মাসুদ খানের ৩ ছড়া
প্রকাশিত : অক্টোবর ১৬, ২০১৮
আকাশ ও পৃথিবী
আকাশ পাঠায় আলো হাওয়া
আর বৃষ্টিজল
এমন দারুণ তোফা পেয়ে
ফুল্ল ভূমণ্ডল।
মাটি-মা দেয় স্তন্যতরল
গাছকে, মাঠে বনে
পাতায় পাতায় আলোক মাতে
সালোক-সংশ্লেষণে।
গাছেরা সব বাড়তে থাকে
বেশ, জ্যামিতিক হারে
দেখতে দেখতে শস্যশোভা
খেতে ও খামারে।
প্রেম করেছে আকাশ-মাটি
গভীর সে-প্রেমখানি
আমরা তো সব ক্ষুদ্র প্রাণী
কতই বা তার জানি!
তাদের প্রেমের প্রসূণরূপে
ফুল-ফল-বীজ ফোটে
সেই সুবাদে সেই শস্যে
সবার আহার জোটে।
শিশুদের বিশ্ব
সবাই মিলে অকারণে
হাসি খিলখিলিয়ে
এমনি-এমনি ঝগড়া করি
তুচ্ছ জিনিশ নিয়ে।
সব কিছুতে সব বিষয়ে
অপার কৌতূহল
স্বভাবে তাই আমরা সদাই
অশান্ত চঞ্চল।
প্রাণ যখনই উপচে পড়ে
করি দস্যিপনা
আমরা শিশু এরকমই—
জানে জগৎজনা।
আমরা ভেঙে গড়তে জানি
পড়তে গেলে ধরতে জানি
সবারই মন পড়তে জানি
সবই শেয়ার করতে জানি।
আমরা ভালোবাসতে জানি
ভূবনমোহন হাসতে জানি
সদানন্দ থাকতে জানি
সব-কে খুশি রাখতে জানি।
সবার আগে জাগতে জানি
আমরা স্বপ্ন আঁকতে জানি।
ভবিষ্যৎও গুনতে জানি
নতুন আশা বুনতে জানি
বাধ্য হলে লড়তে জানি
আমরা সবই করতে জানি।
স্কুলের মাঠে রাস্তাঘাটে
ঘরে বাইরে বুক-ফেয়ারে
যেখানে যাই আমরা বানাই
স্নিগ্ধ শান্তিশহর।
শুধু একবার দিয়েই দেখো
ছায়া দিয়ে সহায় থেকো
পাল্টে দেব দুনিয়াটাকে
কয়েক মাসের ভেতর।
আনন্দ-ঢেউ
ছুটছে পিছে গাঙফড়িঙের,
তিনটি খুদে বালক
তাদের পিছে আসছে উড়ে
তিনটি রঙিন পালক।
কাঁচামিঠা পুবালি রোদ,
রোদের পিছে হাওয়া
সেই হাওয়াতে তিন পালকের
পলকা পানশি বাওয়া...
ওদের দেখে শিমুল তুলাও
আসছে উড়ে উড়ে
আনন্দ-ঢেউ দিগ্বিদিকে
উপত্যকা জুড়ে।
কলাবতীর ছোট্ট শিশু
সেও যেতে চায় ধেয়ে
কিন্তু সে যে আটকে আছে
শেকড়বাকড় দিয়ে।
কী করবে আর! বিষাদ-মনে
রোদ্দুরে স্নান সেরে
দুঃখ চেপে দেয় সাড়া সে
পাতা নেড়ে নেড়ে।























