লুনা আহমেদের কবিতা
প্রকাশিত : আগস্ট ২৩, ২০১৮
আত্মজিজ্ঞাসা
আত্মহত্যা মহাপাপ
এই মর্মে বেঁচে আছে মৃত পাপাত্মা, জগত জুড়ে মৃত্যুক্ষুধা অসুস্থ শবের মাঝে শুদ্ধ কোন আত্মা?
আমার মাঝে মরণ রেখে
হাতের মাঝে ঘৃণার বহর বয়ে, কোথায় যাচ্ছি নিত্য হাঁটি নরককুণ্ডে জীবন্ত লাশ হয়ে?
তৃতীয় চোখ
১.
আপনি হাসতে ভুলে গেলে কাঁদুন
যত পারুন কাঁদুন
কান্না শেষ হলে আবার এমনিতেই হাসতে পারবেন।
২.
যখন মরে যেতে ইচ্ছে হয়
তখন পিছনে বা সামনে না তাকিয়ে
আয়নার ভিতর তাকান
চেহারায় মৃত্যু ভেসে উঠলে মরুন কারো নিষেধ না শুনে।
৩.
যে গাছ ফল ধারণ করে
তাকেও মরতে হয়
অতএব, ভালো কিছু দিলেন মানে
এই নয় যে যে মানুষ আপনাকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখবে।
আপনার মৃত্যুর সাথে সাথে
আপনার চেয়ে আরো ভালো কারোর খোঁজে ততক্ষণে লেগে যাবে তারা।
৪.
রাতে ভালো ঘুম হলে দিনে
আর দিনে ভালো ঘুম হলে রাতে
এর কারণ উৎঘাটন করুন।
আর ঘুম আসবে না।
৫.
আপনি গোলাপের বাগান করলেন
আর তার পাশে আপনার মাকে চেয়ারে বসতে দিলেন
বাগানের সব গোলাপ ফুলগুলো ফুঁটে গেছে
ফুটন্ত এইসব ফুলের দিকে একবার আর একবার মায়ের হাসির দিকে তাকান
যদি মায়ের হাসির কাছে গোলাপ অসুন্দর হয়
তবে আপনি অপরাধী
মায়ের কাছে ক্ষমা না চাইতে পারলে গোলাপ বাগানের সামনে কখনো দাঁড়াবেন না।
কেভম্যান
মাংশে মাংশে যুদ্ধ শেষে জয়ী হওয়া
শুক্রাণু ডিম্বানুর কাছে যায়
কবরের ভিতরে জীবিত লাশ
তিলতিল করে বড় হয়ে ওঠে
গুহা মুখের ফাটল চিঁড়ে নিমিষে
বের হওয়া লাশ আজন্মকাল দুঃখে
থাকার দৃঢ় শপথে আর্তনাদ করে
জানিয়ে দেয় তোমরা স্বীকৃত দাও -
শ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে
পাপিষ্ঠ এই আত্মা আত্মাহুতি দিতে প্রস্তুত।
জন্মলগ্ন থেকে শুরু হয় জল
স্রোতের ভেসে থাকার প্রতিযোগিতা
স্নানে স্নানে ম্লান জীবনে প্রাপ্তি
কতটুকু সে হিসেব করার পূর্বেই
আবারও ফেরার ডাক
অতলে অতলে তলাতে তলাতে
বুঝতেই পারলো না কেভম্যানরা
তারা কখন ভাসমান ছিলো -
সুখে কিংবা ভালোবাসায়।























