দীপংকর চক্রবর্তীর ৫ ছড়া

প্রকাশিত : মার্চ ০২, ২০২০

জীবনের মানে

জীবনের মানে, ঘনশ্যাম জানে
এই কথা গিয়েছিল পিকাসোর কানে।
পিকাসো সেদিন থেকে ছেড়ে দিল আঁকা
বহুপথ পাড়ি দিয়ে চলে এলো ঢাকা।
ঢাকা দেখে পিকাসো তো ভীষণ অবাক
পথে পথে গাড়ি আর মানুষের বাঁক।
জীবনের মানে হলো, ঘুম থেকে ওঠা
তারপর সারাদিন ছোটা ছোটা ছোটা।
এই ছোটা হয় যদি জীবনের মানে
সে কথা তো ইউরোপে সকলেই জানে।
তারপর পিকাসো ছেড়ে যায় ঢাকা
আবার স্বদেশ ফিরে শুরু হবে আঁকা।

মাছের দলে

মাছের গায়ে আঁশ ছিল
তাই দেখে সে হাসছিল
হাসতে গিয়ে বন্ধ দম
লাফিয়ে চলে জোর কদম।

জোর কদমে লাফায় ঘোড়া
যেই পেয়েছে ছাড়া
পেছন থেকে সহিস ব্যাটা
কেবল লাগায় তাড়া।

সেই তাড়াতে কেবল ছুট
বদলে ফেলে চলার রুট
নামল সটান জলে এবং
মিলল মাছের দলে।

বকটা

বকটা ছিল একলা মনে
বড় রাস্তার ধারে
পায়ের নিচে খালের জলে
চাইছে আড়ে আড়ে।
একটা কী মাছ হঠাৎ করে
জলেতে দেয় ঘা
অমনি তাকে ঝাঁপিয়ে ধরে
মাছরাঙাদের ছা।
ব্যাপার দেখে বক বাবাজী
ভীষণ হতবাক
সামনে দিয়ে দৌড়ে বেড়ায়
মাছরাঙাদের ঝাঁক।

বুড়িগঙ্গার তীরে

একটা কুকুর একলা ঘোরে
লোকের ভিড়ে
শনিবার দিন সকালবেলা
বুড়িগঙ্গার তীরে।
আকাশজুড়ে মেঘ ছিল আর
বাতাস ছিল ভারি
চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিল
গভীর আহাজারি।
দু’দিন হলো লঞ্চ ডুবেছে
এইখানটায় ঝড়ে
তাদের খোঁজে হাজার মানুষ
এইখানে এই চরে।
ডুবুরিরা লাশ তুলছে
বুড়িগঙ্গার চরে
সে লাশ ঘিরে হাজার মানুষ
কেবল মাতম করে।

জীবনের ছবি

একুশ মানেই শহিদ মিনার
রক্তের লালে লাল
একুশ মানেই মুক্তির গান
রাজপথ উত্তাল।
একুশ মানেই সোনালি স্বপ্ন
বাঙালির মনে আঁকা
একুশ মানেই সবুজের ছবি
সূর্যের রঙে মাখা।
একুশ মানেই কুয়াশার ভোর
শিশির সিক্ত পথ
একুশ মানেই বুকে কালো ব্যাজ
ফুলে ঢাকা রাজপথ।
একুশ মানেই লাল লাল ফুল
প্রতিবাদ প্রতিবাদ
একুশ মানেই প্রাণের গভীরে
মাতৃভাষার স্বাদ।

একুশের ভোরে শহিদ মিনারে
আমি অক্ষম কবি
কবিতার এই শব্দ সাজিয়ে
আঁকি জীবনের ছবি।