আইজ্যাক নিউটনের আজ জন্মদিন
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
সর্বজনীন মহাকর্ষ ও তিন গতির সূত্রের আবিস্কারক আইজ্যাক নিউটনের আজ জন্মদিন। ১৬৪৩ সালের ৪ জানুয়ারি লিংকনশায়ারের উল্সথর্পম্যানরে দরিদ্র কৃষক পরিবারে তার জন্ম।
২০০৫ সালে রয়েল সোসাইটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে কার প্রভাব সবচেয়ে বেশি এ বিষয়ে ভোটাভুটির আয়োজন করে। ফলাফলে দেখা যায়, নিউটন আইনস্টাইনের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী বিজ্ঞানী।
১৬৮৭ সালের ৫ জুলাই নিউটনের বিশ্বনন্দিত গ্রন্থ ‘ফিলসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা’ প্রকাশিত হয় যেখানে তিনি সর্বজনীন মহাকর্ষ ও গতির তিনটি সূত্র বিবৃত করেন। তার এ সূত্র সভ্যতা বিকাশের সোপানস্বরূপ।
এ চিরায়ত বলবিজ্ঞান গবেষণা পরবর্তী তিন শতক জুড়ে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার জগতে একক আধিপত্য করেছে। নিউটনের প্রাথমিক শিক্ষা বাড়ির পাশের এক ছোট্ট স্কুলে সম্পন্ন হয়। ১২ বছর বয়সে তাকে গ্রান্থামের ব্যাকরণ স্কুলে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে তিনি এক ওষুদ প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতার বাড়িতে থাকতেন। এই স্কুলে নিউটন ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দি, যা থেকে তার মেধার পরিচয় পাওয়া যায়।
স্কুলজীবনেই নিউটন তার মেধার পরিচয় প্রকাশ করেন। সে বয়সেই তিনি উইন্ডমিল, জলঘড়ি ও সান-ডায়াল তৈরি করেন। এছাড়া তার গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ ছিল একটি চার চাকার বাহন যা আরোহী নিজেই টেনে চালাতে পারতো।
নিউটনের কাকা বার্টন কগলিসের রেক্টর তার এই প্রতিভা দেখে তাকে কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি করেন। নিউটন প্রথম দেখান যে, পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সকল বস্তু একই প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কেপলারের গ্রহীয় গতির সূত্রের সাথে নিজের মহাকর্ষ তত্ত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও দেন।
রৈখিক ও কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রের মাধ্যমে বলবিজ্ঞানের ভিত্তিভূমি রচনা করেন নিউটন। তিনি আলোর প্রতিসরণ আবিষ্কার করেন। ১৭০৪ সালে নিউটন অপটিক্স গ্রন্থ লেখেন, যাতে তিনি আলোর কণা তত্ত্ব বিষয়ে তার অভিমত বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন। শব্দের দ্রুতি ও শীতলীকরণ প্রক্রিয়া বিষয়েও নিউটন গবেষণা করেন যা থেকে নিউটনের শীতলীকরণ সূত্র এসেছে।
গণিতের জগতেও নিউটনের আধিপত্য অনস্বীকার্য। নিউটন ও লাইবনিজ যৌথভাবে ক্যালকুলাস নামে গণিতের একটি নতুন শাখার পত্তন ঘটান। এই নতুন শাখাটিই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে বিপ্লব সাধনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া পাই এর মানের জন্য একটি নতুন সূত্র আবিষ্কার করেন।
নিউটন কাচের গ্লোব ব্যবহার করে একটি আদি প্রকারের ঘর্ষণ স্থির-বৈদ্যুতিক জেনারেটর তৈরি করতে সক্ষম হন। ১৭২৭ সালের ৩১ মার্চ ৮৪ বছর বয়সে এ মহান বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়।























