করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৩১৩২৬ ৪৭৫৮৯৯ ৮৮০৩
বিশ্বব্যাপী ৯৮৭৫০১০৩ ৭০৯৩৬৭৫০ ২১১৬৪৩৮
শ্রেয়া চক্রবর্তী

শ্রেয়া চক্রবর্তী

‘লেখাটা আমার কাছে আধ্যাত্মিক চর্চার মতো’

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দশকের কবি ও কথাসাহিত্যিক শ্রেয়া চক্রবর্তী। চিন্তায় ও মননে আত্মপ্রত্যয়ী এই কবির মেলামেশার জগৎ সীমিত, তবে পড়াশোনা করতে ভালোবাসেন। ব্যক্তিগত জীবন ও সাহিত্যের নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেন ছাড়পত্রের নির্বাহী সম্পাদক আবু তাহের সরফরাজের সঙ্গে।

আবু তাহের সরফরাজ: শৈশবের গল্প বলুন। ধানখেত, নদী, পাখি প্রকৃতির এসব অনুষঙ্গ কীভাবে আপনার স্বপ্ন কল্পনায় একাকার হয়ে গেল।
শ্রেয়া চক্রবর্তী: শৈশবের সাথে জুড়ে আছে এক ছিমছাম মফস্বলী জীবন। আর নির্জনতা। একা একা বহু সময় কাটাতাম। তবু নিজেকে একা লাগতো না। নিজস্ব মননে থেকে যেতাম অন্তর্লীন। আমার লেখায় গাছ নদী পাখির যে অনুষঙ্গ, আসলে তা গড়ে উঠেছে আমার নিজস্ব মানসভ্রমণে। এখন অপেক্ষাকৃত ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও অনেক বেশি একা লাগে। সে একাকিত্ব কেন জানি না, একা হয়েও সেদিন অনুভব করিনি...

আবু তাহের সরফরাজ: লেখালেখি শুরুর দিককার সময়গুলোর কথা বলুন। প্রস্তুতিটা কীরকম ছিল। সেই সময়ের উত্তেজনা... পড়াশোনা...
শ্রেয়া চক্রবর্তী: লেখালিখির সেই শুরুটা বহু প্রাচীন। লেখক হবো বলে তার অবতারণা নয়। নিজের সাথে নিজের কথা বলার তাগিদেই লেখা শুরু নয়-দশ বছর বয়স থেকেই। তখন ছিল স্কুলের লাইব্রেরি। নিজের লেখা লিখে সহপাঠীদের পড়ে শোনানোয় এক আনন্দ ছিল বৈকি। সেই কবিতা লেখার শুরু। এমনকি নাটকও। সিরিয়ার গদ্য চর্চার শুরু বেশ কিছু পরে।

আবু তাহের সরফরাজ: আপনার প্রকাশিত বই নিয়ে বলুন।
শ্রেয়া চক্রবর্তী: আমার চারটি বই এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। তিনটি কাব্যগ্রন্থ যথাক্রমে, `প্লাবন খেলার আগে`, `চিনুক নদীর ধারে ` ও `রেণুমতী ফুলের শ্যাম্পেন` প্রকাশিত হয়েছে `প্রতিভাস` প্রকাশনা থেকে। একটি উপন্যাস লিখেছি যা জীবনস্মৃতি মূলক, নাম `ভূত বিলাসের ঘর`, প্রকাশক `কলিকাতা লেটারপ্রেস`। এছাড়া `দেশ`, `নতুন কৃত্তিবাস`সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লিখেছি। এখন একটি মুক্ত গদ্যের সিরিজ লিখছি, `চাঁদ সোহাগীর ডায়েরি` যা আমার বন্ধু তথা লেখক সরফরাজ তার ছাড়পত্রে নিয়মিত প্রকাশ করছেন।

আবু তাহের সরফরাজ: বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্য ও কবিতার তুলনামূলক অবস্থান নিয়ে শুনতে চাই?
শ্রেয়া চক্রবর্তী: লেখায় এপার-ওপার এদেশ-ওদেশ বলে কিছু হয় না। আমার পৃথিবীর সকল লেখকরা শারীরিক ভাবে যেখানে থাকি না কেন, মনে মনে আমাদের কোনও সীমা-পরিসীমার মধ্যে বেঁধে রাখা চলে না। তবে হ্যাঁ, সমসাময়িক সমাজ ইতিহাস প্রকৃতির একটা প্রভাব থাকে বৈকি। বাংলাদেশের কথাসাহিত্য যথেষ্ট শক্তিশালী। ওপারের বহু লেখক কবিই আমার পরিচিত, বন্ধু।

আবু তাহের সরফরাজ: আজকের প্রজন্ম পড়ার চেয়ে দেখতে বেশি পছন্দ করে। হোক সেটা সিনেমা বা অন্য কন্টেন্ট। ব্যাপারটি আপনি কীভাবে দেখছেন?
শ্রেয়া চক্রবর্তী: বিগত এক দশকের মধ্যে এই পরিবর্তনটা ব্যাপক ভাবে এসেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অনেক কিছুই কল্পনার ওপর ছেড়ে দেয়াটা একটা প্র্যাকটিস। কল্পনার সমুদ্রে অবগাহন করার যে আনন্দ ও অভ্যাস, তা একজন শিল্পীর বিশেষ ভাবে প্রয়োজন। কিন্তু দৃশ্য-শ্রাব্য মাধ্যম তা হতে দেয় না। সে সবটাই দেখিয়ে দিতে চায়। তবে তোমার চেতনার রঙ তুমি লাগাবে কোথায়? মনে মনে ফাল্গুনীই বা রচিত হবে কেমন করে? এর যে কুফল তা কতখানি গভীর, তা বোঝা যাবে আগামী প্রজন্মের মধ্যে দিয়ে। কি করে এটা আমরা রেসিস্ট করবো, সেটাও ভাবা দরকার।

আবু তাহের সরফরাজ: লেখার জন্যে নোট নেয়ার দরকার পড়ে কখনও?
শ্রেয়া চক্রবর্তী: হ্যাঁ, হয় বৈকি। তবে লিখতে লিখতেই যে নোট নেব, এমনটা নয়। এমন অনেক সময় যখন বাস্তবে লিখছি না কিন্তু মাথায় কিছু একটা ফুটে উঠলো, সেটাও লিখে রাখি। আসলে মাথার ভেতর লেখাটা সবসময় চলে। তারপর ধীরে ধীরে সে কাগজ কলমের মাধ্যমে শরীর পায়।

আবু তাহের সরফরাজ: আপনার লেখালেখি কী রুটিন মেনে চনে, নাকি যখন এলো তখন লেখা, এ ধরনের?
শ্রেয়া চক্রবর্তী: ঠিক রুটিন মেনে নয়। আবার ঠিক খাপছাড়া ভাবেও নয়। আসলে ব্যাপারটা হলো কি, মাথার ভেতর আমি সবসময় লিখছি। প্রতিটি বিষয়ের থেকে আমি কিছু না কিছু নিচ্ছি। তারপর সময় সুযোগ করে সেটা লিখে ফেলা। তবে লেখাটা আমার কাছে একটা আধ্যাত্মিক চর্চার মতো। স্নান করার মতো। নিজেকে শুদ্ধ করার বিষয়। তাই খুব বেশিক্ষণ আমি এর থেকে দূরে থাকতে পারি না।

আবু তাহের সরফরাজ: এবার কলকাতা বইমেলায় আপনার কোনো বই আসছে কি? এ বই নিয়ে কিছু বলুন।
শ্রেয়া চক্রবর্তী: এবার কলকাতা বইমেলায় আমার চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, `রেণুমতী ফুলের শ্যাম্পেন`। প্রকাশক `প্রতিভাস`।