ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি, শাস্তি বাড়ল কয়েক গুণ

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০১, ২০২৬

ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের বিকাশমান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এ অধ্যাদেশ জারি করে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনকে আরও শক্তিশালী করতেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে। তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বিদ্যমান বিচ্ছিন্ন আইন বাতিল করে সমন্বিত আইন কাঠামো গড়ে তুলতে এ অধ্যাদেশ করা হয়েছে।

এতে ‘তামাকজাত দ্রব্য’র সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের বিকাশমান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার প্রজ্ঞাপনের যে কোনো পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিনজাত দ্রব্য’র পৃথক সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। আর ‘পাবলিক প্লেস’র সংজ্ঞাও সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

এ সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘পাবলিক প্লেস’ অর্থ সরকারি-বেসরকারি মালিকানা নির্বিশেষে জনসাধারণ কর্তৃক সম্মিলিতভাবে ব্যবহার্য যে কোনো স্থান যেমন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও বেসরকারি অফিস, গ্রন্থাগার, লিফট, আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্র, হাসপাতাল ভবন, ক্লিনিক ভবন ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভবন, আদালত ভবন, বিমানবন্দর ভবন, সমুদ্রবন্দর ভবন, নৌ-বন্দর ভবন, রেলওয়ে স্টেশন ভবন ও প্ল্যাটফর্ম, বাস টার্মিনাল ভবন, প্রেক্ষাগৃহ, প্রদর্শনী কেন্দ্র, থিয়েটার হল, বিপণী ভবন, যে কোনো হোটেল, রেস্টুরেন্ট, খাবার দোকান, কফি হাউজ এবং উল্লিখিত পাবলিক প্লেসমূহের প্রাঙ্গণ, কমিউনিটি সেন্টারসহ যে কোনো ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানস্থল, পাবলিক টয়লেট, শিশুপার্ক, মেলা, পাবলিক পরিবহণে আরোহণের উদ্দেশ্যে যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সারিসহ সেবাগ্রহণের নিমিত্ত মানুষের যে-কোনো সারি অথবা সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, সময় সময় ঘোষিত অন্য যে কোনো বা সকল স্থান।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত সব ভবনের বারান্দা, প্রবেশ ও বহির্গমন গেইট এবং ভবন সংশ্লিষ্ট এলাকা আচ্ছাদিত বা উন্মুক্ত যাই হোক না কেন, ভবনের সামনে ও পেছনের মাঠ, উন্মুক্ত স্থান বা বাগানও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। এখন থেকে সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি যে কোনো তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। এ বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা ঠিক করা হয়েছে।

তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আওতায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন, বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও অন্যান্য বিকাশমান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত ‘বিডি ম্যানুফ্যাকচার (প্রোহিবিশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৫’ বাতিল করা হয়েছে। তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে যে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক উপাদান মেশানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া এসব পণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, অধ্যাদেশে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধানও সংযোজন করা হয়েছে।