চাঁদপুরের ঘাটে ইলিশের ঢল, তবু চড়া দাম
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
চলতি মৌসুমে চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রতিদিন স্থানীয় ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে। বাজারে তাজা ও বড় আকারের ইলিশের ভালো সরবরাহ থাকলেও দাম চড়া থাকায় অনেক ক্রেতা কিনতে পারছে না।
চাঁদপুরের বড় স্টেশন ঘাটসহ আনন্দ বাজার, বহরিয়া বাজার ও হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলে ও পাইকাররা জানায়, এবার ছোট মাছের চেয়ে ১ কেজি বা তার চেয়ে বড় আকারের ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
হরিণা মাছঘাটের পাইকারি বিক্রেতারা জানান, বরফ ছাড়া ১ কেজি ওজনের তাজা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩,০০০ থেকে ৩,২০০ টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৬০০ টাকায়, আর ছোট আকারের ইলিশ প্রতি কেজি মিলছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।
পদ্মা-মেঘনার তাজা ইলিশের কদর বেশি থাকায় ঘাটে আসা মাত্রই মাছ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তবে প্রচুর সরবরাহ সত্ত্বেও দামে ছাড় না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা।
সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলেও পদ্মা-মেঘনায় সার্বিক ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রবীণ জেলে ও গবেষকরা। জেলেদের দাবি, প্রজনন মৌসুমে কিছু অসাধু মৌসুমি জেলের অসাধু উপায় ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, “নদীর তলদেশে পলি জমে চরাঞ্চল তৈরি হওয়া, গভীরতা কমে যাওয়া এবং পানি দূষণের কারণে ইলিশের খাদ্যসংকট তৈরি হচ্ছে। নদীপথের এই নাব্যসংকটের কারণেই গভীর পানির মাছ ইলিশ চলাচলে বাধা পাচ্ছে।”
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “জাটকা রক্ষা ও মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগের তদারকি অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ৩৫ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি মৌসুমেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
























