উজ্জ্বল রহিম

উজ্জ্বল রহিম

উজ্জ্বল রহিমের কবিতা ‘আমেরিকা: শান্তির মুখোশে এক নিখুঁত জল্লাদ’

প্রকাশিত : মার্চ ১৪, ২০২৬

সভ্যতার গ্লসি মলাট বিশ্বমঞ্চে ঝকঝক,
আর আড়ালে লুকানো আদিম ও বীভৎস লালসা।
এক পরাশক্তি তার সীমানা ছাড়িয়ে
অন্য এক সার্বভৌম জনপদে আগুনের বিষাক্ত বৃষ্টি ঝরায়,
সেই ধোঁয়া ঘরবাড়ি পোড়ায় না—
পোড়ায় আন্তর্জাতিক আইনের অক্ষরের মর্যাদা।

আমেরিকা—
এটি আজ ভূখণ্ডের নাম নয়,
এটি এখন গ্লোবাল ক্যানসার,
যা বিশ্বমানচিত্রের প্রতিটি সুস্থ কোষকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
তাদের পতাকার তেরোটি রেখা বীরত্বের ইতিহাস নয়,
ওগুলো তেরোটি চাবুকের দাগ—
যা দিয়ে বিশ্বের পিঠের চামড়া তুলে নিচ্ছে। আর সাদা তারাগুলো
ওগুলো নক্ষত্র নয়,
নিভে যাওয়া লক্ষ শিশুর চোখের মণি,
যা তাঁরা তাদের অন্ধকারের সিংহাসনে গেঁথে রাখে।

গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায়,
তা আসলে বারুদ মাখা এক বিষাক্ত টোপ।
হোয়াইট হাউস এক আধুনিক কসাইখানা
ডলারে চুবিয়ে রাখা হয় মানুষের কলিজা

আমেরিকা মানবাধিকারের তসবিহ জপে, বুঝতে হবে কোথাও
তেলের খনি দখলের নীলনকশা চূড়ান্ত।
তাদের প্রতিটি ড্রোন আকাশ থেকে নেমে আসা যন্ত্র নয়,
ওটা এক একটি মেকানিক্যাল শয়তান—
যারা বৃষ্টির বদলে ঝরায় ফুটন্ত সিসা।

সেই সিসায় যখন জনপদের স্বপ্নের দাফন হয়,
তখন ওয়াশিংটনের ডাইনিং টেবিলে শ্যাম্পেনের কর্ক খোলে।
আমেরিকা আজ এক ডিজিটাল জল্লাদ,
যে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে একেকটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে জবাই করে

মহাকালের ডায়েরিতে আমেরিকা আজ সেই কলঙ্কিত অধ্যায়,
যেখানে কলমের বদলে ব্যবহৃত হয়েছে বেয়নেট আর কালির বদলে লুণ্ঠিত রক্ত।
হোয়াইট হাউসের দেয়ালগুলো চুনকাম করা হয়নি,
ওগুলো পলিশ করা
হাজারো নাম না জানা মানুষের হাড়ের গুঁড়ো দিয়ে।
এক একটি মিসাইল যখন স্বাধীন রাষ্ট্রের বুক চিরে ঢুকে যায়,
তখন সেটা শুধু মাটি খোঁড়ে না,
খোঁড়ে মানবতার এক বিশাল গণকবর।

ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমেরিকা আজ সেই বিচারক,
যে নিজেই খুনি।
যে হাত সাম্যের,
সেই হাতই ট্রিগার টিপে ঝাঁঝরা করে জনপদ।
ক্ষমতার এই উন্মত্ত নাচন একদিন থামবে... কিন্তু তখন এক টুকরো বিবর্ণ পৃথিবী।
যেদিন মুখোশটা খসে পড়বে,
দেখা যাবে—
সে আসলে এক নিঃস্ব, নগ্ন জল্লাদ।
পৃথিবীর প্রতিটি ধূলিকণা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী।