নয়া নূহ্

আলি এসবার আদুনিস

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৩, ২০১৭

আলি আহমদ সাইদ এসবারের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৩০; সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের লাটাকিয়া শহরের কাছের গ্রাম আল-কাসাবিনে। মক্তবে কোরআন শিক্ষা দিয়ে পড়াশোনা শুরু। বিশ-ত্রিশ বছর ধরে সাহিত্যে সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ীদের তালিকায় আসে তার নাম। ১৯৭৫ সালে সিরিয়া থেকে নির্বাসিত হয়ে স্ত্রী  এবং দুই মেয়েকে নিয়ে বর্তমানে প্যারিসে বসবাস করছেন। মূল কবিতাটি কামাল আবু দিব- এর ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাঙলায়ন করেছেন জুয়েল মাজহার

১.
আমরা ভ্রমণ করি কিস্তি চেপে, কাদায়-বৃষ্টিতে,
আমাদের দাঁড়গুলি ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতিজাত।
কেবল আমরা রই বেঁচে–আর, বাকি সকলেই যায় মরে ।
আমরা চলি ঢেউয়ে ঢেউয়ে, আকাশ ছাপিয়ে ওঠা
লাশের দড়ির সঙ্গে আমাদের জীবনকে বেঁধে।

স্বর্গ আর আমাদের মাঝখানে তবুও রয়েছে এক স্থান অবারিত।
``প্রভু, তুমি আর-আর প্রাণিদের, লোকেদের মধ্য থেকে
কী কারণে আমাদেরই বাঁচালে কেবল?
আর, তুমি কোন্‌খানে এইবার আমাদের করবে স্থাপন ?
তোমার আরেক দেশে, আমাদের আদি ঠিকানায়?
মরণের পাতার ভেতরে, নাকি জীবনের হাওয়ার নিগড়ে?

আমাদের প্রতি প্রাণে, আমাদের ধমনীতে সূর্যের ত্রাস বহমান।
`প্রথম` আলোকে আমরা হয়েছি হতাশ,
আমরা হতাশ, প্রভু; সে-আগামীকালের বিষয়ে
আমরা করবো শুরু তাতে এক নতুন জীবন।
সৃষ্টির আদিতম চারা আমরা না যদি হতাম,
এ-জাহান আর এরই প্রজন্মের পরম্পরায়, স্রেফ
কাদা কিংবা উনুনের ছাই হয়ে যদি থাকতাম,
কিংবা যদি এ-দুয়ের মাঝামাঝি কিছু একটা আমরা হতাম,
তাহলে তো আমাদের আর দু`দুবার
দেখতে হতো না এই পৃথিবীকে, আর এর প্রভুকে ও এর জাহান্নাম।``

২.
কালের সূচনা যদি হতো পুনর্বার,
আর যদি জীবনের মুখখানি ডুবে যেতো অগাধ সলিলে,
আর যদি পৃথিবীর উঠতো খিঁচুনি, আর, এ-আমারই কাছে
ঈশ্বর, সানুনয়, আসতেন ছুটে :
`` নূহ, তুমি রক্ষা করো জীবিত রয়েছে যতো প্রাণ!`
আমি তার অনুরোধে দিতাম না সাড়া।
আমার কিস্তিতে আমি ভ্রমণ করতাম,
মৃতদের চোখ থেকে কাদা আর সমুদয় নুড়িকে সরিয়ে।
আর, মহাপ্লাবনের কাছে আমি তাদের সত্তার তল মেলে ধরতাম,
তাদের ধমনী-শিরায় আমি ফিস্‌ফিস্ স্বরে বলতাম:
আমরা এসেছি ফিরে পাড়ি দিয়ে প্রাণহীন অন্তহীন ধু-ধু জলরাশি ।
গুহা থেকে বের হয়ে আমরা এসেছি,
বদলে দিয়েছি আমরা অন্তহীন কালের অম্বর,
ভয়তরাসের কাছে মাথা-না-নুইয়ে আমরা উড়িয়েছি পাল --
সেই ঈশ্বরের কোনো কথা আমরা তো করিনি পালন।

মরণের সঙ্গে শুধু আমাদের সব বোঝাপড়া।
আমাদের তটভূমি সেতো এক চিরচেনা সুখদায়ী হতাশার নাম,
অবিরাম বৈঠা ঠেলে, আমরা দিয়েছি পাড়ি
লৌহ-উদকময় অগভীর সেই পারাবার--- অবশেষে;

সেই ঈশ্বরের প্রতি আমরা দিইনি আমল, তার শুনিনি বচন।
অভীপ্সা করেছি শুধু, কোনো এক, নতুন প্রভুর।