নীল কলার খোসা ও মেঘে ভরা বালিশ

সঞ্জীব পুরোহিত

প্রকাশিত : জুন ২০, ২০১৬

ছায়া মানে অস্তিত্ব’র অনুবাদ
ছায়াসোপানের প্যারায় প্যারায় কলার খোসা পড়ে আছে

ছায়াগুহায় মুখ রেখে প্রতিধ্বনি তুলে না-নাম্নী তোমাকে তুমি তুমি করে ডেকে উঠি
ডাকি, যেভাবে ডাকে আকাশ আকাশকে
ডাকি, যেভাবে ডাকে জল বিজলকে
তিনদশকের পৃথিবী শেখা কতটা পেরিয়েছে ভোর; বর্ণমালা, মুখস্থ নামতা, বাকবাকুম ছড়া—
খুব ভোরে
যৌনতাচর্চিত বাগানে থোকায় থোকায় কনডম ফুল ঝরে আছে
রাতভর যে উদাম হাওয়া আগলে রেখেছে শিশির খচিত ঘাস, তার গালে একগোছা চুল আর বিক্ষত ওড়না লেগে আছে। থমকানো স্বাধীনতা উদ্যানের হাঁটাপথ—বেদনার পিচ্ছিল খোসা পরেছে।

জলাতঙ্ক সূর্যের তাড়া খেয়ে ঘরে ফিরে কফির মগে চুমুক চুমুক বেদনা টানছিলাম। কে জানে হয়েছিলো কী। কে সে যত্ন করে বিধুর করেছে আজকের সারাবেলা। বোমার আঘাতে ভেঙে পড়া বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাঁচা লেবানিজ তরুণী, সেও বালিশ হাতে পাড়ি দিচ্ছে ভোর। পত্রিকায় বেরিয়েছে সে ছবি-খবর, আর কিছু নেয় নি, শুধু বালিশ, নিশ্চিত ঘুমের প্রত্যাশা। আহা! কতযুগ জেগে আছে ফিলিস্তিন।

বনিবনা না হওয়া কোনো এক বারবণিতার বুকের মাংসে যে দিচ্ছে কামড়, তার শাপ আমাকে কেন সাপ হয়ে করে দংশন; কফিতে, দুপুরের গরম ভাতে, ডিনারে-ডেসার্টে?

আকাশে কার্পাস ভাসে। মেঘপুরে যে লেপ-তোষকের দোকান আছে, আমি সে কারিগরের কাছে ঘুম-কলার দীক্ষা নেবো।