বিদ্রোহীদের হামলায় সুদানে নিহত ২৭

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : আগস্ট ২৬, ২০২৬

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ সাউথ কর্দোফানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় ৪ শিশুসহ ২৭ জন নিহত হয়েছে বলে মঙ্গলবার বিবৃতিতে জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক।

বিবৃতিতে বলা হয়, আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর সঙ্গে জোটবদ্ধ সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্দান (এসপিএলএম-এন) এ হত্যাকাণ্ড চালায়। সাউথ কর্দোফানের কুরদুদ ও আবু হামামা এলাকায় বসবাসকারী ওতোরো সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর এসব হামলা চালানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার পর বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আবু হিতান ও কাদুগলি এলাকায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

চলতি বছরের শুরুতে এসপিএলএম-এন-সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও ওতোরো সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের পর নতুন করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটল। সাউথ কর্দোফানের নুবা পর্বতমালা এলাকায় ওতোরো একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। জমি নিয়ে বিরোধ থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার সূত্রপাত।

জাতিগত এই সংঘাত সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। এরই মধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি হয়েছে।

বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধে এসপিএলএম-এনের নেতৃত্বের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলমান সুদানের গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয় এবং প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সুদানে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বর্তমানে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সূত্র: আল জাজিরা