অলঙ্করণ: দীপাঞ্জন সরকার

অলঙ্করণ: দীপাঞ্জন সরকার

পাপিয়া জেরিনের গুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২২, ২০১৭

প্যরাডক্স

রাত্রি দ্বিপ্রহরে কাটে কুয়াশার মেঘ
চাঁদ হয়ে ওঠে অমোচনীয় কলঙ্ক আবার,
বাদামি মথের মতো আমি ফিরে পাই সম্বিৎ
প্যাঁচার ডানার আঘাতে।

দেখি, বৈধ প্রেমের দূরত্ব যোজন
মলিন চোখ... স্মৃতি রৈখিক মুখ
আর স্মৃতিতে বিরল যিনি
হতেছেন ভবিতব্য মহাকাল;

সুদূরে নৈকট্য, নৈকট্যে ভ্রম
স্বরূপের অপরূপে... উপসর্গ হীনকায়
দ্বিধার নিশ্চিতি, দোদুল ধ্রুবক...
দেখি, প্রেমেতে প্রেমেতে ঘৃণার আহুতি
ঘৃণায় প্রণয় বিকার।

রাত্রি দ্বিপ্রহরে কাটে কুয়াশার মেঘ
চাঁদ হয়ে ওঠে অমোচনীয়  কলঙ্ক আবার!

কুজঝটিকা

সেইদিন পার্কস্ট্রীটে তোমার ঠোঁটে চুমু খেয়ে
কুয়াশায় মুছে গিয়েছিল একটা অচেনা মুখ,
বিহ্বলা চোখে ঠোঁট খুললে তুমি, কানে ঝিঁঝিঁ পোকার সাইরেন;

আর সেই কেতকী বিশ্বাস!
যে কীনা ঘরে ডেকে নিয়ে
চড়াও হতো তোমার ওপর
তুমি বলছিলে, সেও নাকি আজকাল তোমাকে
কাপুরুষ বলে গালমন্দ করে...
অন্ধকারে তার সিঁদুর অক্ষত রেখে
শাখাদুটো গুড়িয়ে দিয়েছিলে বলে;

তুমি তোমার প্রথম চুমুর কথা বলেছো
আমি শুনে খুব হেসেছিলাম
প্রেমিকার চুমু, চুমুর পর কান্না!

চুমু প্রসঙ্গ আসলেই
তোমার চোখদুটো কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে যায়
তুমি বলেছো, চুমুতেই বা চুমুকেই নেমে আসে কিছু ফুল-ফল-শিশির,
বলেছো, শরীরের ভেতর থাকে সবুজ বাঁকা ডাল
বেহেশতি কামরাঙা  নিয়ে সে ডাল নেমে আসে মুখে,
পৃথিবীতে আছে কিছু ফল... মায়ের দুধের মতো
অব্যক্ত, বোবাস্বাদ!

অতনু! গতকালও তুমি রমনায়
বুকে টেনে নিয়েছিলে রেবতীর মুখ,
প্রগাঢ় চুম্বনেও সে ফিরিয়ে দিচ্ছিলো তোমার জিভ;

চুমু প্রসঙ্গ আসলেই তোমার চোখে নেমে আসে ঘোর, কুয়াশার নগরী আর অচেনা কিছু মুখ
অতনু, কত প্রত্যাশিত, অপ্রত্যাশিত চুম্বন
কুয়াশার মতো নেমে আসে বাসে, ট্রেনে, ট্রামে, রিকশায়, ঘুপচি গলিতে...
কত সব চুম্বনদাগ ঠোঁটে তোমার!

আমার সহস্র চুম্বনে সেই দাগ  ঘুঁচবে তো!

যেতে যেতে

এই পায়েহাঁটা পথে কতদূর চলে আসি
দেখি, আরও কত লোক হাঁটে দ্বিধাহীন
তারা কেউ ভীত নয়,
পথের পাশে পা মেলে অপ্রকৃতস্থ মেয়ে
ফুলে ওঠা লাশের মতো তার পোয়াতি শরীর
কারও ছুড়ে দেয়া রুটি খেতে খেতে
সেও ভেবে বসে মারিয়ামের মতোই,
এ সকল শিশুর পিতা আর কেউ নয়, অদ্বিতীয় ঈশ্বর;

আরও দূরে আসি,
দেখি, মাঠে মাখা শৈশব
কিশোরীর বুকে হুড তুলে রাখা কুচি
উড়ে যাচ্ছে উড়ে যাচ্ছে,
ফুঁড়ে ঢুকছে বয়স্ক যুবক ও তার নাভিশ্বাস।

পেছনে সারি সারি গাছ
উঠানে শত শত বেজোড় শালিখ,

এ পথে যেতে যেতে দেখেছে কেউ
অসংখ্য রমণীর ধসেপড়া বুক
পৌত্তলিক পুরুষেরা নাকি দলে দলে যোগ দিচ্ছে ক্রুসেডে,
তাদের ঝোলার ভেতর ঝুকে আছে সেক্সডল;

এই পায়েহাঁটা পথে জানি না  কতদূর এসে গেছি
হাঁটতে হাঁটতে দেখি...
চলে এসেছে ভবিষ্যৎ!

জাতিস্মর

সুরম্য ধ্বংসস্তূপ,
এইখানে খোলো বুকের ভাঁজ
দেখি! দেখি, তোমার শিলালিপি
দেখি, আলজিভ!.... দেখি
বলো, কতবার ফুটিয়েছো লাল অপরাজিতা!

ধূসর সাম্রাজ্য,
তোমারে ভালবেসে
পথ হারায়েছে পথ,
বিস্মরণে স্মৃতিরা...

এইখানে খোলো  বুকের ভাঁজ
দেখি শিলালিপি
বলো, কতবার ফুটিয়েছো তুমি নীল ক্লিটোরিয়া!

ভুলো গেছো?
ফুলেরাও ফিরে গেছে সব!

আমিই কি কেবল দাঁড়ায়ে আছি
       একা  জাতিস্মর?

বিলুপ্ত নিপ্পুর,
এইখানে দেখো খোলা আছে আমার শিলালিপি
এইখানে আলজিভ...
নিমীলিত চোখ, অস্ফুট ভাঁটফুল!

সুরম্য ধ্বংসস্তূপ
আহ্! এই ভাবে খোলো...

স্যাম কিংবা শ্যাম

হেই স্যাম, চুরুট হাতে তুমি ঢলে পড়ে গেলে
খুলে যায় ফায়ারপ্লেস, দুলে ওঠে স্কার্ট
ঠোঁটে নরম আগুন আর আঙুল ডুবায়ে শিশিরে
তুমি প্যাপিরাসে জলছাপ দিও।

দেয়ালে ঠেস্ দিয়ে ত্রিভঙ্গীয় বাঁকে
পা তুলে থাকে রাশান ছোড়ি,
ওহ স্যাম ওহ্... লিপলক্! লিপলক্!
ভয়াবহ শীৎকারে জমে যায় নদী...