কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের আজ মৃত্যুদিন

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের আজ মৃত্যুদিন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোর জেলার খড়কী পাড়ায় তার জন্ম। পিতা মোহাম্মদ শাহাদত আলী এবং মাতা রাহেলা খাতুন।

আট ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর আরেক ভাই প্রখ্যাত গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। ১৯৫৩ সালে যশোর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৫৫ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন মনিরুজ্জামান।

পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ১৯৫৮ সালে স্নাতক এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭০ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে, ব্রিটিশ কাউন্সিল বার্সারী বৃত্তি নিয়ে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন। ১৯৫৯ সালে মনিরুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রথম ফেলো হিসেবে যোগ দেন।

১৯৬২ সালে প্রভাষক পদে নিয়োগ লাভ করেন ও ১৯৭৫ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৭৮-৮১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কবিতার বইগুলো হচ্ছে: দুর্লভ দিন ১৯৬১, শঙ্কিত আলোকে ১৯৬৮, বিপন্ন বিষাদ ১৯৬৮, প্রত্ন প্রত্যাশা ১৯৭৩, ভালবাসার হাতে ১৯৭৬, ভূমিহীন কৃষিজীবী ইচ্ছে তার ১৯৮৪, তৃতীয় তরঙ্গে ১৯৮৪, কোলাহলের পরে ১৯৯০, ধীর প্রবাহে ১৯৯২, ভাষাময় প্রজাপতি ১৯৯৭, ইচ্ছেমতী ১৯৭৬ এবং অযুত কলি ১৯৭৬।

অনুবাদ বই: এমেলি ডিকিসনের কবিতা ১৯৭৩, অশান্ত অশোক ১৯৭৬, সঙ্গী বিহঙ্গী ১৯৮৪ এবং অনুরণন। গীতিনাট্য হচ্ছে কর্ণফুলী ১৯৬০। কিশোরদের জন্য লিখেছেন কবি আলাওল ১৯৬০।

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের গবেষণা গ্রন্থ হচ্ছে: আধুনিক বাংলা সাহিত্য ১৯৬৫, আধুনিক বাংলা কাব্যে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক ১৯৭০, বাংলা কবিতার ছন্দ, আধুনিক কাহিনীকাব্যে মুসলিম জীবন ও চিত্র ১৯৬২, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৬৯, বাংলা সাহিত্যে বাঙালী ব্যক্তিত্ব ১৯৭৫, বাংলা সাহিত্যে উচ্চতর গবেষণা ১৯৭৮, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ১৯৭৮, সওগাত ১৯৮১, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের ইতিহাস ১৯৮১, আধুনিক বাংলা কবিতা: প্রাসঙ্গিকতা ও পরিপ্রেক্ষিত ১৯৮৫, রবীন্দ্রচেতনা ১৯৮৪, ভাষা আন্দোলন: শিক্ষায় ভাষা পরিকল্পনা ১৯৯২, মধুসূধন ১৯৯৩, নজরুল চেতনা ১৯৯৬, বাংলা কবিতা: মুক্তিযুদ্ধ বিংশ শতাব্দী ও অন্যান্য, কবির আলো: সমকালে সর্বকালে এবং বাংলাদেশের কবিতা।

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের লেখা জনপ্রিয় গানগুলো হচ্ছে: আমারও দেশেরও মাটিরও গন্ধে ভরে আছে সারা মন, প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্যের আগে, ভাষার জন্য যারা দিয়ে গেছে প্রাণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা লক্ষ প্রাণের দাম, হলুদ বাটো মেন্দি বাটো, কিছু আগেই হলে ক্ষতি কী ছিল, দুঃখ সুখের দোলায় দোলে ভব নদীর পানি, হেসে খেলে জীবনটা যদি চলে যায়, প্রেমের নাম বেদনা, ঐ দূর দূর দূরান্তে, অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান, কত যে ধীরে বহে মেঘনা, ও দুটি নয়নে স্বপনে চয়নে নিজেরে যে ভুলে যায়, কেহ করে বেচাকেনা, তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়, না যদি চাও তুমি কিছু বলো না এবং ঢাকো যত না নয়নও দু`হাতে।

১৯৭২ সালে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের স্ত্রী রাশিদা জামান। এ দম্পতির একমাত্র মেয়ে রুহিনা হাসমিন জামান করিম।