রওশন আরা মুক্তার চারটি কবিতা
প্রকাশিত : অক্টোবর ২৬, ২০১৭
ক্যু
বছরের প্রথম তুষারপাতকে এক মুহুর্তের জন্য থামিয়ে দিয়ে
আমাকে ডেকে নিলে তুমি
আমার জ্বর হলো, ঘোর হলো
আমাকে সত্যবাদ আর নীতিবি্দ্যার ব্যারাম পেলো
তোমার দেশেও সব শেষ হয়ে যায়
তোমার দেশেও হয় ক্যু
সবজীর দোকানের ঝুড়িতে ঝুড়িতে মানুষের মাথার খুলি
তোমার বাবা চুপ করে ছিল
তোমার বাবা চুপ করে ছিল
তুমি নারীর মতো পুরাতন বান্ধবীর মতন
স্পর্শ করে রাখো আমার শরীর
বছরের প্রথম তুষারপাতের দিনে
তোমাকে অভিনন্দন।
কেয়ামত
একটুখানি পরেই সবুজ হয়ে যাবে নাকি সব
একটুখানিক পর আসবে না নাকি সন্ধ্যার আন্ধার
আসর হইতে মাগরিবের ওয়াক্ত
আর তো আসবে না আর
পরতের পর পরত মিশাইয়া দিয়া
কী বানাইলা তুমি বেহেশত দোজখ!
আসমানের উপর আসমান বসাইয়া দিয়া
লেইখা রাখলা মানুষের কপালে কী এক দুনিয়া
এইবার আমি মরেই যাব হাতখানি ধরতে না পারলে
একটু যদি না দেখি চেহারা
একবারও যদি না ফেলি আবার চোখের পানি
আর একটিবার রক্তের ভিতর রক্তের তাপ না গুলাইলে
মইরাই তো যাব আমি
বুকের ভিতরে পুষে পুষে এক বিলাপের খনি
এই শীতে
আবারো এই নগরে নামছে শীত
অবাক শালিক বাড়ি ফিরে বললো;
এখনো ইট পাথরের আড়ালে যুবতীরা জমিয়ে রাখে কিছু উষ্ণতা আর অশ্রু—
এই শহরের ভবঘুরে যুবকগুলোর জন্যে
এখনো দেয়ালের ওপাশ থেকে ভেসে আসে কমলা সাদা শিউলির গন্ধ
কুয়াশামাখা আধারে তীব্র ছাতিমের গন্ধে ঘুম ভেঙে যায় রাতের পাখিদের
চর আর তীর ধরে রাখার মায়া ফেলে
মেঘনা চলে যায় শহরের বাইরে।
বিপিডি
কাঁটাতারে লেগে হচ্ছে অশরীরী আনন্দ
একবার এদিক আবার ওদিক
বর্ডারে যেসব পাখি থাকে
চাইলেই ওরা উড়ে যেতে পারে
তারপরও কাঁটাতারের আদর ভুলতে পারছে না বলে
দাঁড়িয়ে থাকে সীমান্তেই
একবার এদিক আবার ওদিক
একদিকে স্মৃতি মিশ্রিত জন্মভূমি
অন্যদিকে নিজের তৈরি কাঁচা বাসা
পাখি নিজেকে কাঁটাতারে জড়িয়ে বেনারসির হাসি হাসছে
একটা ফুলের আঘাতে পাখি জখম হয়ে গেল।























