বাশার মাহফুজের একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৮
দুচোখে গনগনে দুই সূর্য
.
লোকটা চারদিকে আলো ছড়াচ্ছিল
পাঠ দিচ্ছিল আমপাতায়। খোলা মাঠে।
অন্ধবন থেকে স্বাগত জানাচ্ছিল সূর্যকে।
.
লোকটা এভাবে গদ্য ভোলে
গোলাপের দিন ভোলে। আমের মুকুল ভোলে।
ভুলে থাকে মাস-বছর-দিন।
.
শব্দের কাছে তার জমানো হিসাব ছিল
দুচোখে গনগনে দুটো সূর্য নিয়ে
সে ভাঙতে চেয়েছিল নিয়ম।
.
লোকটা এভাবে চোখ দুটো রেখে এসেছিল অন্ধের চোখে!
পোশাক
.
মিথ্যে দিয়ে ঢেকে দাও নিজেকে
অনেকগুলো সত্য ঢাকতে
অনেকগুলো পোশাকের প্রয়োজন হয়
দর্জি রোজ তৈরি করছে এইসব পোশাক
দর্জি রোজ মাথা ঢাকছে
নাক ঢাকছে
হাত ঢাকছে
তবুও বের হয়ে যাচ্ছে শরীর।
.
নিজেকে লুকাতে-লুকাতে লুকিয়ে ফেলছো বেলিফুল
লুকিয়ে ফেলছো মেঘ
লুকিয়ে ফেলছো বৃষ্টি।
.
দর্জি পোশাক তৈরি করে যাচ্ছে
তোমার পৃথিবী সমান একটা পোশাক প্রয়োজন।
অপ্রমাণিত জ্যামিতিক দিন
.
একটা-একটা করে পলাশফুল ছিঁড়ছো
একটা-একটা করে ধাপ পার করছো।
.
পার হওয়া অসহায়ত্ব
গলা জড়িয়ে কাঁদছে দুপুরের চোখে
তাকে একটা মালা পরিয়ে দিলে
এভাবে বেড়ে উঠলো ভেতরের মেঘ
এভাবে ভেসে চলল আকাশ থেকে আকাশ।
.
পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল তালগাছ
তালগাছের মতো বড় হয়ে উঠতে পারিনি
অপ্রমাণিত জ্যামিতিক দিনগুলো
আমাকে একটা পিঁপড়ার মতো দিকহারা করে।
.
একটা-একটা করে কুঁড়ি ফুটছে
একটা-একটা করে সাঁকো পার হচ্ছো
পেছনে থেকে যাচ্ছে কাকডাঙা
হানুয়ারের মাঠ।
.
বেড়ে ওঠো পাহাড় সমান
বেড়ে ওঠো আকাশ সমান।
.
একটা আকাশ পকেটে ভরে রোজ হাঁটছি!
হাত
.
মাথার পাশে আরো অনেকগুলো মাথা
একাধিক মাথায় কাজ করে যাচ্ছে মাত্র দুটি হাত
আরো অনেকগুলো হাত চাই।
একহাত যাবে বাজারের দিকে।
একহাত যাবে শ্মশানের দিকে।
একহাত যাবে পাড়া বেড়াতে।
হাতগুলো হাত পাতবে না
হাতগুলো শুধু দিতে থাকবে।
.
এমন অনেকগুলো হাতের খোঁজে হাতড়ে বেড়াই দিন
হাতড়ে বেড়াই পুরাতন হিসাব
নতুন সময়ের কাছে নতুন খাতা মেলতে গিয়ে
হয়ে উঠি মিথ্যুক
হয়ে উঠি অকর্মা।
.
ঈশ্বর হাতগুলো গেঁথে দাও শরীরে
অসুস্থ চাররাঙা চারপাশকে কিছুই দেয়া হলো না।
চোখ
.
চলে যাবার সময় তিনি রেখে গিয়েছিলেন চোখ
আর রেখে যাওয়া চোখ দিয়ে
তিনি দেখছিলেন সৎকার
কুলখানি।
.
তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ হচ্ছিল
নেতা বলছিলেন,
বড় ভালো লোক ছিল
আলোচক মাথা নাড়ালেন
দর্শক শুনছিলেন।
.
লোকটা দেখছিল তাকে নিয়ে মিথ্যে ভূমিকা
তাকে নিয়ে বাজারজাত
লোকটা দেখছিল কত সহজেই মৃত লোকটাকে দাঁড় করাচ্ছে
পেরেকবিদ্ধ করছে সম্পর্ক।
.
লোকটা এইসব দেখে-দেখে হাঁফিয়ে উঠেছিল
লোকটা ঈশ্বরের কাছে পুনর্জন্ম চেয়েছিল
নতুন করে বাঁচার জন্য নই,
রেখে যাওয়া চোখদুটো ফেরত নেয়ার জন্য।























