নভেরা হোসেনের গল্প ‘চৈত্রের শেষ দিন’

প্রকাশিত : মার্চ ২৪, ২০২১

গত সপ্তাহ থেকে না তার আগের সপ্তাহ থেকেই ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার বাতাস। গরমের সাথে ধুলাও বেড়েছে। এই বেহুদা ধুলাগুলোার কোনো কাজ কাম নাই। খালি ফড়ফড় করে উড়ে বেড়ায়। কখনো রায়েরবাজারের লম্বা গলিতে, কখনো নাজিমউদ্দিন রোডে, নীরব হোটেলের কোল ঘেঁষে। আবার এই ধুলাই উড়তে উড়তে যাচ্ছে শান্তিনগরের দিকে। ধুলাতো ওড়ে কিন্তু একা একা ওড়ে না সঙ্গে তার বার্তাও নিয়ে চলে। কয়েক দিন ধরে পত্রিকাগুলো ছি ছি রবে একবারে মাতম করছে। কোনখানের কোন্ পীর ছয় মাসের বাচ্চা-পোলাপানদের দুই ঠ্যাঙ্গে ধরে এমন ঘুরান ঘুরাচ্ছে, দেশবাসী একবারে লা জওয়াব। ঢাকাইয়্যা ধুলা পীর সাহেবকেও ছাড়ে নাই। তার নাক মুখ দিয়ে সুঁই হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোচ্ছে।

ফকিরের পুলের গলি, তস্য-গলি, তামাম গলিতে বৈশাখি মেলার চান্দা তুলতাছে ছোট পোলাপান। পোলাপানের খুশি যেন আর ধরে না! চোখ-মুখ ফাইট্টা ঝিলিক বাইর হইতাছে, এই ঝিলিক চান রাইতের খুশিরেও হার মানাইছে। পুরনো দিনের কথা ভাবতে ভাবতে সাইফুল ধুলা-বালি মাথায় করে ঘর হতে বের হয়েছে, কবিতা রানীর সাথে তার আজ দেখা করার কথা। এই নিয়ে তিন তিন বার কবিতা সাইফুলকে ঘুরাইলো। রোযার ঈদ, কোরবানী ঈদ, ছাব্বিশে মার্চ; তিনদিন কবিতা রানী তারিখ দিয়ে পরে বলে, সাইফুল যাইতে পারমু না মনে হয়। একবার বলে মার অসুখ, আরেকবার মেহমান, কত কী যুক্তি যে তার মুখে তৈরি থাকে সাইফুল ভেবে কোনো কূল-কিনারা পায় না। এক মাইয়্যার পিছে ঘুরতে ঘুরতে জান-জীবন কয়লা হইয়া গেল তবু তার টিকি ধরন গেল না।

মালেক সবসময় বলে, আরে ধুর ওই ছেমরির পিছনে ছুইটা কোনো লাভ নাই। তোরে পাত্তাও দিবো না, মাঝখান থিকা কয়টা বছর নষ্ট। কবিতা রানীর এমন রূপ, বড় বড় ঘরের পোলারা সব তার লাইগ্যা লাইন দিয়া রাখছে। কবিতার কি মাথার ঠিক আছে? তার উপরে গার্মেন্টসের সুপারভাইজারের চাকরি। সাইফুল তুই ওর কথা মাথা থিকা বাইর কইরা দে, হুদাহুদি মনে মনে জ্বইলা কী লাভ!

সাইফুল বোঝে মালেইক্যা এই সব কথা কেন কয়? ওর সালমা বেগমও ওরে কম ঘুরান ঘুরায় নাই। এই আইজকা চক বাজারের লাঠি কাবাব, কাইলকা বুড়িগঙ্গায় নৌকা-ভ্রমণ, টেরেনে চইরা ময়মনসিংহ। কী না করছে মালেইক্যা! না,  শেষে কী হইল? সালমা আৎকা আইসা কইল, মালেক আমি তোমারে এতদিন ফ্রেন্ড ভাবছি, মনে দুঃখ নিও না। আমার লগে ফারুক কনট্রাকটরের অনেক দিনের ভাব-ভালবাসা. এত দিন তোমারে কইতে পারি নাই. ভাবছি মনে কষ্ট পাইয়া তুমি কী না কী কর! আর আমি নিজেও এতদিন পুরাপুরি বুঝি নাই ফারুকরে ছাড়া আমার চলব না। তোমারে আমি মনে রাখমু সারা জীবন, আমারে ক্ষমা কইরা দিও।

মালেইক্যা সেই যে ধরা খাইল, আর রা করে না। একবারে ঝুম মাইরা গেছিল। সাইফুল তখন কত বুঝিয়েছে, মালেক সালমা তোর মনে দাগা দিছে, হ ওর নাইলে তোরে এখন দরকার নাই কিন্তু এত দিনের সম্পর্কটারে তুড়ি দিয়া উড়াইয়া দিল! এইটা কেন করল মাইয়্যাটা ক? কইতে পারবি না তো? তুই তো আন্ধা হইয়া গেছস! অয় কাউরে ভালবাসে না, ইজ্জতও করে না। যখন যার লগে পরতায় পড়ে বন্ধু বানায়। কোনো সমস্যা দেখা দিলে কাইট্টা পড়ে। কোনো ইস্টিশন নাই। তার লগে ভাল লাগল কথা কইল, না লাগল ডিসমিশ। তর কথা ভাবনের হের সময় নাই। কত মালেক ঘুরতাছে দরকার শেষ হইলে নাই, ফ্রেন্ড? তো ফ্রেন্ড এর লগে এমন কী করলি তার জানটা ভাজা ভাজা কইরা ছাড়লি। কে শোনে কার কথা। মালেকের ঐ এক কথা সালমা! আহ সালমা তারে কত ভালই না বাসত. একবারে বুকে আগলাইয়া রাখত, মালেক জানে সালমার মনটা কত নরম, একটু কষ্ট সহ্য করতে পারে না সালমা। সেই মালেক এখন সাইফুলকে জ্ঞান দিচ্ছে; শোন কই কী একা থাকনের চিন্তা কর, বিয়া যখন লাগে মার পছন্দে কইরা লবি. হের লগে ভাব-ভালবাসার দরকার কী? কিন্তু এই সব কথায় সাইফুলের মনের চিড়া ভেজে না। চৈত্রের বাতাসটা খালি দৌড়াচ্ছে।

মাথার ভিতর পর্যন্ত ঢুকে গেছে বেশুমার। সাইফুল লাক্স সাবান কিনে শার্ট-প্যান্ট ধোয়, নিজেকেও পরিষ্কার করে নেয়। এতদিন ধরে মনে যত আবিলতা জমেছে সাইফুল যেন তা ধুয়ে মুছে সাফ করে নিতে চায়, পহেলা বৈশাখের সকালে একটা ফকফকা নতুন মানুষকে কবিতা রানীর সামনে উপস্থিত করতে চায়। গলির মধ্যে লোকজন কম, খালি ধুলা উড়ছে। অখিল পোদ্দারদের বাসার পুরানো কালের আমগাছটা গেটের উপর ঝুঁকে পড়েছে। কালো মিশমিশা পাতার রঙ। আমের সবুজ পাতা যে এত মিশমিশা কালো কেমনে হয় সাইফুলের মাথায় ঢোকে না। মার কাছে শুনছে, অখিল পোদ্দারের দাদা ইংরেজগো লগে যুদ্ধ করছে। আন্ডাগোরার ময়দানে তাগো সব টানাইয়া রাখছিল। কত দুনিয়ার মানুষ দূর থিকা তাগো দেখছে । কাছে যাওনের সাহস হয় নাই কারো। সেই দাদার একটা কাচ বাঁধানো ফটো অখিল পোদ্দারদের বৈঠকখানায় সারা বছর ঝুলতে থাকে, ধুলায় ধুলায় এখন আর ছবির মানুষটাকে চেনা যায় না। সাইফুল ছোটবেলায় অবাক হয়ে ঐ ফটোর দিকে তাকিয়ে থাকত। কেমন একটা দশাশই চেহারা, গোফগুলো এখনও চোখের সামনে ভাসে। সাইফুল ভাবে এরা কত বড় মানুষ আছিল যে ফটো ভাইঙা বাইর হইয়া যাইতে চায়। দেশ থিকা তারাই নাকি ইংরেজ তাড়াইছিল।

না এইসব চিন্তা করলে মাথামুথা একবারে আউলাইয়া যায়! এ কি আজকের কথা! কালো আমগাছটা কালের সাক্ষি হয়ে শুধু দাঁড়িয়ে আছে। সাইফুল বড় বড় পা ফেলে আলাউদ্দিন রোডের মোড় ঘুরে নাজিমুদ্দিন রোডে এসে পৌঁছায়। বোরহান উদ্দিন কলেজের মাঠে প্যান্ডেল টানানো, মাইকে বাজছে এসো হে বৈশাখ... সাইফুল একবার ভাবে উঁকি দিয়া দেখবে ভিতরে কী হইতাছে! পরমুহূর্তে ভাবে, না লেট হইয়া যাবে কবিতা রানী আইসা দাঁড়ায়া থাকলে তার প্রেস্টিজ থাকব না।

দুই.
কলতলায় আসলেই কবিতার নাকে একটা মিষ্টি গন্ধ এসে লাগে। গন্ধটা কোত্থেকে আসে কবিতা কখনো বুঝতে পারে না। ফুলের গন্ধ হতে পারে বা কোনো সেন্টের শিশি থেকে এ গন্ধ আসে নাকি কবিতা তা জানে না। কে রোজ কলতলায় এমন শিশি শিশি আতর, সেন্ট ঢেলে রেখে যায়! ফুলের গন্ধ হলে সে ফুল কই? ফুলের গাছ কই? এই অচেনা গন্ধের ফুলের নাম কী? কোনোদিন তো এমন ঘ্রাণ পায় নাই এর আগে! কবিতার দু-চোখ ঘুমে ঢুলতে থাকে। গরমে সারারাত সে ঘুমাতে পারে না। কবিতার মা কমলা রানী বাতের ব্যথায় সারা রাত কোঁকায়, সে জন্যও কবিতা কোনোদিন একটু শান্তি করে ঘুমাতে পারে না। রাতে ফ্যানের বাতাস গরম হয়ে উঠছিল আর একটু পর পর কারেন্ট চলে যায়। কবিতা ঘুমে নানা রকম মানুষ দেখে। একজন বুড়া মানুষ সারাদিন হাতে থালা নিয়ে ভিক্ষা করে। তার কপালে একটা তিলক কাটা। বুড়া স্বপ্নের মধ্যে কবিতাকে বলে, কবিতা তুই কেন এই ভাঙা ঘরে পইড়া আছিস? তোর লেইগ্যা কত বড় দুনিয়া পইড়া আছে, একটু চোখ মেইলা তাকা। দেখ বড় বড় উড়োজাহাজ উড়তাছে, বড় বড় মার্কেটে, শহর. গ্রামে ছাইয়া যাইতেছে। কত রকম শাড়ি; একটার নাম ইন্ডিয়ান কাতান, আরেকটার নাম সাউথ কাতান, মসলিন, ঢাকাই ছাপা, দিল্লি জর্জেট। তুই কি কিছুই দেখস না চোখে? অই বেটি ওঠ ওঠ, বেলা যে পইড়া আইল, আর কত ঘুমাবি? তর লাইগ্যা তো সারা জীবন কেউ পালকি সাজাইয়া বইসা থাকব না, যা করনের এখনই কর।

বুড়া তার হাতের লাঠি দিয়ে কবিতা রানীর মাথায় একটা খোঁচা দেয়। ওঠ, ওঠ। কবিতা ধড়ফড় করে ঘুম থেকে উঠে বসে, চোখ কচলায়। ফুলের গন্ধটা নাকে এসে লাগে। না আইজ বাইর করতে হবে এই গন্ধ কোথেকে আসে! কবিতা কলতলায় গিয়ে আতি-পাতি করে খুঁজতে থাকে কিন্তু কোনো ফুল, আতরের শিশি কোনো কিছুর কোনো হদিশ পায় না, বেহুঁশের মতো কবিতা এ ঘর ওঘর করে। কবিতার মা মরার মতো ঘুমায়, কোনো সাড়া শব্দ নাই। ভোরের আলো ফোটার আগেই কবিতা উঠে বসে থাকে। সাইফুল কত দিন ধরে ওর পিছনে পিছনে ঘুরতেছে। কবিতা এইটা ওইটা বলে সাইফুলকে আটকে রাখছে। কিন্তু ওর মুখটা মনে হলে কবিতা দিশেহারা হয়ে যায়, শুভ্রর কথা মনে হয়। শুভ্র, আহ! আর সহ্য করতে পারি না। কেন তুমি এমন করে চইলা গেলা? কই গেলা? আর কোনো দিন তোমার কাছে যাইতে পারমু না? নাহ নাহ, আমি বিশ্বাস করি না। তুমি মরতে পার না। তুমি কোথায়?

কবিতা কল ছেড়ে দিয়ে গলা ছেড়ে কাঁদতে থাকে। কলের পানির অবিরত পতনের সাথে কবিতার কান্নার শব্দ মিলেমিশে যায়। বছর দুয়েক হল মামাতো ভাই শুভ্র ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছে। কবিতা ছোটবেলা থেকেই শুভ্রর কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করত। শুভ্র পূজার পুরো সময়টা ওদের বাড়িতে থাকত। মা চিনির পদ্ম, নারকেলের তকতি, নাড়, মোয়া, নিমকি কত কী জল খাবার তৈরি করত। বাড়ি ভর্তি অতিথি। সুবর্ণ কাাকা, দিপালী, বর্ণা কত মানুষ আসত বাড়িতে। পূজার গন্ধে গন্ধে আশ-পাশের তামাম পোলাপান আসত মার হাতে প্রসাদ খাইতে। শুভ্রদা খুলনা থেকে কত কিছু নিয়ে আসত কবিতার জন্য। একবার একটা চিরুনি আনল তার সাথে আয়না ফিট করা, খাপের মধ্যে ঢুকান যায় চিরুনিটা। শুভ্রদা একটু পর পর সেই চিরুনি দিয়ে কবিতার চুল আঁচড়ে দিত। কবিতার গোছা গোছা চুলের ভেতর শুভ্রদার নরম হাত গলে ঢুকে পড়ত। কবিতার সারা শরীর জেগে উঠত। শুভ্রদা ঘাড়ে হাত দিয়ে মেসেজ করে দিত, এত অদ্ভুত ভাল লাগায় ছেয়ে যেত কবিতা, নিজেকে তখন একটা রাজ-হংসীর মতো লাগত। শুভ্রকে কবিতা এত ভালবাসে এখনও তার গলার স্বর শুনতে পায় ঘুমের মধ্যে। কবিতা টের পায় শুভ্র তার শরীরের মধ্যে ঢুকে বসে আছে, সবসময় থাকে, কখনো কবিতাকে ছেড়ে শুভ্র কোথাও যায় না। কবিতা মাঝে মাঝে ভাবে ভালই হইছে এখন আর শুভ্রদা ওরে রাইখা কোখাও যাইতে পারবেনা, খুলনার বাড়িতেও না।

কলতলায় বসে কবিতা কাঁদতে থাকে, কবিতার কান্না গোল হয়ে ভোজহরি লেনের গলিতে ঘুরতে থাকে। সকালের উড়ন্ত ধুলারাও কবিতার কান্নার সাথে এসে মেশে। কবিতার কান্নাও ধুলার  সাথে উড়ে  দ্রুত বড় রাস্তায় চলে যায়। সাইফুলকে কি বলা যায় কবিতা ভাইবা পায় না। যাইতে একদম মন চায় না। তয় আজ যাইতেই হইবে। যা হোক তারে একটা কিছু কওন লাগবে। বছরের পয়লা তারিখে সব শেষ করতে হবে। এই বার গরমটাও পড়ছে, চৈত মাসটা যেন আর শেষ হইতে চায় না। কবিতা রানীর রাতের দুঃস্বপ্ন দিনের আলোতেও ডালপালা মেলতে থাকে।

তিন.
সাইফুল ধুলোর মধ্যে দিয়া হাঁটতে হাঁটতে ঢাকা মেডিকেলের সামনে এসে দাঁড়ায়। বুকের মধ্যে ড্রাম বাজছে। কবিতা রানীর বিড়াল চোখ সাইফুলের দিকে তেড়ে আসতে থাকে। হাত-পা অবশ হয়ে আসে। কবিতা একটা লাল বাটিকের শাড়ি পড়ে কপালে বড় একটা লাল টিপ দিয়ে এসেছে। চুলগুলো ভেজা, পিঠের উপর আছড়ে পড়ছে। সাইফুল কবিতা রানীর শরীর থেকে একটা অচেনা ফুলের গন্ধ পায়। সাইফুল মনে মনে ভাবতে থাকে কেমন বেহেশতের ফুলের বাসনা।
কেমন আছো কবিতা?
আমি ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন সাইফুল ভাই?
আমি কেমন থাকি তুমি তো জানই সব। মালেইক্যা বলছে আমার হাতে হারিকেন নিয়া ঘুরতে।
কেন হাতে হারিকেন কেন?
কারণ আমার নাকি তোমারে দেইখ্যা চোখ আন্ধা হইয়া গেছে। সব আন্ধার দেখি।
ওহ্ এই কথা।
কেন তোমার কি মনে হয় কবিতা?
কেন কি মনে হইবো?
তোমার চোখে কোনো আন্ধার আহে না? ঘোলা ঘোলা সব। বেবাক ইসলামপুরের মার্কেটটা চোখের নিমিষে মিলাইয়্যা যায়।
সাইফুল ভাই আমি আইজ আপনারে কয়েকটা কথা কইতে চাই, আমি আপনারে ঘুরাইতে চাই না, সত্য কথাগুলা জানানো দরকার।
না না কবিতা তুমি এমন কিছু বইলো না যাতে আমার মন ভাইঙা যায়।
না না মন ভাঙবে কেন? কত সুন্দর দুনিয়া, আপনি কত ভালা মানুষ, আমার মতো কবিতা রানী কত আছে।

না না কবিতা তুমি আমারে কিছু বইলো না, আমি চুপ কইরা তোমার পাশে বইসা থাকি। তোমার শরীর থন একটা ভিনদেশি ফুলের ঘ্রাণ আসে। পুরানা কালের কথা মনে হয়, মাথা আউলাইয়া যায়। আন্ডাগোরের সব ঝুলানো বান্দারা জাইগা ওঠে মনের মধ্যে। কবিতা সাইফুলের কথা শুনে চমকে ওঠে। জোরে জোরে নিঃশ্বাস পড়তে থাকে। সোহরোয়ার্দি উদ্যানের সবুজ ঘাস সুঁইয়ের মতো পায়ে বিঁধতে থাকে। তাহলে কি সাইফুল সেই অচেনা ফুলের গন্ধ পাইতাছে? সেই কি রোজ রোজ কল পারে শিশি শিশি আতর ঢালে? কবিতার দুই চোখ বন্ধ হয়ে যায়।

সাইফুলের হাতটা ধরে কেমন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগে। মরা মানুষের হাতের মতো, কোনো সাড় নাই। শুভ্রদা কি সাইফুলের শরীলে ভর করল? সাইফুল এমন মরা মানুষের মতো স্থির বইসা আছে কেন? কবিতা নাকে লাশের গন্ধ পায়, এক ঝটকায় হাতটা ছেড়ে দিয়ে দ্রুত হাঁটতে থাকে। পিছন থেকে সাইফুল ডাকতে থাকে। কবিতার মনে হয় অসংখ্য সাইফুল কবিতা কবিতা বলে ডাকছে। তারা সব কবিতাকে ধাওয়া করতে থাকে। কবিতা উর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে থাকে। মানুষ-জন, গাছপালা মাড়িয়ে চলতে থাকে সে। পেছন কারা যেন ডাকছে, কবিতা কবিতা।

হঠাৎ সামনে একটা লোকের সাথে ধাক্কা খেয়ে পিছনে তাকাতেই কবিতা দেখে শুভ্রদা দাঁড়িয়ে, হাতে একগুচ্ছ সাদা ফুল, তীব্র গন্ধ। আহ, এই তো সেই আতরের গন্ধ। কবিতা জোরে জোরে শ্বাস টেনে নেয়।