সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর আজ জন্মদিন
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : আগস্ট ০৭, ২০২৫
কবি, প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর আজ জন্মদিন। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তার জন্ম। পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার।
প্রমথ চৌধুরী কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন। এরপর প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে দর্শনে অনার্সসহ বিএ (১৮৮৯) এবং ইংরেজিতে এমএ (১৮৯০) পাস করেন।
১৮৯৩ সালে প্রমথ চৌধুরী বিলেত যান। সেখানে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায়ে যোগদান করেন। ১৮৯৯ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিবাহ করেন প্রমথ চৌধুরী।
তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কলেজে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন এবং ঠাকুর এস্টেটের ম্যানেজার ছিলেন। পরে তিনি সাহিত্যচর্চায় পরিপূর্ণভাবে মনোনিবেশ করেন।
১৯১৪ সালে মাসিক ‘সবুজপত্র’ প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি। এই প্রকাশনাকে কেন্দ্র করে তখন শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এই পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তার এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়। তার সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো: বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০), রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং অলকা।
সাহিত্য ক্ষেত্রে প্রমথ চৌধুরীর প্রধান খ্যাতি মননশীল প্রবন্ধলেখক হিসেবে। তবে উচ্চমানের গল্প ও কবিতাও রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন। বুদ্ধিদীপ্ত তীর্যকভঙ্গি তার গদ্য-পদ্য সব রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য। শাণিত যুক্তি ও আলঙ্কারিক ভাষা প্রয়োগেও তিনি দক্ষ ছিলেন।
প্রমথ চৌধুরীর ইংরেজি ও ফরাসি সাহিত্যে সুপণ্ডিত ছিলেন। ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট ও তের্জারিমা ইত্যাদি বিদেশি কাব্যবন্ধ বাংলা কাব্যে তিনিই প্রবর্তন করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: তেল-নুন-লাকড়ি (১৯০৬), সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৩), চার-ইয়ারি কথা (১৯১৬), বীরবলের হালখাতা (১৯১৬), The Story of Bengali Literature (১৯১৭), পদচারণ (১৯১৯), রায়তের কথা (১৯২৬), নীললোহিত (১৯৩২) ও আত্মকথা (১৯৪৬)।
১৯৩৭ সালে কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত একবিংশ বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রমথ চৌধুরী। ১৯৪৪ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিরিশচন্দ্র ঘোষ-বক্তারূপে বঙ্গ সাহিত্যের পরিচয় তুলে ধরেন। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জগত্তারিণী স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর শান্তিনিকেতনে তিনি মারা যান।























