বিনয় মজুমদার: কবিতার বোধিবৃক্ষ

শেষ পর্ব

মলয় রায়চৌধুরী

প্রকাশিত : অক্টোবর ১২, ২০১৯

১৬.
বিনয় মজুমদার কয়টি নাটক লিখেছিলেন, জানি না। ‘ধূসর জীবনানন্দ’ গ্রন্থে একটি নাটক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ১৯৯৫ সালের লেখা। নাটকটির নাম ‘আপনারা হাসুন’। বইটি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল, যে বছর উনি মারা যান। তার মানে আর কোনো নাটক সম্ভবত উনি লেখেননি। রচনাটিকে আমি নাটক বলছি, কেননা বিনয় মজুমদার একটি মঞ্চ কল্পনা করেছেন। আসল যে ব্যাপারটি তিনি ঘটিয়েছেন তা হলো, মঞ্চের মাঝখানে নাটকের প্রমটারকে একটি চেয়ারে বসিয়ে রেখেছেন, যার হাতে একটি গ্রন্থ, যখন কিনা প্রমটার উইংসের আড়ালে থাকেন এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যাতে সংলাপ ভুলে না যান তাই আড়াল থেকে সংলাপ প্রমট করেন, দর্শকরা তাকে কখনও দেখতে পান না। ওই চেয়ারটি ছাড়া মঞ্চে আর কোনো আসবাব নেই। শাড়ি-ব্লাউজ পরা নামহীন তিনজন সুন্দরী নারী আছে মঞ্চে, যাদের কোনো সংলাপ নেই। বিনয় হয়তো বলতে চেয়েছেন, নারীদের প্রমট করার প্রয়োজন হয় না এবং তারা অযথা সংলাপ খরচ না করে ঘটনাবলির প্রতি নজর রাখে। প্রমটারও নামহীন।

তিনজন পুরুষ আছে মঞ্চে। তারা প্রমটার যে সংলাপ বলে তার পুনরুক্তি করে। প্রমটার মাঝে-মাঝে সেই চরিত্রগুলোর নাম নিয়ে আদেশ করে, অমুক এবার তুমি বলো, অথবা তমুক এবার তুমি বলো, ইত্যাদি। পুরুষ চরিত্রগুলোর নাম হলো:
এক. পিঙ্গুহুয়া: পাজামা পরা অভিনেতার বাংলা নাম কাহালি।
দুই. টিরিনচাগা: প্যান্ট পরা অভিনেতার বাংলা নাম বুদ্ধ।
তিন. গেঞ্জি পরা অভিনেতার বাংলা নাম দীপক।

চরিত্রগুলোর নামকরণে গণিতের খেলা আছে কিনা তা ডিকোড করা দুরূহ। বিনয় মজুমদার মূলত একজন কবি ও গণিতজ্ঞ, তাই নাটকটির বাস্তবতাকে পাশে সরিয়ে তাকে মেটাফর হিসাবে ব্যাখ্যা করার প্রলোভন হয়। সংলাপগুলোতেও রহস্য বুনেছেন বিনয় কিন্তু তার মাধ্যমে চরিত্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। ফলে মঞ্চটাকে মনে হয়, সমাজের একটি সামগ্রিক মানসিক স্থিতি। চরিত্রগুলো মঞ্চের কারাগারে আটক, তারা প্রমটারের সংলাপ আউড়িয়ে জীবনযাপন করতে বাধ্য। তারা নিজের মনের কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি। অতএব মঞ্চটি অথবা এই জগৎ-সংসারটিকে একটি আবদ্ধ জায়গায় আটক থাকার গারদ বলে অনুমান করা যায়। কিন্তু প্রমটার লোকটি তার কাজের মাধ্যমে চরিত্রগুলোকে নিয়ে একটি ন্যারেটিভ গড়ে তুলতে অসমর্থ।

নাটকটির সংলাপের পুনরুক্তির পর পুনরক্তি থেকে আঁচ করা যায় যে, বিনয় মজুমদার একটি বাধ্যবাধকতার ও সীমাবদ্ধতার দমবন্ধকর পরিসরকে আগাম অনুমান করতে পেরেছিলেন, যাকে নিয়ন্ত্রণ করছে অন্ধকার ও ক্ষতিকর ক্ষমতাগুলো। সেই নিমিত্তবাদকে গড়ে তুলেছে একটি নিষ্ঠুরতা যার মুখোমুখি হতে মানবসমাজ বাধ্য। এখানে উল্লেখ্য যে, বিনয় মজুমদার যখন এই নাটকটি লেখেন তখন বামপন্হী ভাবধারায় প্রভাবিত গ্রুপ থিয়েটারগুলোর রমরমা চলছে। তাছাড়া বিনয়ের নিবন্ধগুলোয় ‘নবান্ন’, ‘ছেঁড়া তার’, ‘উলুখাগড়া’ ইত্যাদি নাটকের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীরাও তাঁকে নাটক বা গ্রুপ থিয়েটার সম্পর্কে প্রশ্ন করেননি। হয়তো তারা জানতেন না যে, বিনয় ১৯৯৫ সালে একটি নাটকও লিখেছেন।

বিনয় তাঁর নাটকটির মাধ্যমে সে-সময়ের নাটক-সংস্কৃতিকে তুলোধনা করেছেন। গ্রুপ থেয়েটার তখন ক্রমশ জীবাশ্ম হয়ে উঠছিল, জীবনের বুনিয়াদি প্রশ্নাবলি থেকে সরে গিয়ে র‌্যালিতে মজে যাচ্ছিল, দারিদ্র্যকে গৌরবান্বিত করা আরম্ভ করেছিল, যাকে বলা যায় এক ধরনের বামপন্হী এলিটিজম, নানা জারগণের ধুমধাড়াক্কা। থিয়েটার ক্রমশ হয়ে পড়ছিল লিখিত নাটকের চাকর। বিনয় তাই প্রমটারটিকে নিয়ে এলেন চাকরের ভূমিকায়, যে আবার একই সঙ্গে প্রভূত্ব করে। প্রমটার খোলাখুলি দেখিয়ে দিচ্ছে, যেগুলোকে নাটকের মাস্টারপিস মনে করা হয়, গ্রুপ থিয়েটারের সেই সব ভাষাপ্রবৃত্তির কোনো স্থান আর বাঙালিসমাজে নেই। তারা বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অক্ষম। তারা কেবল ব্যক্তি-বিশেষেরর মামুলি সমস্যাকে মানসিক সমস্যা বলে উপস্থাপন করতে চেয়েছে।

মানসিক সমস্যা বলতে যে ঠিক কী বোঝায়, তা বিনয় মজুমদারের চেয়ে ভালো আর কেউ জানতেন না বাংলা সাহিত্যের জগতে। ১৯৯৮ সালে বিনয় মজুমদারের চল্লিশটি ন্যারেটিভ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল ‘বিনয় মজুমদারের ছোটগল্প’। ছোটগল্পের সংজ্ঞা অনুযায়ী এগুলো ছোটোগল্প নয়, কোনো গদ্যেই সেই হুইপক্র্যাক এনডিং এবং ব্যক্তি-এককের সমস্যা নেই। ন্যারেটিভগুলো শিমুলপুরে বিভিন্ন গ্রামবাসীর সঙ্গে বিনয়ের কথোপকথন, বিনয়ের দিনপঞ্জিমূলক কবিতাগুলো গদ্যে রূপান্তরিত। এগুলোকে বলা যায় ‘গল্পহীন গল্প’। বাংলা ভাষায় গল্পহীন গল্প বিনয়ই সম্ভবত প্রথম লিখেছেন। বড়ো ও ছোটো আইডিয়াগুলোকে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন বিনয়; ঠাকুরনগরের মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন সেই আইডিয়াগুলোকে।

চল্লিশটি গদ্যকে যদি ঘটনা অনুযায়ী জুড়ে একটি দীর্ঘ গদ্য তৈরি করা হয়, তাহলে বিনয়ের সেই সময়ের জীবনযাপন ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে একটি ন্যারেটিভ গড়ে উঠবে; সেগুলোকে বলা যায় গল্প সম্পর্কে গল্প। গদ্যগুলো দিয়ে ন্যারেটিভের নদী তৈরি করেছেন বিনয়, প্রতিটি গদ্য পৃথকভাবে তার শাখানদী। আর প্রতিটি শাখানদী তার সংলাপপ্রবাহে লুকিয়ে রেখেছে একটি বার্তা। গদ্যগুলো জুড়ে একটা দীর্ঘ পাঠবস্তু তৈরি করলেও তা মেটাফিকশান হবে না । গদ্যগুলো গতানুগতিক গল্পের মতন ফরমুলাচালিত নয়। ফরমুলানির্ভর গল্প ক্রমশ একটি সমস্যা উপস্থাপন করে এবং শেষে গিয়ে তার সমাধান ঘটে। বিনয়, যিনি একজন গণিতবিদ, তিনি প্রতিটি গদ্যে ওই ফরমুলাতেই অন্তর্ঘাত ঘটিয়ে দিলেন। ফরমুলা-নির্ভর গল্প রচিত হয় বাজারের কথা ভেবে এবং সেটি একটি মার্কেটেবল প্রডাক্ট— বাস্তব হোক বা কাল্পনিক। চিরাচরিত কাহিনি-প্রণালিকে চ্যালেঞ্জ করলেন প্রণালিহীনতার দ্বারা। প্রথানুগত গল্পের মতন কোনো বাঁধাধরা আরম্ভ ঘটান না, সংলাপ দিয়ে আরম্ভ করেন, এবং পাঠককে তিনি কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন তা পাঠক সেই সংলাপগুলোকে অনুসরণ করার পর টের পায়; বহুক্ষেত্রে তিনি পাঠককে কোথাও নিয়ে গিয়ে মাঝপথে ছেড়ে দেন, যাতে বাকি পথটা পাঠক নিজেই নির্ণয় নিয়ে এগোতে পারে। তাতে কিন্তু ফরমুলা গল্পের নাটক জোড়েন না বিনয়। সংলাপের আঙ্গিকটি অনেক সময়ে এমনভাবে উপস্থাপিত হয় যে, বোঝা যায় বিনয় নিজেই বিরুদ্ধ-যুক্তি-প্রদর্শক কিংবা মূল প্রতর্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন, যাতে যার সঙ্গে বিনয় কথা বলছেন তাকে ছোটো করা না হয়।

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় যাকে বলতেন ‘না-গল্প’, বিনয়ের ন্যারেটিভগুলো তা নয়, অর্ক দত্ত বকসী যাকে বলছেন ‘প্রগল্প’, তাও নয়, এবং অর্ক চট্টোপাধ্যায় যাকে বলেছেন ‘গল্পনা’ তাও নয়। বিনয়ের গল্পগুলোর উপসংহার এবং ক্যাথারসিস ঘটে কাহিনিটি ফুরিয়ে যাবার পর অন্য কোথাও । ঠাকুরনগরের একজন বা কয়েকজনের সঙ্গে কোনো একটি বিষয়ে আলোচনা আরম্ভ করেন বিনয়, এবং তা বিনয় নামেই করেন। সেই আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে যুক্তি, শ্লেষ, বিদ্রূপ, ব্যাজস্তুতি, হাস্যরস, বৈজ্ঞানিক-তর্ক, সরল গণিত, ব্যঙ্গ, আমোদ, ঠাট্টা, কৌতুক, গভীর জ্ঞান, প্ররোচনা ইত্যাদির মাধ্যমে শ্রোতার মনে শেষ পর্যন্ত প্রত্যয় উৎপাদন করেন তিনি। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে সমাজের বিরুদ্ধে আক্রমণ আছে, এবং সেগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি যেন ব্যাপারগুলো স্বাভাবিক।

কোনো-কোনো প্রতর্ক তাঁর কবিতাতেও আছে। প্রায় প্রতিদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিতর্কিত বিষয়ের আলোচনা করে বিনয় মজুমদার, যাকে গ্রামের মানুষ জানে একজন বিখ্যাত কবি হিসাবে, পারস্পরিক হায়ারারকি ভেঙে ফেলেছেন। ‘মনা আজ এসেছিল আমার কাছে…’ গল্পটিতে তিনি মনে নামের ছেলেটিকে বলছেন, “দ্যাখো, আমিই চাঁদ নিয়ে কবিতা লিখেছি, ‘চাঁদের গুহার দিকে নির্নিমেষ চেয়ে থাকি…’, যা তাঁর ‘বাল্মীকির কবিতা”র লাইন, এবং কথা প্রসঙ্গে পাঠককে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, তাঁর কাছে বইটির গুরুত্ব আছে। গল্পটিতে তিনি গণিতবিদ ও ইঞ্জিয়ার লেওনার্দো দা ভিঞ্চির সঙ্গে নিজের তুলনা করেছেন, লেওনার্দোর মতন তাঁরও অবিবাহিত থাকার প্রসঙ্গে এনেছেন, ‘মোনালিসা’ আঁকার কথা তুলেছেন, বলেছেন যে লেওনার্দোর মতন তিনিও ছবি এঁকেছেন সাহিত্যচর্চা করেছেন, কিন্তু একবারও গায়ত্রী প্রসঙ্গ আসেনি।

‘পরোপকারী’ গল্পে বিনয় হোটেল মালিক মিত্র মশায়কে বোঝাচ্ছেন যে, তিনি মুর্গির মাংস, পাঁঠার মাংস খাওয়াচ্ছেন খদ্দেরদের। মানুষেরা পাঁঠা পোষে, খাইয়ে দাইয়ে মোটা করে, তারপর তাকে কেটে খায়। কারণ মানুষ পাঁঠার চেয়ে অনেক উঁচুস্তরের জীব। তিনি প্রস্তাব দেন, মিত্র মশায় সেই তর্কে যদি মানুষের মাংস কেটে খদ্দেরদের খাওয়ান তাহলে একজন মানুষের মাংস খেয়ে আরেকজন মানুষ দেবতার পর্যায়ে উন্নীত হবে। মিত্র মশায় বলেন, বুঝেছি। বিনয় জানান, কলকাতায় তিনি নিজের চোখে দেখেছেন যে, মানুষের মাংস খাচ্ছে মানুষ, একবার নয়, অনেকবার। ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ নামের পাঠবস্তুটিতে খাদ্যবস্তু থেকে মানুষের দেহে মাংস তৈরি হবার কথা আরেকবার এসেছে। মিষ্টি বিক্রেতা মুকুন্দ বণিকের সঙ্গে বিনয়ের কথাবার্তা হয়। মুকুন্দ বণিক প্রতিদিন মানুষকে মিষ্টি বিক্রি করে তাদের দেহে মাংস তৈরি করে দিচ্ছে। তেমনই চাষিরাও মানুষের দেহে মাংস তৈরি করে। বিনয়ও বছরে আড়াই হাজার ডাব বেচে অন্তত আড়াইটে ডাবের সমান রক্ত তৈরি করে দেন মানুষের শরীরে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কিছুই করেন না, কেবল মুখে-মুখে গল্প মেরে বেড়ান। মুকুন্দ বণিককে বিনয় জানান, সেই জন্যই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ে অনেক উপরে। মুকুন্দ বণিক তর্কে বিশ্বাস করেন এবং বলেন যে, যত মন্ত্রী আছে, বিধানসভায় সদস্য আছে, রাজ্যপাল তারা মুকুন্দ বণিকের নিচেই। এই একই বিষয় ফিরে এসেছে ‘আমার চাষিভাইরা’ গদ্যে, যখন বিনয় দ্যাখেন যে রেলস্টেশনে মাইক বসিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছে স্থানীয় নেতা গোবিন্দ দেব। বিনয় মজুমদার সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন দেখে তাঁকেও বক্তৃতা দিতে বলা হয়, চাষিদের ধানের দাম, পাটের দাম বাড়ানোর জন্য। বিনয় একটি দীর্ঘ বক্তৃতা দেন এবং জানান যে, চাষিদের ফসল খেয়েই মানুষের দেহে বছর-বছর রক্তমাংস হয়, চাষিরা ভালো-লোক খারাপ-লোকের পার্থক্য করে না, তাদের ফসল সকলেই খায়, সেকারণে ধানের আর পাটের দাম বাড়ানো জরুরি।

শেষ গদ্যটিতে যুগপৎ অনেককে ঠোনা মেরেছেন বিনয় মজুমদার। গদ্যটির শিরোনাম ‘সম্রাট ষষ্ঠ জর্জ’। গদ্যটিতে বিনয় একজন সৃষ্টিকর্তা এবং তাঁর নির্দেশেই নানা ঘটনা ঘটে। ভারতের লোকে স্বাধীনতা চাইছে এবং ষষ্ঠ জর্জ পরামর্শ চাইছেন মেরির কাছে। উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মতিলাল নেহরু, করমচন্দ গান্ধিকে এক এক করে পেশ করা হলো সম্রাটের সামনে। তারা তিনজনেই জানালেন, এ হলো বিনয়দার লীলাখেলা, স্বাধীনতা দিতে হবেই। মনস্ত্বত্ববিদরা সম্রাটকে জানালো, এই ভারতীয়দের পরীক্ষা করে জানা গেছে, তারা মনোরোগী। সম্রাটের অমাত্য নিলসন জানতে চাইল, এদের চিকিৎসা কোথায় করা হবে, লণ্ডনে না অন্যত্র? সম্রাট আদেশ দিলেন, এই তিন যুবকের মনোরোগের চিকিৎসা করা হোক ভারতে— কলকাতায় মেডিকাল কলেজের এজরা ওয়ার্ডে।

বিনয় মজুমদারের ‘ছোটোগল্প’ নামের এই পাঠবস্তুগুলোকে বিদ্যায়তনিক ডিসকোর্সের বাইরে ঠেলে দেয়া হয়েছে অথচ মর্মার্থ ও সংলাপের এরকম বুননশৈলী আর কারো গদ্যে দেখা যায় না। সাধারণ মানুষ ও তাদের সংলাপ ব্যবহার করে বিনয় নির্মাণ করেছেন একটি দার্শনিক ভঙ্গী অথবা অভিগমন। গ্রামে জীবনযাপনের দরুণ তিনি জানেন, মানুষের জীবনে ভাষা একটি প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তা একজনের সঙ্গে আরেকজনের সহজ যোগাযোগের মাধ্যম, তা বাস্তবতাকে পালটে দিতে পারে, অভিজ্ঞতাকে আদল দিতে পারে। সংলাপ তখনই নিজস্ব হয়ে ওঠে যখন বক্তার মস্তিষ্কে সেই সংলাপের উদ্দেশ্য গাঁধা হয়ে যায়। সাধারণ মানুষগুলোর সঙ্গে কথা বলার সময়ে বিনয় খেয়াল রেখেছেন, গাম্ভীর্যের ভেতরে লুকোনো হাসাহাসি বুদ্ধির খেলাকে পরস্পরের মধ্যে জীবন্ত করে তোলে।

রচনাকাল:  জানুয়ারি–মার্চ ২০১৭

ধারাবাহিক