ফিলিপিনো চিত্রকলা

ফিলিপিনো চিত্রকলা

সজীব দে’র পাঁচটি কবিতা

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৯, ২০১৭

অ্যাবসার্ডিটি

 

যেহেতু সময় পরিমাপক, আর
ধরো তোমার হাত একটা দৃশ্যমান দিব্যতা
যেন আর নেই
শূন্যতা উল্টে আছে গ্লাসে
গ্লাসের ভেতর থেকে যে মুখ উঁকি দ্যায়
তাকে আর মুখ মনে হয় না
যেন শুঁয়োপোকা
অ্যাবসার্ডিটিতে দালি সালভাদার হলে কেউ আর ঘুমোতে পারে না।

লাল জামা

একদিন আগুনে পুড়েছিলাম।
আর
বৃষ্টি দেখিনি বলে
আজও বারান্দায় বসিনি
আমার বন্ধু অনিকেত একবার বলেছিল,
সে তার লাল জামাটা পরে মিছিলে যাবে।
অথচ
অনিকেত আর ঘুম থেকে ওঠেনি।

ঈশ্বর খালাসিটোলায়

বাজার দরে মৃতদেরকে বেচে দেব
এখন কতগুলো লাশ হলো?
কয়টা নারী?
আহা, যৌবনবতী বুঝি ছিল!
পুরুষ?
৪৫ হাজার!
চলবে।
শিশুদের চমৎকার হৃদয়
সুস্বাদু হবে।
মানুষ ব্যক্তিজীবনে বাঁচে না।
পেঁচার বুকের ভেতর তাদের পরমাত্মা
ঈশ্বর খালাসিটোলায় বাংলা টানছে, দেখে এলাম,
এক মাসির ঊরুর ওপর তিনি ঘুমিয়ে আছেন
মানুষ বাঁচে পপিফুলে। আপেলের ঘ্রাণে।
তিন নম্বর পৃথিবীর মানুষের বিষ্ঠায় ট্র্যাম্প সকালের নাস্তা সারেন।

রিয়েল টাইম

রিয়েল টাইমে বকটা মৃত।
একটা রাজহাঁস রেল স্টেশনে অপেক্ষা করছে।
হিজলবনে সাতশো কোটি মানুষ পুনরায় বেঁচে ওঠে।
অতীত মানে না একজন বিকারগ্রস্থ কবি।
মহাজনপুর লেনের টিপু সুলতান ঘোড়ায় চেপে
বিয়ে করতে যায় ভূতের গলিতে।
দীননাথ সেন রোডের এক সুন্দরী
ভালবাসাকে ফানুস ভেবে প্রতি সন্ধ্যায় বিড়াল নিয়ে ঘুড়ে বেড়ায়।

শরাবের ফুল

আজকাল অনেক কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি
এমন কি শরাবের ফুল।
আজকাল অনেক কিছু ভুলে যেতে শিখেছি
এমন কি তোমার আঙুল
এমনও দিন আসে প্রজাপতির ডানাকে না করে দেই
পাহাড়কে বলি, আমি মেঘ ছুঁতে চাই না।
আমি কেবল অজস্র হাতের সাথে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত মিলাতে চাই।
চাই হেমন্তের বিকেলে রোদে ভরা চাষার হাসি।