গণিতবিদ কালীপদ বসুর আজ জন্মদিন
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : নভেম্বর ২৪, ২০২৫
গণিতবিদ কালীপদ বসুর আজ জন্মদিন। ১৮৬০ সালের ২৪ নভেম্বর ঝিনাইদহ জেলার হরিশংকরপুর গ্রামে তার জন্ম। পিতা মহিমাচরণ বসু স্থানীয় হরিশংকরপুর রেজিস্ট্রি অফিসের ভেন্ডার ছিলেন।
কালীপদ বসুর শিক্ষা জীবনের সূচনা হয় গ্রামের পাঠশালায় মেধাবী শিক্ষক নছিম উদ্দিন মণ্ডলের কাছে। কালীপদর গণিতমনস্কতা সৃষ্টিতে নছিমের ভূমিকা অপরিসীম।
গ্রামের স্কুলে পাঠ শেষ করে কালীপদ বসু লর্ড রিপন কলেজে ভর্তি হন। এখান থেকে এন্ট্রান্স পাশ করে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত শাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পড়াশোনা শেষ করে তিনি ১৮৯২ সালে ঢাকা কলেজে গণিত শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এখানেই আমৃত্যু কর্মরত ছিলেন। তিনি কলকাতায় কে. পি বসু পাবলিশিং কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন।
অধ্যবসায়, পরিশ্রম, মেধা ও প্রজ্ঞায় তিনি প্রতিষ্ঠা অর্জন করেন ও প্রভূত অর্থের মালিক হন। ১৯০৭ সালে হরিশংকরপুরের নবগঙ্গা নদীর তীরে এক একর জমির ওপর ১৭ কক্ষ বিশিষ্ট প্রাসাদোপম দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন।
কর্মরত অবস্থায় প্রবাসে থেকেও তিনি নিজ গ্রামের উন্নতি ও সংস্কারসাধনে উদ্যোগী ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সদালাপী, অমায়িক ও অনাড়ম্বর ছিলেন।
কালীপদ বসু ১৯০২ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় ম্যাথামেটিক্স কনফারেন্সে `হাউ টু টিচ ম্যাথামেটিক্স` প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন। তিনি তখনকার প্রচলিত `কড়াকিয়া` ও `গণ্ডাকিয়া` পদ্ধতি বর্জন করে দশমিক পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেন।
অ্যালজ়েব্রা মেড ইজ়ি (১৮৯০), সহজ বীজগণিতসহ (অ্যালজ়েব্রা মেড ইজ়ির বাংলা সংস্করণ, প্রকাশকাল ১৯৩৭) বেশ কিছু গণিতশাস্ত্রের পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন।
কালীপদ বসু ১৮৮২ সালে হান্টার কমিশন সুপারিশকৃত ‘আধুনিক এলজাবরা’ (ইউরোপীয় সংস্করণ) বইটির অধ্যয়ন ও অনুশীলনের পথকে সুগম, প্রাঞ্জল ও সহজ করে তোলেন।
তিনি অসংখ্য নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে অঙ্কশাস্ত্রের কলেবর বৃদ্ধি ও উৎকর্ষ সাধন করেন। অধ্যাপনার সাথে সাথে তিনি বীজগণিত ও জ্যামিতি শাস্ত্রের ওপর গবেষণা চালিয়ে যান।
তার ঐকান্তিক সাধনায় ‘এ্যালজেব্রা মেড ইজি’ ‘মর্ডান জিওমেট্রি’ , ‘ইন্টারমিডিয়েট সলিড জিওমেট্রি’ প্রভৃতি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। প্রকাশনা শিল্পের প্রতিও তার মনোযোগ আকৃষ্ট হয়।
কালীপদ বসু ১৯১৪ সালের নভেম্বর পার্নিসিয়াস ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকাতে মারা যান। তার মৃতদেহ ঝিনাইদহে পৌঁছালে সকল অফিস আদালত বন্ধ হয়ে যায়।
শোকাভিভূত হাজার হাজর মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধায় নবগঙ্গা নদীর তীরে উপস্থিত হয়। ঝিনাইদহ শহরে তার নামে একটি সড়কের নাম `কে. পি. বসু সড়ক` নামকরণ করা হয়েছে।
কালীপদ বসু লিখিত বইগুলো হলো: অ্যালজ়েব্রা মেড ইজ়ি (১৮৯০), সহজ বীজগণিত (অ্যালজ়েব্রা মেড ইজ়ির বাংলা সংস্করণ, প্রকাশকাল ১৯৩৭), মডার্ন জিওমেট্রি, ইন্টারমিডিয়েট সলিড জিওমেট্রি ও ম্যাট্রিকুলেশন জিওমেট্রি (১৯৩৩)।























