এই প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বর্ণশিক্ষার বই ‘শিশুসাথি’
রিফাত রূপমপ্রকাশিত : এপ্রিল ২০, ২০২৬
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে আবু তাহের সরফরাজ রচিত বর্ণশিক্ষার বই ‘শিশুসাথি’। বইটি বৈজ্ঞানিক শিক্ষণ পদ্ধতিতে লেখা। বইয়ের বাজারে এত এত বর্ণশিক্ষার বই থাকতে আরও একটি বইয়ের কী দরকার, প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু ‘শিশুসাথি’র বিকল্প বর্ণশিক্ষার আর কোনো বই যে বাংলাদেশে নেই, তা বইটির পাতায় চোখ বোলালেই পাঠক স্বীকার করবেন।
শিশুকে বর্ণ চেনানো ও লেখা শেখানোর প্রচলিত পদ্ধতি বর্ণ অনুক্রমিক। এ পদ্ধতিতে রচিত বর্ণশিক্ষা বইগুলোর সমস্যা হচ্ছে:
১. বর্ণ-অনুক্রমিক (ক খ গ) পদ্ধতি শিশুর কাছে বিরক্তিকর ও অর্থহীন।
২. অপরিচিত বর্ণ দিয়ে পরিচিত জিনিস শিশুদের কাছে আবারও পরিচিত করানো হয়, যা ভাষা শেখার ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক নিয়মের পরিপন্থী। যেমন: আ- এ আম। এখানে ‘আ’ বর্ণ শিশুর অপরিচিত কিন্তু আম শব্দ কিংবা বস্তুটি পরিচিত।
৩. চাপের মাধ্যমে শেখানোর ফলে শিশুর মনে বর্ণ শেখার প্রতি ভয় ও বিতৃষ্ণা জন্ম নেয়।
৪. শিশুকে বর্ণ চেনাতে মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার মূলত চটকরারি, যাতে শিশু তার অন্তর্নিহত সৃজনশীলতা হারায়।
৫. বর্ণের ওপর হাত ঘুরিয়ে শিশুকে বর্ণ লেখা শিখতে হয়, যা শিশুর কাছে খুবই বিরক্তিকর ও কষ্টসাধ্য।
৬. ম্যাজিক স্লেট কিংবা কাগজ মসৃণ, খসখসে নয়। ফলে দাগ টানার সময় ঘর্ষণজনিত বাধার বিরুদ্ধে বল খাটাতে হয় না বলে বর্ণের আকৃতি বেঁকে যায়।
এই অবস্থার সমাধানে ‘শিশুসাথি’ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, বৈজ্ঞানিক শিক্ষণ পদ্ধতিতে শিশুর বর্ণ চেনা ও লেখা শেখানোর ক্ষেত্রে ‘শিশুসাথি’ শিশুদের প্রকৃত ভাষা-অর্জনের প্রক্রিয়ার ওপর রচিত। এই পদ্ধতিতে শিশু আনন্দের সাথে শিখবে:
১. ছবি→ বাক্য→ শব্দ→ বর্ণ, এই পদ্ধতিই শিশুকে বর্ণ চেনানোর প্রাকৃতিক পদ্ধতি।
২. শিশু নিজেই পরিচিত ছবি দেখে শব্দ এবং শব্দ থেকে বর্ণ চিনে নেবে। এখানে বাধ্যতামূলকভাবে শেখার দরকার নেই।
৩. খসখসে স্লেটে চক দিয়ে বর্ণ লেখার সময় রেখার গতিপথ হাতের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে, শিশুরা সহজে রেখা আঁকতে ও রেখার বাঁক ঘোরাতে পারবে।
৪. চক ও স্লেটের ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুর হাতে-কলমে শেখার ক্ষমতা ও আনন্দ দুটোই বাড়ে।
৫. কেবল বর্ণ লিখতে গেলে শিশু বুঝতে পারবে না, কেন তাকে এসব লিখতে হচ্ছে। কিন্তু বর্ণ দিয়ে তৈরি পরিচিতি জিনিসের নাম হিসেবে শব্দ লিখলে শিশু নতুন কিছু আবিষ্কারের আনন্দ পাবে। একই সঙ্গে বর্ণ লেখাও শিখে যাবে।
৬. ১৬টি রেখাচিহ্ন দিয়ে বাংলা বর্ণমালার সকল বর্ণ সহজেই শিশুরা লিখতে পারবে। আলাদা-আলাদাভাবে বর্ণ লেখার কষ্ট তাদেরকে করতে হবে না।
‘শিশুসাথি’র বৈজ্ঞানিক ভিত্তি:
১. ভাষা অর্জনের প্রাকৃতিক ধারায় শিশুর শেখা শুরু হয় শোনা→ বলা→ পড়া→ লেখার মাধ্যমে।
২. মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে শিশু যখন নিজের পরিচিত জগৎ থেকে কিছু শেখে (ছবি ও শব্দ), তখন তা দ্রুত ও আনন্দের সাথে শেখে।
৩. চক দিয়ে খসখসে স্লেটে বর্ণ লেখার ফলে শব্দ শোনার সাথে-সাথে চোখ ও স্পর্শের সমন্বয় শিশুর কাছে শেখার বিষয়কে দৃঢ় করে।
‘শিশুসাথি’র বিবরণ:
১. শিশুকে বর্ণ চেনানো ও বর্ণ লেখা শেখাতে অভিভাবকদের জন্য রয়েছে নির্দেশিকা।
২. বাংলা বর্ণের ৬টি ফলার সংযোজনে তৈরি শিশুর পরিচিত শব্দের সন্নিবেশ, বিষয়ভিত্তিক অলংকরণসহ।
৩. পাঠের বিষয়বস্তুর সাথে দৃষ্টিনন্দন রঙিন অলংকরণ।
৪. বইয়ের শেষে সুখপাঠ্য ছড়ার মাধ্যমে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত সংখ্যা শিশুরা চিনতে ও গণনা করতে পারবে।
৫. ‘শিশুসাথি’র মতো বৈজ্ঞানিক শিক্ষণ পদ্ধতিতে রচিত বর্ণ পরিচয়ের পূর্ণাঙ্গ আরেকটি বই বাংলাদেশে নেই।
প্রচ্ছদ: ছায়াবীথি শ্যামলিমা। প্রকাশক: সহজ প্রকাশ। ৪৮ পৃষ্ঠার গ্রসি পেপারে মুদ্রিত বইটির গায়ের দাম ২৫০ টাকা। অর্ডার করুন— https://www.rokomari.com/book/553011/shishusathi























