বায়েজিদ বোস্তামীর একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : আগস্ট ১০, ২০১৮
সাক্ষাৎ
তার সাথে আমার প্রথমবার কথা হয়
একটা পানশালায়
সে আমাকে ধর্ম বিষয়ে নানা কথা বলে
ইহকাল-পরকাল, জন্মান্তর, ত্রাতা যিশু, অষ্টমার্গ
এইসব শব্দ আমার কানে আসে
বিদায় নেওয়ার আগে আমরা দুজন হাত মেলাই
এবং পরিচিত হই
তার সাথে আমার দ্বিতীয়বার কথা হয়
একটা জুয়ার আসরে
সে আমাকে রাজনীতি বিষয়ে নানা কথা বলে
শোষণ, শ্রেণি বৈষম্য, কার্ল মার্ক্স, গণতন্ত্র, ক্ষমতা
এসব শব্দ আমার কানে আসে
বিদায় নেয়ার আগে আমরা দুজন হাত মেলাই
এবং পরিচিত হই
তার সাথে আমার তৃতীয়বার কথা হয়
একটা চিড়িয়াখানায়
সে আমাকে সমাজ বিষয়ে নানা কথা বলে
পরিবার, মূল্যবোধ, বিয়ে, ম্যাক্স ওয়েবার, কাঠামো
এইসব শব্দ আমার কানে আসে
বিদায় নেয়ার আগে আমরা দুজন হাত মেলাই
এবং পরিচিত হই
তার সাথে আমার চতুর্থবার কথা হয়
একটা রেস্তোরাঁয়
সে আমাকে দর্শন বিষয়ে নানা কথা বলে
ঈশ্বর, অস্তিত্ববাদ, চার্বাক-দর্শন, প্লেটো, সংশয়বাদ
এইসব শব্দ আমার কানে আসে
বিদায় নেয়ার আগে আমরা দুজন হাত মেলাই
এবং পরিচিত হই
তার সাথে আমার পঞ্চমবার কথা হয়
একটা বেশ্যালয়ে
সে আমাকে শিল্প-সাহিত্য বিষয়ে নানা কথা বলে
পরাবাস্তবতা, পিকাসো, মায়াকোভস্কি, পুরাণ, রেনেসাঁ
এইসব শব্দ আমার কানে আসে
বিদায় নেয়ার আগে আমরা দুজন হাত মেলাই
এবং পরিচিত হই
এইভাবে তার সাথে অজস্রবার আমার কথা হয়
অজস্র স্থানে
অজস্র বিষয়ে সে নানা কথা বলে
অজস্র শব্দ আমার কানে আসে
অজস্রবার বিদায় নেয়ার আগে আমরা দুজন হাত মেলাই
এবং পরিচিত হই
আশ্চর্যের বিষয় এই যে, প্রতিবারই আমরা
আগেকার আলোচনা, হাত-মেলানো ও পরিচিত হওয়া
স্রেফ ভুলে যাই
ক্রোধ
ঠিক যতটুকু জায়গা প্রয়োজন কাঁধের জন্য, শুধু ততটুকু জায়গা নিয়ে হাঁটি— ঝুঁকে পড়া মাথা আর শব্দহীন পদক্ষেপে। এই যে তুমি আসছো ঘৃণা, লোভ, অপ্রেম, হিংস্রতার খিদে নিয়ে— আমি তোমার জন্য পথ ছেড়ে দিই। তোমার আগুনে মুখ গহবরটি সযত্ন সতর্কতায় এড়িয়ে আমি বিপন্ন পথটির রেখা আঁকি মানচিত্রে। তোমার দিগবিজয়ের পথে তুমি গিলে খাচ্ছ মানুষ, পোড়াচ্ছো হাওয়া ও সাগর, লাভা উদগীরণ করছো সবুজ শস্যভূমে! এইসব আমি মেনেই নিয়েছি প্রতিরোধ-প্রতিবাদহীন। তবুও দিনশেষে তোমার জন্য আমার করুণা হয়। জানো তো, লোকে করুণাকেই অক্ষমের ক্রোধ বলে থাকে!
মানুষ
মানুষ চিড়িয়াকে খাঁচা-শিকের ভেতরে পুরে বাইরে নাম ঝুলিয়ে দিয়েছে— চন্দনা, চিতা, চিত্রা-হরিণ। উদ্যানে গাছের গায়ে পেরেকে সেঁটে দিয়েছে টিনের নেমপ্লেট— জারুল, জবা, জামরুল। যাতে করে এসবের নাম ধরে চেনা সহজ হয়। মানুষ নীহারিকাকে নীহারিকা, নদীকে নদী, আগুনকে আগুন, কাঁচকে কাঁচ, রোদকে রোদ আর হাওয়াকে হাওয়া নাম দিয়েছে। মানুষের ঠিক করা নামে মানুষ তাবৎ কিছুকে ডাকে। হায়, মানুষ কেবল নিজ নামে নিজেকে ডাকতে পারে না!























