মিয়ানমারে বিয়ে ও দোয়া মাহফিলে জান্তার বিমান হামলা, নিহত ২৭
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জানুয়ারি ২৪, ২০২৬
মিয়ানমারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ও একটি দোয়া মাহফিলকে লক্ষ্য করে পৃথক বিমান হামলা চালিয়েছে সামরিক জান্তা বাহিনী। হামলায় শিশু ও নারীসহ বেসামরিক ২৭ নাগরিক নিহত হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা এ তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপের কাউং জার গ্রামে একটি দোয়া অনুষ্ঠানে বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। দোয়া অনুষ্ঠানে হামলা নিয়ে বিদ্রোহী কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) জানায়, এতে ২২ জন শোকাহত মানুষ নিহত ও শিশুসহ অন্তত ২৮ জন আহত হয়।
গ্রামটি বাস্তুচ্যুত যুদ্ধাহত পরিবারদের আশ্রয়স্থল এবং ইরাবতী নদীর অপর পাশে ভামো শহরের কাছাকাছি অবস্থিত। গ্রামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পরদিন দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতির জন্য একটি বাড়ির আঙিনায় জড়ো হয়েছিল মানুষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে বাড়ির ভেতর ও আঙিনায় নারী-পুরুষের লাশ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে, যাদের কয়েকজনের শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত।
কেআইএ মুখপাত্র কর্নেল নও বু বলেন, “ওই গ্রামে কেআইএর কোনো অবস্থান বা সদস্য ছিল না। জান্তা বাহিনী জেনেশুনেই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তারা শত্রু আর সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। স্কুলসহ যে কোনো ভিড়েই তারা বোমা ফেলছে।”
এর আগে, একই দিনে মাগওয়ে অঞ্চলের আউংলান টাউনশিপের তাট কোনে গ্রামে একটি বিয়ের প্রস্তুতিতে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন আউংলান ইনফরমেশন গ্রুপ জানায়, এতে ১ শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাখাইন রাজ্যে কিয়াউকতাও ও পন্নাগিউন টাউনশিপ সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি পরিচালিত একটি কারাগারেও বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। এতে আটক থাকা ২১ জান্তা সেনা ও তাদের স্বজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়। সূত্র: দ্য ইরাবতী
























