রাদ আহমেদের একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত : আগস্ট ২৩, ২০১৮

আমার সৈন্য প্রবেশ করবে

 

আমার সৈন্য প্রবেশ করবে পাতায় পাতায়।
মাঝারি সাইজ নকশা করা কিনারা যে পাতাবাহারের

জামদানী শাড়ির গায়ে যে ডিজাইন আঁকা দেখেছ -

সেইরকমের বিরল পাতার ছায়ায় ছায়ায়
হাজারে হাজার সৈন্য নীরব


ছেয়ে ফেলেছে দেখবে এক সকালে তোমার

হালকা বৃষ্টি ভেজা রাস্তা

তুমি প্রস্ফুটিত রুমাল যেন বড় বাকলের গাছের ছায়ে

ব্যাঙের ছাতা । মাশরুমের মাথার মত পারমাণবিক

তাহার চাইতে অতিমানবিক সূক্ষ্ম রন্ধ্রে

ছন্দে কেমন সুললায়িত হয়ে আমার

প্রোপাগান্ডা

 

বিস্ফোরিত বিস্ফোরিত কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখবে ধরাশায়ী ধূলি

শিশুর মতন পড়ে গিয়ে

ঝাড়তে ঝাড়তে হাসতে হাসতে এন্টি মিসাইল স্তাপনা যত

পরাজয়ের রঙে রঙিন। ধ্বংস হয়ে গেছে আগেই - এটা দেখবে - এটা তোমাকে


লিখে দিতে পারি

ছোট্ট কাগজে রাখো তোমার বুকপকেটে

 

 

 

 খালি আই ডি বি ভবন

 

মনে হলো সন্ধ্যাবেলা নাশকতা করতে আসছি যেন আইডিবি ভবনে

গার্ড আমারে এমন জেরার ভিতরে ফেলছে ভাবি

অনাহারে ক্লিষ্ট শীর্ণ তরুণ বিপ্লবী বুঝি আমি

সামনে উঁচা ছাদ একেবারে পাঁচতলাতে গিয়া ঠেকসে

ব্রহ্মতালুর মতন। ভিতরটা পুরাটা হাহাকার,বলি

কি আছে পকেটে বলি আমার তো কেবলই

কবি আছে কয়জনা ষাট দশকের, পঞ্চাশের অন্ধকারের গান

তাদের কবিতা যত না তার চাইতে বরং

গালাগালে ও শত্রুতায় ফুরানো বিকাল আছে

ম্রিয়মাণ আড্ডা শেষে পাতা ঝরা

 

`আভা` আছে একটা একটা মুক্তার মত গোলাপি

বক্রাকারে ঘুরানো প্যাডেল -সাথে রিকশাওয়ালার ভব্যতা

অভব্যতা শেষে পড়ে থাকা মুখের চামড়া ব্যেপে

ফুরানো সন্ধ্যার লাল আভা

 

সেঁটে থাকা চোখ আছে তোমাদের আইডিবির দোকানে দোকানে সেঁটে থাকা

শিশুদের মত চোখ, না আমার কোনো ইস্যু নাই কাগজের খালি কাপ

গড়াগড়ি যাওয়া দরজা খুললে সন্ধ্যায় বৃষ্টি-শেষের ফাঁক পেয়ে ঢুকা

বাতাসের মতো আছে মোর পিস্তল একখানা এই দেখ কোমরে

সেঁটে রাখা একটা ক্লান্ত কালো নাইন এম এম



তোমার বানর


তলায় তলায় পৃথকান্ন

তলায় তলায় নির্জীবতা

তোমার বানর তোমার ভিতর চলে এয়েছে

উঁচাটে দাঁত

 

তুমি কিরকম প্রতিহিংসায় সফল হয়েছ
ব্যবসা খুলেছ সদলবলে উজ্জ্বল মতিঝিলে

 

যেখানে টুপ করে অপরূপ মাঝারি মাছ

লাফ দিয়েছে ছোট্ট মাঝারি গুল্ম ডানার নিচে

 

হাজার লক্ষ বছর আগের কথা বলিছি

এভাবে মাঝারি মাছ,

মেটে রঙে বাসা খুলে লিয়েছ

 

দামী এলাকার তলায় তলায়

পৃথকান্ন দাঁত খিলানো তোমার বাসা

বাড়িগুলা ও শিশুগুলা তো

নিজে নিজেরাই বড় হয়েছে নতুন দিনের

তত্ত্বগুলাকে জড়ায়ে জড়ায়ে

টিপেছে ক্যালকুলেটর এবং

ভিডিও গেইম মোবাইল গেমে

 

টাচ করেছে মসৃণ ত্বক

তোমার বর্ণবিহীন এমন মলিন বিকালবেলা

 

তোমার বানর কোটি বছরের আগের থেকে

দাঁত খিলায়েছে তামাটে মতিঝিল

 

[ টীকা (Note) বলিছি = বলছি, লিয়েছ = নিয়েছ, পৃথকান্ন = পৃথগন্ন (পৃথক্‌ + অন্ন)। এই শেষ শব্দটি প্রকৃতপক্ষে "পৃথগন্ন" হবে, তবে অশুদ্ধ রূপে মাঝেমধ্যে "পৃথকান্ন" উচ্চারিত কিংবা লিখিত হচ্ছে - তার প্রমাণ পাওয়া গেছে বর্তমানের বিভিন্ন পত্রিকায় এমনকি দেড় শ বছর আগের ফরিদপুরের একটা বাংলা টেক্সটেও। তবে শেষপর্যন্ত, `অশুদ্ধ` হলেও ,ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহারিক ভাষার সাথে মিল রেখে এই শব্দগুলা বহাল রাখা হলো। - লেখক]

 

 



 

উনি একটা স্থির


রূপসী মানবী উনি আসলে একটা স্থির নিশ্চিত একটা পাথরের মধ্যে স্থির নিশ্চিত সুঁই


তার ঝলকের কথা বললে পান্থপথে সন্ধ্যা-পরবর্তী লাইট, ফাঁকে ফাঁকে চৈত্র হাওয়ার সাবলীল মধ্যেখানে গতকাল মেয়েটার লেখা পেলব কোমল ইন্দ্রীয় বিষয়ে

কবিতাটা মনে পড়ে পুরুষের মুখে উচ্চারিত শব্দ কিভাবে সার্ভিক্স - এই `সার্ভিক্স` শব্দটা এমন চমৎকার ভাবে কবিতায় প্রসারিত হতে পারে এটা আগে বুঝিনি কখনো যেন স্থির নিশ্চিত জ্বলজ্বলে চেহারার রূপ বেয়ে দৃষ্টি রশ্মি ঝরে পড়া কান্নার চামড়া বেয়ে

 

ঝরে পড়া ছেউড়িয়া ও পার্শ্ববর্তী অনুষ্ঠানাদিতে সাদা সাধু পুরুষ্টু মহিলা তোমাদের তৈরি করা পাথরের মতো চকচকে অনুষ্ঠানে কত যে সৌন্দর্য তার গভীরে ঢোকাটা অসম্ভব এই পান্থপথে প্রবীন রূপসীর প্রবেশ-অযোগ্য সন্ধ্যায় এটা মনে পড়ে

 

*** *** ***

 

এত কষ্ট করে লেখা একটা চেয়ার - তার সাথে পিন-বিদ্ধ মহিলা তোমার কারণে তিন তিনটা গোত্র একটা শহর থেকে উৎপাটিত হয়েছিল আদতে ইতিহাসে - তুমি বলতে পারো তারা প্রকৃতপক্ষে সাদা মূলার মতো চকচকে স্বাভাবিক গন্ধ মাখা মাটি মাখা ন্যাচারাল ভাবে উৎপাটিত শৈশব, দাঁত ও কুয়াশার গায়ে মাখা মাখা স্মৃতিকাতরতা তাকে এপাশ ওপাশ ফিরে সরানো যাচ্ছে না কিছু নিয়ম কানুনে চলে এ ব্রহ্মাণ্ড তার সাথে আমাদের রান্নাঘরে বড় স্টিলের কলসে পানি ফোটা শুরু হলে একটা কুকুর কি মনে করে যে ঘুরে গেল মাঝারি সাইজ কালো এবং অপুষ্ট

 

*** *** ***

 

নিয়মে যা বাঁধা থাকে, যেমন রূপালি চুল। টান টান ব্যাকব্রাশ করা প্রৌঢ়-উত্তর লোকেটা

দরজাটা ঠেলে পান্থপথে ঘন গাড়ি মানুষের গন্ধ সমেত গোয়ার বাসগুলা ক্রমশে হারিয়ে যাওয়া শার্ট, যার পকেটে গ্রোথিত অহংকার ও দাম্ভিকতার মাঝামাঝামাঝি একটা বোধ

 

তাকে আমি বলতে পারতাম আরেকটু থাকো কিন্তু আসলে সময় হয়নি পেলব চোখে স্থির সময়টা তখনো আসেনি আসলে স্থিরতা বলে ওই সুঁচ বাদে আর কিছু নাই তাও এরকমের এ চৈত্র মাসে

 

 

 

 

একটা খুব রোদের ঘর

 

একটা খুব রোদের ঘর অশরীরীর পছন্দের।

অনেক আলো ব্যঞ্জনার কথা উড়িছে ধুলার সাথে।

 

তাদের সাথে বসন্তের প্রাককালীন স্মৃতিগুলাকে গাড়িতে বসে থাকতে দেখি

পিছনে তুমি একটু উঁচু হয়ে বসো না কেন ? - বরং সামনে ঝুঁকো

নানা জনেই এসে বসেছে - যেই মেলাতে আমরা যাব সেটার দৃঢ় উত্তেজনা

মুখের ঘামে কেমন এসে চমকাচ্ছে


তোমার সাথে কেবল স্মৃতি ধূসর রঙা মেলাতে যাওয়া -

দিন যাপনে প্রকৃত পথ পাশ কাটিয়ে এখানে ফেরিওয়ালা গোলাপি

হাওয়াই মিঠাই বানায়ে চলে কাঠিতে দেখি পোঁচের পরে পোঁচ দিতে দিতে

রোদ-ঘর টা মৃদু আওয়াজে দানা বাঁধছে

সমরকালে যে জামা পরে মানুষ, মানে ক্যামোফ্ল্যাজে জলপাই ও হলুদ রঙ -

ঢিলা জামাটা কংকালের গায়ে ঝুলছে

 

ওই একজিবিশনে যাই হাড়ের ফাঁকে মধুর কণা বাঁশীর সুর

তুমি তো দেখি মধুরতার কালো বাতাসে এনে রেখেছ

বাবা ও মা কে - রোদের ঘর কলমে মৃদু কাঁপতে থাকা তির তিরানো

মুখমণ্ডলের অজানা তীব্রতার সাথে মিশানো বৃষ্টি দিন

আমাকে মৃদু শান্তি দিন

যে প্রকরণে বাহিত দিন চলে যাচ্ছে - সেটা আসলে সমরকাল-ব্যতিরেকের

অসুস্থতা ভরা সময়

 

বরঞ্চ সে ডিভোর্স নিয়ে ভালো করেছে বাসা নিয়েছে তার তীব্রতা
কালো বাতাসে যত রোদের কথা বলবে

তত বাড়বে ওসিডি ওয়ালা দিনযাপনে পুনঃপুনিক

 

জানালা দেখো । রোদের ধকে পানি ঝরা-টা

গালের পাশে ঘাম ঝরা-টা আসলে ছিলো আড়ঙে যাওয়া

অসুস্থতার প্রাক লক্ষণ