রওশন আরা মুক্তার একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : আগস্ট ২৩, ২০১৮
জ্বিন
সত্যি, যে কেউ যেকোনো দিন মরে
যেতে পারে
এয়ারপোর্ট রোডে দ্রুতগতির
ট্রাকের নিচে—
গাড়িতে অথবা উদাসীন হেঁটে
বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে
বিদ্যালয়ে, মসজিদে বোমা-বন্দুকে
কত রকম মৃত্যুপথ যে নিজহাতে
তৈরি মনুষ্য তল্লাটে!
কিন্তু যে তুমি অন্য মানুষটা
হয়ে গেলে যে তারপরে—
লাশটা তো তোমারই ওরা শোয়াবে কবরে।
ফ্রিজ
গ্রামের একটা মেয়ে শহরে খালার
বাসায় বেড়াতে গিয়ে ফ্রিজে পানি
রাখলে বরফ হয়ে যায় এমন এক
ম্যাজিক দেখলো।
ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা বরফ আর বাষ্পজমা পানি।
গ্রামে ফিরে গিয়ে গ্লাসভর্তি পানি রেখে এলো খাটের তলায়,
তার ধারণা চোখের আড়ালে রাখলেই পানি বরফ হয়ে যায়!
সে জানতও না কত পদার্থ বিজ্ঞান,
কত ক্যালকুলেশন আর কতই না রসায়ন এই ম্যাজিকে।
বড় হয়ে যখন জানলো ম্যাজিকের যন্ত্র কিনতে পাওয়া যায়
তখন সে জানতো না কত না অর্থনীতি কত না রাজস্বনীতি আর কত না হিসাববিজ্ঞান মিশে আছে সেই ম্যাজিকে।
সে আর কিছুই ভাবে না।
ফ্রিজ তার জন্য নয়।
সে বরফ ও ঠাণ্ডা পানি খাবে না।
২৪-০৪-১৪
রাস্তায়
দেয়ালহীন একটা ঘরে দরজায়
তালা দিয়ে বসে আছি
হাতের পাতায় তোমার চুল চোখ
ঠোঁট
আমি না, আমাকে পেরিয়ে যাচ্ছে
রাস্তা
পেরিয়ে যাচ্ছে সড়ক বিভাজনী,
গাছ ঘাস
রাজনৈতিক পোস্টার
আমি না
রাস্তার রেলিং, ট্রাফিক পুলিশ,
পুলিশ ফাঁড়ি
শাহবাগ থেকে শাপলা চত্বর সব
পেরিয়ে যাচ্ছে আমাকে
ভাষা, বোধ, কাব্য, আমি না
আমাকে পেরিয়ে যাচ্ছে
দু`হাতে, অনেক অনেক... অনেক
সাধ করে ধরে আছি
তোমার মুখ
আর চিনতে পারছি না
সন্ধ্যার আকাশ থেকে খসে পড়ছে
তারা
খসে পড়ছে আলো
খুলে যাচ্ছে হাড্ডি থেকে মাংস
হাতের মুঠোয় তোমার মুখ
আমি আর ঘরে নেই
জুন ২০১৫
শোকবার্তা
রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা যায় বাংলাদেশ
থেকে অ্যামেরিকা
এদিকে বাংলাদেশের জন্য থাকে
অপার সম্ভাবনাময় গুম।
চোখহীন সরকার আর টর্চহীন
সেনাবাহিনী
জনগণ ব্যস্ত ‘গণহত্যার’ সংজ্ঞা
নিয়ে—
তারপরও লাল-নীল উৎসব বাতি
জ্বলে ওঠে
নগরের সড়কে সড়কে…
একটা জানলাবিহীন অন্ধকার রাত
ভোর হয় না
সহস্র মৃত্যুর বদলে একটি প্রাণ
এর নাম বাংলাদেশী শোকবার্তা।
১১ মে ২০১৩























