জকসুতে ভিপি, জিএসসহ ১৬ পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থীদের জয়
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) এই শিক্ষার্থী সংসদের ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই জয় পেয়েছে এই প্যানেলের প্রার্থীরা।
অপর দিকে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল ৫টি পদে জয় পেয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টায় জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও হল সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ পদেই জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির। জকসুর প্রথম নির্বাচনেও অধিকাংশ পদে জয় পেল তারা।
জকসুতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আবদুল আলীম আরিফ। এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২৩ ভোট। সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়ী হয়েছেন মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। এই পদে আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট।
এছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুরনবী (৫ হাজার ৪০০ ভোট), শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল (৫ হাজার ৫২৪ ভোট), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোছা. সুখীমন খাতুন (৪ হাজার ৪৮৬ ভোট), স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ (৪ হাজার ৪৭০ ভোট), আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক (৪ হাজার ৬৫৪ ভোট), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার (৪ হাজার ৪০১ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক পদে জর্জিস আনোয়ার নাইম (২ হাজার ৪৬৭ ভোট) এবং সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান (৩ হাজার ৪৮৬ ভোট) জয়ী হয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল জয় পেয়েছে ৩টি সম্পাদকীয় পদে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম মিয়া ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট, পরিবহন সম্পাদক পদে মাহিদ হোসেন ৪ হাজার ২৩ ভোট এবং পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল রাকিব ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্যের ৭টি পদের মধ্যে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন ৫ জন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের ফাতেমা আক্তার (অওরিন), ৩ হাজার ৮৫১ ভোট। একই প্যানেলের আকিব হাসান ৩ হাজার ৫৮৮ ভোট, শান্তা আক্তার ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট, জাহিদ হাসান ৩ হাজার ১২৪ ভোট ও মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক ২ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
এছাড়া ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলে দুজন বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন মোহাম্মদ সাদমান আমিন (৩ হাজার ৩০৭ ভোট), ইমরান হাসান ইমন (২ হাজার ৬৩৬ ভোট)। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হল সংসদে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ভিপি পদে মোছা. জান্নাতুল উম্মি ৫৫০ ভোট, জিএস পদে সুমাইয়া তাবাসসুম ৫৭১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। জকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থনে ক্যাম্পাসে আনন্দমিছিল করা হয়। এ সময় ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওএমআর যন্ত্রে ভোট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে দুটি যন্ত্রে দুই রকম তথ্য দেখানোর কারণে গণনা স্থগিত রাখা হয়। এরপর প্রার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা করে প্রথম ২৭৮টি ব্যালট পেপার হাতে গুনে পরে যন্ত্রে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ওই ব্যালটগুলো হাতে গোনার পর দিবাগত রাত তিনটার দিকে যন্ত্রে যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হলে আবারও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পরে আবার ফল গণনা শুরু করতে ভোর হয়ে যায়।
























