প্রতি বছর ৩৫ কোটি মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জুলাই ১০, ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন ক্যানসার-২০২৬ অনুযায়ী, জরুরি পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর নতুন ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৫ কোটিতে (৩৫ মিলিয়ন) পৌঁছাতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং প্রায় ১ কোটি মানুষ মারা যাচ্ছে। হৃদরোগের পর ক্যানসারই এখন বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৫ বছরে বার্ষিক ক্যানসারের হার প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়তে পারে। এর প্রধান কারণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং গড় আয়ু বেড়ে যাওয়া। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। এর পাশাপাশি মানুষের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও পরিবেশগত বিপর্যয় এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রধান কারণ ও ঝুঁকিসমূহ:

তামাক ও অ্যালকোহল: প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসারের সবচেয়ে বড় কারণ তামাকের ব্যবহার এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন।

অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: স্থূলতা (ওজন বৃদ্ধি), শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং প্রক্রিয়াজাত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।

পরিবেশ দূষণ: বায়ু দূষণ ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা।

ভাইরাস সংক্রমণ: হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস ও হেপাটাইটিস বি-এর মতো কিছু ভাইরাস সংক্রমণ, যা ভ্যাকসিনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, ধনী দেশগুলোর রোগীরা উন্নত স্ক্রিনিং, আধুনিক চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুবিধা সহজে পেলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর রোগীরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

গরিব দেশগুলোতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্যানসার একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ে, যখন চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে পড়ে।

ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, “ক্যানসার অত্যন্ত ব্যক্তিগত ব্যাধি, যা আমাদের প্রায় প্রত্যেককেই স্পর্শ করে। কিন্তু একজন মানুষ ক্যানসারে টিকে থাকবেন কিনা, তা কখনোই সে কোথায় জন্মগ্রহণ করেছে বা তার আয় কত—তার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “এই বৈষম্যগুলো অপরিবর্তনীয় নয়। এগুলো ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তের ফসল। ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি দূর করা সম্ভব।”

আইএআরসি-এর পরিচালক ড. এলিসাবেত উইডারপাস বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণের ফলে কিছু দেশে ক্যানসারের হার কমলেও স্থূলতা, বায়ু দূষণ এবং অস্বাস্থ্যকর ডায়েটের কারণে ক্যানসারের ধরন পাল্টাচ্ছে। তাই ক্যানসার প্রতিরোধকে রাজনৈতিকভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সচেতনতা ও সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করতে পারলে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। এর জন্য প্রধান করণীয়গুলো হলো:

১. তামাক ও ধূমপান বর্জন: তামাকজাত পণ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ।

২. টিকা প্রদান: উপযুক্ত সময়ে এইচপিভি এবং হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিশ্চিত করা।

৩. জীবনযাত্রার পরিবর্তন: নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ।

৪. আগেভাগে স্ক্রিনিং: স্তন, জরায়ুমুখ ও কোলন ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করতে পারলে সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বের সব দেশের সরকারকে ক্যানসার প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও রেডিওথেরাপির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।