কথাসাহিত্যিক বশীর আল হেলালের আজ জন্মদিন

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৬, ২০২৬

কথাসাহিত্যিক বশীর আল হেলালের আজ জন্মদিন। ১৯৩৬ সালের ৬ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুর গ্রামের মীর পাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তালিবপুর মুর্শিদাবাদের একটি বৃহৎ ও বিখ্যাত গ্রাম। তালিবপুরে জন্মেছিলেন প্রখ্যাত পল্লীগীতি শিল্পী আব্দুল আলীম ও ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদ আবুল বরকতসহ শত কবি-সাহিত্যিক, সংগ্রামী ও বিপ্লবী।

বাবার কাছে পড়াশুনায় হাতেখড়ি হওয়ার পর তিনি ভর্তি হন তালিবপুর পাঠশালায়। এরপর ভর্তি হন তালিবপুর গ্রামের এইচই হাইস্কুলের প্রাইমারী সেকশনে। সেখানে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

সপ্তম শ্রেণিতে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। রাজশাহীতে এক বছর পড়াশোনা করার পর সেতাবগঞ্জ হাই স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই মেট্রিক পাশ করেন।

১৯৫৪ সালে কলকাতা সরকারি কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। এরপর তিনি জলপাইগুড়ির এসি কলেজে বাংলায় অনার্সে ভর্তি হন। এই কলেজ থেকে ১৯৫৭ সালে অনার্স পাশ করার পর তিনি কলকাতায় চলে যান।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বংলায় এমএ ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বংলায় এমএ পাশ করেন। বশীর আল হেলাল ১৯৬৯ সালে ফিরোজা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফিরোজা বেগম সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন।

তাদের পরিবারও দেশবিভাগের পর ভারত থেকে পূর্ববাংলায় চলে আসেন। এই দম্পতির একছেলে ও একমেয়ে। এমএ পাশ করার পর বশীর আল হেলাল কলকাতায় হজ কমিটিতে চাকরি নেন। তখন মাওলানা আযাদের ছেলে আকরাম খান কলকাতা থেকে একটি পত্রিকা বের করতেন। পত্রিকাটি সপ্তাহে তিন দিন বের হতো। এটা মুসলমানদের পত্রিকা ছিল। হজ কমিটিতে চাকুরীর পাশাপাশি তিনি এই পত্রিকায়ও চাকরি করতেন।

১৯৬৯ সালে সহ-অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হলেন বাংলা একাডেমিতে। এরপর তিনি বাংলা একাডেমিতে উপাদক্ষ হন। সর্বশেষে তিনি বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছর তিনি বাংলা একাডেমিতে চাকরি করেন।

তার লিখিত বইগুলো হচ্ছে, গল্পসমগ্র ১, কালো ইলিশ (১৯৭৯), শিশিরের দেশে অভিযান, বেলগ্রেডের ডাক, তাদের সৃষ্টির পথে, ঘৃতকুমারী (১৯৮৪), শেষ পানপাত্র (১৯৮৬), নূরজাহানদের মধুমাস (১৯৮৮), শিশিরের দেশে অভিযান (১৯৯০) এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস (১৯৮৫)।

বশীর আল হেলাল সাহিত্যকীর্তির জন্য পেয়েছেন আলোল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১) ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৯৩)।