালো কোথা থেকে যেন ঢুকে আমার স্বপ্নকে ঢেকে ফেলল।
রাত ৪টা। স্বপ্নভাঙা চোখ পিটপিট করে আমি ভাবতে লাগলাম,
অমাবশ্যার কালো কোত্থেকে এলো?
গভীর এই রাতে আমার ভয় করতে লাগল,
এ ভয় তোমার দূরে চলে যাওয়া অল্প অল্প করে
এ ভয় তোমাকে হারানোর।
স্বপ্নের ছবি এঁকেছি আমার গহনে, দেবান্বিতা!
প্রেয়সী
যে প্রভাতে পাখিরা কিচিরমিচির করে
নতুন রাঙা প্রভাতকে স্বাগত জানানোর জন্য
যে প্রভাতে কোকিলের কণ্ঠে ভেসে আসে চেনা আওয়াজ
যে প্রভাতে আকাশে বাতাস খেলা করে,
সে আকাশের রং তুমি।
আমি সারাদিন বসে আকাশে রং দেখি,
আমি সে রঙে ভিজায় মনের তুলি
আঁকি অনেক অনেক স্বপ্ন ও মায়ার ছবি।
যখন পাখিরা ডানা ঝাপটে আকাশে একে অপরের সাথে খেলা করে
তখন আমারও ইচ্ছে হয়, তোমাকের নিয়ে ডানা ঝাপটাই
আকাশে খেলা করা ওই পাখিদের দলে মিশে যাই।
কিন্তু তা সম্ভব নয়,
কারণ তুমি অন্যের আকাশের রং হয়ে আছো,
আমার আকাশের রং তুমি শুধুই আমার কল্পনায়।
নিশি রাতে যখন চাঁদ জানালা দিয়ে উঁকি দ্যায়
যখন তারারা মিটিমিটি জ্বলে
আলোর খেলায় মেতে থাকে
তখনও আমারও ইচ্ছে হয়,
ওই আকাশের তারাগুলোর মতো
আমি তোমাকে নিয়ে মিটিমিটি করে জ্বলতে থাকি।
আমার তখন ইচ্ছে হয়,
তুমি আমি মিলে তারাদের মতো
ধরণীর বুকে রুপার মতো ভালোবাসার রুপালি কিরণ ছড়িয়ে দিই।
কিন্তু তা সম্ভব নয়,
কারণ তুমি এখন অন্য তারার মাঝে আছো
তারার রাজ্যে তুমি আমার শুধুই কল্পনা।
নূরে আলম সিদ্দিকী নূর
খুঁজি তোমায়
তুমি যখন চোখের আড়াল হও
বুকের বাম পাশের যন্ত্রণা আমাকে স্থবির করে
কে যেন রঙিন স্বপ্নে ঘোলা জলের ঝাপটা দেয়!
তোমাকে পাওয়ার উন্মাদনায় অস্থির হই,
খুঁজি তোমাকে দিক্বিদিক,
মনের রঙিন আকাশটা কালো মেঘে ছেঁয়ে যায়,
হেমন্তের মৃদু শীতল বাতাস উষ্ণতায় মন ভাঙে।
দু`চোখ যেদিকে যায় খুঁজি তোমায়
সকাল বিকেলে যায়, গোধূলি ডুবে যায় সন্ধ্যায়,
চোখের তারায় অমানিশা নামে
ক্লান্তিতে ভর করে তনুমন
তোমায় খুঁজে পাই স্বপ্নালোকে।























