ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জুন ১৮, ২০২৬
জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত নৈশভোজে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ম্যাখোঁ বলেন, “ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করতে পারে।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়ায় দুই দেশের প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করেছেন। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তিটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা।”
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভার্সাইয়ে নথিতে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে। ইরান জানিয়েছে, জেনেভায় নির্ধারিত বৈঠক আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
সেখানে চূড়ান্ত চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। চুক্তির নথিতে স্বাক্ষর হওয়ার পর এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হাতে ৬০ দিন সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা চূড়ান্ত চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা সম্পন্ন করবে।
এর আগে বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা কনফারেন্স কলে বৈঠকে চুক্তির বিভিন্ন অংশ পড়ে শোনান। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, চুক্তি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছিল। সেই চাপের মুখেই চুক্তির বিভিন্ন অংশ প্রকাশ করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম এই চুক্তির ঘোষণা দেন রোববার। চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননসহ সব জায়গায় চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
এছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সময়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগের মতো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, ইরান ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। এ সময় জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১১০ দিন ধরে চলা সংঘাতের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের ওপর প্রথম হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত যুদ্ধের দিকে গড়ায়। এরপর টানা কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ও সংঘাত চলতে থাকে।
নতুন এই সমঝোতার ফলে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
























