মোদি দেখতে ভদ্র হলেও বাস্তবে টোটাল কিলার: ট্রাম্প

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জুন ১৮, ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেখতে অত্যন্ত ভদ্র হলেও বাস্তবে টোটাল কিলার বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার দ্বিপক্ষীক বৈঠকের আগে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, “মোদিকে দেখতে দেবদূতের মতো এবং অত্যন্ত ভদ্র বলে মনে হলেও বাস্তবে তিনি একজন টোটাল কিলার।”

তবে ট্রাম্প শব্দটি ব্যবহার করেছেন রূপক অর্থে। অর্থাৎ মোদির কঠোর নেতৃত্ব ও দরকষাকষির দক্ষতার প্রশংসা করতেই তিনি এমনটা বলেছেন।

এ সময় মোদিকে খুবই কঠিন ও দক্ষ দরকষাকষিকারী বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, তিনি এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “এই মানুষটিকে দেখুন। আমি আপনাদের একটি শিক্ষা দিই। তিনি সবচেয়ে সুন্দর চেহারার মানুষদের একজন। তাকে দেখতে এতটাই ভদ্র ও শান্ত লাগে, যেন একজন দেবদূত। কিন্তু বাস্তবে তিনি টোটাল কিলার। তবে তাকে দেখতে এত ভালো লাগে যে, তিনি আপনাকে অবাক করে দেন। এমন মানুষ খুব কমই আছে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি যতদিন প্রেসিডেন্ট আছি, ভারত হোয়াইট হাউসে একজন সত্যিকারের বন্ধুকে পাবে। এখানে উপস্থিত সবাই ভারতকে ভালোবাসে এবং এই মানুষটির (নরেন্দ্র মোদি) প্রতি তাদের অসাধারণ শ্রদ্ধা রয়েছে। মানুষ বলে তিনি খুবই ভালো মানুষ। আমি বলি, তিনি খুবই কঠোর। তিনি একজন দক্ষ দরকষাকষিকারী।”

ট্রাম্প বলেন, “তিনি ভারতীয় জনগণকে ভালোবাসেন, আবার যুক্তরাষ্ট্রকেও ভালোবাসেন। হিউস্টনে আমাদের হাউডি মোদি অনুষ্ঠান হয়েছিল। স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ভবিষ্যতে আমরা আবার ভারত সফরে যাব। মোদির সঙ্গে আমাদের খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অনেক কিছু ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে। আমাদের দেশে ১৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আসছে। আমরা কারখানা গড়ছি, নানা ধরনের উন্নয়ন করছি। প্রধানমন্ত্রীও যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বিনিয়োগ করছেন। আমরা সেটির প্রশংসা করি।”

ট্রাম্প বলেন, “আমি শুধু বলতে চাই, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমার বন্ধু এবং আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই খুব ভালো ছিল। আপনার সঙ্গে থাকতে পেরে ভালো লাগছে।”

বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ায় ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন গতির কথাও উল্লেখ করেন।

মোদি বলেন, “এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন আশা জেগে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করবে। আপনি ও আমি একমত যে, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “ভারত সব সময়ই নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত এবং বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত।”