বিশ্বজুড় ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত: জাতিসংঘ

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জুন ১১, ২০২৬

বিশ্বজুড় অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) মানুষের নিজ দেশে ফেরার হার বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

পৃথিবীর প্রতি ৭০ জন মানুষের মধ্যে ১ জন নিজের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে লেবানন ও ইরানে চলমান সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষের মধ্যে:

    ৬ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ নিজ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত (আইডিপি)
    ২ কোটি ৮৫ লাখ শরণার্থী ইউএনএইচসিআরের আওতাভুক্ত
    ৯০ লাখ আশ্রয়প্রার্থী (অ্যাসাইলাম সিকার)
    ৭২ লাখ আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষ
    ৬০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্বের মোট শরণার্থীর প্রায় ৭২ শতাংশ এসেছে ৭টি দেশ থেকে:

    ভেনেজুয়েলা- ৬৪ লাখ
    ফিলিস্তিন- ৬০ লাখ
    ইউক্রেন- ৫২ লাখ
    সিরিয়া- ৪৯ লাখ
    আফগানিস্তান-৩৭ লাখ
    সুদান- ২৮ লাখ
    দক্ষিণ সুদান-২৪ লাখ

বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শরণার্থী ৭টি দেশে বসবাস করছে—

    কলম্বিয়া- ২৮ লাখ
    জার্মানি-২৭ লাখ
    তুরস্ক-২৪ লাখ
    উগান্ডা-১৯ লাখ
    ইরান- ১৭ লাখ
    চাদ-১৫ লাখ
    পাকিস্তান-১৩ লাখ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন এমন প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ নিজ দেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতেই আশ্রয় নিয়েছে। যেমন, ইরান ও পাকিস্তানে থাকা প্রায় সব শরণার্থীই আফগান, আর তুরস্কে থাকা অধিকাংশ শরণার্থী সিরীয়।

অন্যদিকে, কলম্বিয়ায় বেশির ভাগ শরণার্থী ভেনেজুয়েলা থেকে আসা, আর জার্মানিতে ইউক্রেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের সংখ্যা বেশি। সূত্র: আল জাজিরা