শিমুল বাশারের দীর্ঘকবিতা ‘ম্যানিপুলেইশান’

প্রকাশিত : আগস্ট ১৭, ২০১৮

কী এক অপার্থিব আলোয় ঝলমল করছে চারপাশ
প্রান্তরে শাল, শিমুল আর সেগুনের মোহময় সুবাস
বহুকাল আগে একটুকরো মেঘের আড়ালে
উঠোন ঝাড়ু দেয়া হলে
পাড়াগাঁয়ের মায়াবী কমলা আপা গাঙের জলে নেয়ে
দাওয়ায় এই প্রদীপখানি জ্বেলেছিল, জ্বলেছিল আহা!

তারপর কত ঝড়, কত বাদল বর্ষা,
কত শিমুল, শীত, বকুল, নিম আর রাসগুরমি ঝরে গেছে গাছের নিবিড়ে।
তবু আমাদের দু’খানি হাত পাতা ছিল শূন্যে।
দুজনের পদচারণার পথ আলাদা ছিল বলেই বুঝি...
দেখা আর মেলে নাই।

কোমল সুনিবিড় উষ্ণতায় শূন্যে মেলে রাখা হাতে
এইসব রতন যতনে রাখা ছিল জ্বেলে
শৈশবে
আমাদের এক অসমাপ্ত গল্প ছিল,
একটা ফেলে আসা পথ।
যে পথে হাঁটুমুড়ে বসে ছিলাম আমরা,
ফিরে এসে সেখানেই তো বসবার কথা ছিল।

আহা! কতদিন
কত বেদনা বয়ে গেছে
ফিরে না আসার একলা হাহাকারে।
দুজনেই কি চেয়েছিলাম, কোনোদিন, কোনো একদিন...
দিগন্তের রেখায় মিটিমিটি আলোক বিন্দুর মতো
আমাদেরই কেউ আসবে ফিরে?

আলোর রেখায় স্মৃতি ফিরেছে—
মায়া ফিরেছে—
ফিরেছে উত্তাপও..
তবু আমরা কি ফিরেছি?
ভিড়ের মাঝে আমাদের যে হাত ছুটে গিয়েছিল,
কোলাহলে যার নিঃশ্বাসের শব্দ মুছে গিয়েছিল, সে কি ফিরেছে?

ভোরের চুম্বন বিদ্যুচ্চমকের মতো রাতের স্পর্শ মনে করিয়ে দেয়।
নো, ইট ওয়াজ নট সাডেন
নো অ্যালকোহল ইজ দ্য রিজন।
কোনো কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় টান
রুখতে পারে নাই সেই আহ্বান...

শতাব্দী পুরনো স্মৃতির মতো
রাত্রিশেষে নেমে আসা আকাঙ্ক্ষার চেয়ে মধুময় নেই কিছু আর
কোনো উদ্দীপক, কোনো প্রভাবক কোনো কিছু নেই সেখানে শুধুই দুজন।

বহু বহুকাল আগের পুরনো ডায়েরির মতো
সযতনে বেখেয়ালে লুকিয়ে রাখা
বহু আরাধনা, বহু প্রতীক্ষার
কবেকার সেই প্রদীপের আলোয়
ভালোবাসাময় এইসব রাত্রি রচনার
হোক না তা মুহূর্তের জন্যে।
মদিরার হ্যাংওভারের আড়ালে ঝাপসা হয়ে যাওয়া টুকরো ছবি..

তবু হায়! প্রতিটি স্পর্শ বর্ষাভেজা পত্রপল্লবের মতো
অনুভূতিময়
আনন্দ নয়, সুখ নয়, মুগ্ধতা নয়,
আত্মার গভীরে প্রশান্তি প্রোথিত হয়।

বহু বহুদিন পর
যেন নতুন আলোয়
আজকের এই পুষ্প প্রস্ফুটিত ভোর।
বিলুপ্ত পম্পেই নগরে
আনুর মায়ের চরকার ঘুর্ণি আজো থামেনি।
আর আনুর দাদির চাঁদের দেশের এক ছবি
চিরকাল কাপড় বোনে।