ফারুক সুমনের ৪ কবিতা

প্রকাশিত : মার্চ ০১, ২০২০

কবি ও প্রাবন্ধিক ফারুক সুমনের আজ জন্মদিন। জন্ম ১ মার্চ ১৯৮৫ সালের ১ মার্চ তিনি জন্মগ্রহণ করেন চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে। স্থানীয় দেয়ালিকায় লেখালেখির হাতেখড়ি। ছাত্রাবস্থায় যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশ করেন ছোটকাগজ `অক্ষৌহিণী`। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক পাঠচক্র `কালবোধন` এর সংগঠক ছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে যথাক্রমে অনার্স (২০০৫) ও মাস্টার্স (২০০৬) প্রথম শ্রেণি এবং উচ্চতর এমফিল (২০১৪) ডিগ্রি অর্জন করেন। কবিতার প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ থাকলেও মননশীল গবেষণার প্রতি তিনি সমান আগ্রহী। `শামসুর রাহমানের কবিতা: নগর-চেতনা ও নাগরিক অনুষঙ্গ` শীর্ষক গ্রন্থের জন্য তিনি `উপমা-খোলাচিঠি সম্মাননা ২০১৬` লাভ করেন। এছাড়া একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য ২০০৬ সালে `নিপ্পন ফাউন্ডেশন অব জাপান` থেকে শিক্ষাবৃত্তি লাভ করেন।

`বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র`-এ ইউনিট ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে তার পেশাগত জীবন শুরু হলেও শিক্ষকতাই তার আসল ব্রত। বর্তমানে `বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ` (সাবেক নাম বাংলাদেশ রাইফেলস কলেজ, বিজিবি সদর, পিলখানা, ঢাকা) এ বাংলা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। কবির জন্মদিনে ছাড়পত্রের অভিনন্দন।

মগ্নগিরি, ঝিরিপথ

এই যে মগ্নগিরি, এই যে ঝিরিপথ
এই যে অতৃপ্তি, এই যে আয়ুরথ
তুষারাবৃত মন নিয়ে রয়েছ নিশ্চল
কেমন স্তব্ধতা অথচ শক্তি প্রবল
লুকিয়ে রেখেছ মোহের মোহর।

প্রতিদিন এখানে শতচোখ জুড়ে
আবেগপরায়ণ পাখির বিলাপ
হে হিমালয়, তুমি শুনতে পাও?
অনিকেত মন, অন্তরোৎসার।

এখানে নারীমন খুঁজে ফেরে ঘর
এখানে পুরুষ যেন নিঃস্ব যাযাবর
এখানে শিশু যেন আবেগের চাঁদ
এখানে বৃদ্ধ যেন অন্ধকার রাত।

কবিতামিত্রের স্বীকৃতি

অস্বীকার করতে করতে বহুদিন পর
এক আগরবাতি জ্বলা সন্ধ্যায়
আচমকা আমায় তুমি দিয়েছ স্বীকৃতি
তারপর এও বলেছ,
`তোমার কবিতা আমার ভালো লাগে।`

এভাবেই ভীষণ শম্বুক গতিতে
ঈর্ষামুখগুলো কবিতামিত্র হয়
রোদ ওঠে, ফুল ফোটে
কবিতাশ্রমে বুঁদ হয়ে বসে
মৃৎভাণ্ডে রেখে যাই হৃৎচিহ্ন।

বাহানার দিন

বহুদিন রোদের দোকানে যাওয়া হয় না
এখানে অন্ধকার প্রিয় জনকোলাহলে
অভ্যস্ত হয়ে কিনেছি মাটির তৈজস
গলির শেষে অন্ধকার মোড়ে
ভাড়া নিয়েছি বাহানার দিন
ওড়ে কবুতর; আমি দেখি।

প্রত্নখননের অজুহাতে—
খুঁড়েছি প্রিয়তমা মৃত্তিকার বক্ষদেশ
সেখানে পেয়েছি মায়াময় মৃগকঙ্কাল
যে কিনা ভালোবাসার নামে বলি হয়েছে
ধোঁয়া ওড়ে, আমি দেখি।

বাগানজুড়ে ফুল নয়;পাতাদের কানাকানি
মনে মনে দিনরাত কোদালের কোপ;
শিরায় শিরায় শিহরণ যত
প্রবাহিত হয় রোদের দিকে
ও রোদ! তুমি কোথায়?

নির্জন প্রান্তিকে

তোমরা যারা কবিতা লেখো
অথবা শব্দ কারিগর
আমাকেও ডেকে নিও
চিনিয়ে দিও কবিতাঘর
আমার কোনো দশক নেই
জনহীন প্রান্তিকে—
আমি এক দলছুট কবুতর।

উঠে এসেছি হামাগুড়ি দিয়ে
কনুইয়ে কাদার দাগ
হাঁটুর বাটিতে কালো মতো কড়া
আমি তবে কোন দশকে যাব?
সত্তর, আশি, নব্বই?
না, তাও নয়। তবে শূন্য!
এভাবেই দশক বিচ্ছিন্ন হয়ে
ভেসে বেড়াই মহাশূন্যে
অবর্ণনীয় বর্ণমালায় বিবৃত জন্মবৃত্তান্ত

হে কবিতাদেবি, দশক চাই না
কবিতার দান দাও; দাও অমরতা
দাও বিমূর্ত মিনারের শুভ্র অবয়ব।