যৌবনের লাল দাগ
আবু তাহের সরফরাজপ্রকাশিত : এপ্রিল ১১, ২০১৮
যৌবনের লাল দাগ
এক.
যৌবনের লাল দাগ
স্নিগ্ধতার আনন্দ মনে হলো
নির্জন চাঁদের এই রাতে
তাই চাঁদের শরীরে দাগ।
দুই.
যৌবন থাকে বার্ধক্যের ঠিক ওপরে
বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মাঝখানে যতটুকু সময়
ততটুকু দূরত্বে
মুহূর্তেই ঘুচে যেতে পারে এই দূরত্ব!
যৌবন
যৌবন তোর নাকের ডগায় বিন্দু বিন্দু ঘাম
নক্ষত্রের চূর্ণ যেমন, বিস্ময়ে দেখলাম,
ছিপছিপে তোর সুঠাম শরীর শীত-কুয়াশায় কাঁপে
তলোয়ার কি আছে ঢাকা যৌনসীমার খাপে?
যৌবন তোর লাল নদীটার রক্ত ছলাৎ ঢেউ
আছড়ে পড়ে তীর বরাবর, বাঁধ মানে না সেও।
বাঁধ যেন তার ব্যক্তিগত দেহের সংস্কার
বাঁশবাগানে জ্যোছনার ঢেউ বাইরে অন্ধকার।
দ্বার খোলো হে ঝিনুকমালা খোলো দেহের ভাঁজ
বুক ধুকপুক মুক্তার শ্বাস লুট হবে গো আজ।
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ ছায়া চাঁদের বিপরীতে
দুই শরীরের উত্তাপে চাঁদ তাপ ছড়াবে শীতে।
যৌবন তোর নুন-সাগরের তীরে জ্যোছনার মাঠ
লাঙল চষে মুগ্ধ কৃষক, কাঁপছে বাঁশের খাট।
বাঁশবাগানের মাথার ওপর চাঁদ উঠেছে ওই
আয় তো আমার দেহের ভেতর, আরও একক হই।
যৌবন তোর জায়নামাজে সেজদায় পড়ে দেহ
নামাজির ধ্যান পারলৌকিক, মনে তবু সন্দেহ।
বুকপকেটে হৃদয় কাঁপে, শব্দ কাঁপে বাক্যে
অক্ষরে লাল যৌবন তুই কল্পনাতেই থাক গে।
যৌবন তোর লাল মলাটের বইতে লিখেছি পদ্য
কেউ পড়ে কয়, অশ্লীল খুব, কেউ বলে অনবদ্য।
কুয়াশার নিচে
কুয়াশার নিচে ডুবে গেছে এই
পৃথিবীর বন্দর
হাঁটতেছি একা, খুলে রাখো হে
কুয়াশার অন্দর।
কুয়াশার ঘরে ঘুমিয়ে আছে সে
চোখ খোলা, তবু
শীতরাত শেষে ঝলমলে আলো
সূর্য ওঠান প্রভু।
জাদুকর যেন, ঘুম ভেঙে দ্যাখে,
নিঃসীম শূন্যতা
ঘিরে আছে তার দেহকোষ আর
শেকড়ের পূর্ণতা।
আদি আর শেষ মূলত সে এক
মাঝখানে যা, তা ফাঁকা
ক্রোমোজম কোষে নানা সংকেতে
সবই তা রয়েছে আঁকা।
ফাঁকা সময়ের হেঁয়ালি ধোঁকায়
পঞ্চভূতের দেহ
পাঁচভূতে খায়, বাকি না দেনায়?
মন করে সন্দেহ।
মনকে আজি কহ যে,
ভালোমন্দ যাহাই আসুক
সত্য রে লও সহজে।
তোদের বলি, থাম
তোদের বলি, থাম
ফাল্গুনে যে আগুন লাগায়
তাকে পাঠালাম।
তেপান্তরে ছুটছে সে ওই
চাদ্দিকে রব, মাভৈ মাভৈ
আরবীয় ঘোড়ার হ্রেষা
শুনতেছে আর ধরছে নেশা
পায়ের নিচে ভাঙছে পাথর
ধরিত্রী মা হচ্ছে কাতর
ছুটছে তবু চক্রনিধি
সময় ভেঙে সময়বিধি
হঠাৎ দ্যাখে, সামনে একি
সবুজ সবুজ একটা দিঘি
দিঘির জলে ভাসতেছে ডিম
বুদবুদে প্রাণ, কাঁপতেছে হিম
ডিমের ভেতর বিস্ফোরিত
প্রাণ কি তবে সংক্রমিত?
ভাবনা এলো যবে
দেখি, সকাল হবে হবে
সূর্য¯œানে যেতে যেতে তোদের বলি, থাম
ফাল্গুনে যে আগুন লাগায় তাকে পাঠালাম।
সে চন্দ্রাহত প্রাণ
রাতবিরেতে গেয়ে ওঠে
নৈঃশব্দ্যের গান।
ভবে ঘুঘুপাখি ডাকে
সে এই ছবিটা আঁকে
হঠাৎ দ্যাখে ছবির ভেতর
একটা মানুষ হচ্ছে কাতর
চাদ্দিকে তার সূর্যজাগা ভোর
নানা রঙের ঘরগেরস্তি ওর।
আরও কয়েকটি নিঃশ্বাসের জন্যে
বেশি তেমন কিছু নেই যা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি
ঝিরঝির বিষটি দেখতে দেখতে
একটি কবিতা লিখতে লিখতে
কেউ কেউ তো বেঁচে থাকতেই পারে
চারদিকে মানুষের কোলাহল
ত্রস্ত নীলিমার নিচে ভেঙে পড়ে চারিত্রিক খুঁটি
মানুষ হাসে
দাঁতগুলো ধারালো, আর মুখের ভেতর থেকে
ছুটে বেরিয়ে আসতে থাকে কথার বাণ
মানুষ পুলসিরাত পেরোচ্ছে
অথচ মানুষ বুঝতেও পারছে না জন্ম আর মৃত্যুর মাঝখানে
বাঁশের নড়বড়ে একটা সাঁকোর ওপর সে দাঁড়িয়ে আছে
অথচ দ্যাখো, কী লাফালাফিটাই না সে করছে
আরও কয়েকটি নিঃশ্বাসের জন্যে মানুষ চোখের রঙও বেচে দিচ্ছে।
এমনও দিনে চলে যাওয়া ভালো
যাচ্ছি তবে, যাই
পেছনে সবুজ সবুজ গ্রাম, গাছপালা
বিজন নদীর ওপর মরাপাতা...
যুবক দাঁড়িয়ে আছে চেনা কোনও যুবতীর মুখে
থুতু ছুঁড়বে বলে
যুবতী দাঁড়িয়ে আছে চেনা কোনও যুবককে
ভেলকি দ্যাখাবে বলে
কাক চিল আর শকুনের মতো
উঠে দাঁড়াচ্ছে কৃষি-সন্তানেরা
সার দিয়ে বের হয়ে আসছে শিল্প-সন্তানেরা
কারখানার ধোঁয়া বন্ধ হয়ে গেছে
ঘুঙুর হাতে মেয়েটি ভাবছে, নাচবে না এই দৃশ্য দেখবে
এইভাবে চলে যাওয়া সহজ, বলোনি তো হে
আহা, নরম রোদের দিন
হাওয়ার জীবন
এমনও দিনে তবে চলে যাওয়া ভালো
শুনুন, যাচ্ছি তবে।























