চিত্রকর্ম: কবি ও চিত্রশিল্পী জহির হাসান
মিছিল খন্দকারের কবিতা ‘সীসাকাল’
প্রকাশিত : মে ১০, ২০২০
সীসারকালে সমস্ত এই
অন্ধকারে উলটে পড়ে
তাদের পাথর পড়ল এসে
আমার শান্ত কাচের ঘরে।
তাতেই দিনটা পালটে গেলো
ঘুমের মধ্যে দিই ডিগবাজি
আদার ক্ষেতের কাকতাড়ুয়া
খবর রাখি রোজ জাহাজি।
নদীর পাড়ায় মাছের ঘরে
ঘুরতে আসা কুমিরছানা
তিনশো বছর থাকব ভেসে
কান্না এলে ধরব গানা।
চাঁদের তীব্র ব্যথার নিচে
ঘুমিয়ে পড়ুক পাহাড় ঢুলে
পানির জন্য অপেক্ষারা
শুকায় ব্যর্থ নদীর কূলে।
রৌদ্র আসেন ভাদ্রমাসের
আড়ায় দুলছে কজন তারা
পথের ধুলায় অনন্তকাল
তাওতো যেন এক ইশারা।
গরুর পিঠের কুঁজের ওপর
মাছির গানের অপর পাড়ে
তাকিয়ে থাকার পবন এলো
নিকট বাড়ির নাচদুয়ারে।
সারাটা পথ সমুদ্রডাক
যাত্রাসঙ্গী শাওনধারা
দুয়েকটা স্বর- মাথার মাচায়
ডাকের আগেই দিচ্ছে সাড়া।
নামতে গেলে—ঊরুসন্ধি
খামছে ধরছে আঙুলনখে
মাঠের মধ্যে দুইটা শরীর
সেলাই হচ্ছে জোৎস্নালোকে।
আচমকা দেশ ভুলতে কাদা
অচিন পাড়ের ঢেউ ঝাপটে
তামার শরীর ঝনঝনালো
ভিন্ন গ্রহের পাখির ঠোঁটে।
দরজা খোলো দরজা খোলো
নয় প্রহরী সদর দ্বারে
তোমার ক্ষুব্ধ পেট বরাবর
ট্রিগার টেপে অন্ধকারে।
থাকছে কিছু রক্তলাগা?
গুম হলো যার জিহবা-আঙুল,
রেকর্ড করা গোপনগুলো
বসুক এবার পেতেছি টুল।
ডাকতে গেলাম সন্ধ্যাজুড়ে
রাখতে চাওয়া কথার ছুরি
মরার পরের শুন্য দেশে
নিজেই নিজের কবর খুঁড়ি।
আর ধরি গান, ও গাছ-বাজান
খাড়ায় থাকার নরক পাড়ে
আঁচড়ে দিতে যমের মাথা
চিরুনি হোক আমার হাড়ে।
চলতি পথে হে নিরাকার
ডাকতে আসো তোমার বাড়ি
গাছের মাথার ফলের জন্য
ধরে গাছের কোমর নাড়ি।
চতুর্দিকের নানান কথা
ভাসছে নিজের অন্তরালে,
আজকে তোমার জন্ম হলো
হাঁটতে থাকো অতীতকালে।























