করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৪৫৮০৫ ২৫২৩৩৫ ৪৮৮১
বিশ্বব্যাপী ৩০৩৭৫৩৯৭ ২২০৬০০১৬ ৯৫০৯৮৮

নিঃশঙ্কচিত্ত

একাদশ দৃশ্য

রাহমান চৌধুরী

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২০

(দারা লেখালেখি শেষ করে উঠে দাঁড়িয়েছে। তার হাতে একটা খামও আছে। প্রবেশ করে ইন্সপেক্টর। অপরাধীর মতো এসে সে দাঁড়িয়ে থাকে। দারা তার দিকে তাকিয়ে বিনয়ের হাসি হাসে।)
দারা: ইন্সপেক্টর, তাহলে আমার সময় শেষ? এখন যেতে হবে এইতো? আমি প্রস্তুত। (মাথা নিচু করে থাকে ইন্সপেক্টর) এই লেখাগুলো নতুন বিপ্লবীদের জন্য রেখে যাচ্ছি। যদি সম্ভব হয় তাঁদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন। তাঁদের বহুকিছু জানবার আছে। তাঁদেরকে আমারও বহুকিছু বলবার আছে। এই লেখাগুলোর মধ্যেই তা আমি বলেছি। অপনার দেয়া বইগুলোও এসব লেখা লিখতে আমায় সাহায্য করেছে। কি, লেখাগুলো পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন তো?
ইন্সপেক্টর: হ্যাঁ, দারা বাহাদুর সাহেব। দরকার হলে আমার টাকা দিয়ে আমি এসব প্রকাশ করে রেখে যাব। কথা দিচ্ছি। আমাকে বিশ্বাস করুন।
দারা: যদি তা করেন বিপ্লবের উপকার করা হবে। ইন্সপেক্টর, আমাদের দলের মধ্যে বহু বেনোজল ঢুকে পড়েছে। ভয়ানক অন্ধকারের দিকে দল এগিয়ে যেতে পারে।
ইন্সপেক্টর: কেন সে কথা বলছেন?
দারা: বিপ্লবী গোপন দলে সামান্যতম গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ নেই। কেন্দ্রের নির্দেশ মতো সকলকে কাজ করতে হচ্ছে। নির্দেশের বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন তোলা সেখানে নিষিদ্ধ। তাতে দ্রুত কাজ আগায় বটে কিন্তু কর্মীদের মনে নানা প্রশ্ন ও ক্রোধ তৈরি হতে থাকে যা আমরা জানতে পারি না।
ইন্সপেক্টর: গণতন্ত্র চর্চার একটা ধারা তৈরি করছে না কেন? তাহলেই তো...
দারা: গণতন্ত্র চর্চা করতে গেলে দেখা যাবে, দল আলোচনায় বসলো এবং সারারাত আলোচনা করেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে পারল না। গণতন্ত্র চর্চা কখনো কখনো একটি বিরক্তিকর ব্যাপার। শুধু সিদ্ধান্ত গ্রহণ নয়, সিদ্ধান্ত পালনের ক্ষেত্রেও দেখবেন অনেক সমস্যা। বহুজনই নানা অজুহাতে দায়িত্ব এড়িয়ে যাবে। যারা দায়িত্ব নেবে দেখবেন তারাও দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে না। গুপ্ত দলে সে সুযোগ নেই। যাকে যে দায়িত্ব দেয়া হবে সে তা পালন করতে বাধ্য। সবাই জানে দায়িত্ব পালন না করার পরিণাম কী।
ইন্সপেক্টর: গণতান্ত্রিক দলের একজন কর্মী যেখানে দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে বলতে পারে মাথা ব্যথার কারণে দায়িত্ব। পালন করা সম্ভব হয়নি। কেউ পেট ব্যথার অজুহাত দেখাতে পারে। কিন্তু আপনাদের দলে দায়িত্ব পালনটাই কর্মীর বেঁচে থাকার একমাত্র শর্ত।
দারা: বিশ্বাসঘাতকতার সম্ভাবনাও তাই সমান। দলের কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলায় হাফিয়ে উঠে একজন সরকারী ছত্রছায়ায় দল ছেড়ে চলে আসতে পারে। দলের গোপন খবর ফাঁস করে দিতে পারে। বিপ্লবী দলে যারা কাজ করতে আসে তারা সব কিছু জেনে আসে না। নানা ভুল স্বপ্ন নিয়ে তারা এখানে যোগ দেয়। বিপ্লবী দলের সবাই বিপ্লবী নয়।
ইন্সপেক্টর: দলের মধ্যে গণতন্ত্র না থাকার সমস্যাটা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু দল মারাত্মক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এ কথা কেন বলছেন।
দারা: নিজেদের কথাগুলো বলতে না পারায় বিভিন্ন জনের মধ্যে নানা ক্ষোভ জমে আছে। সেই ক্ষোভ জমতে জমতে দল হঠাৎ ভাঙতে শুরু করবে। নেতৃত্বের কোন্দলে দল নানা উপদলে বিভক্ত হবে। তখন শ্রেণীশত্রু খতমের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি দলের নেতা কর্মীদের হত্যা করতেই তারা বেশি আগ্রহী হবে। নিজেরা নিজেরা লড়াই করতে গিয়ে কখনো কখনো টিকে থাকার জন্য সরকারের সমর্থন গ্রহণ করবে। সরকারও ঠাণ্ডা মাথায় দলের ভিতরকার এইসব অন্তর্দ্বন্দ্বকে ইন্ধন জোগাবে এবং এক পক্ষের বিরুদ্ধে আর এক পক্ষকে সাহায্য সহযোগিতা দেবে। এইভাবে ধীরে ধীরে একটি বিপ্লবী দল সরকারী প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
ইন্সপেক্টর: কী বলছেন আপনি? সরকার আপনাদের দলকে নিয়ন্ত্রণ করবে? কৌশিকের মতো, আপনার মতো বিপ্লবীরা যেখানে রয়েছে?
দারা: ঠিকই বলছি, বললাম যে সবাই সত্যিকারের বিপ্লবী নয়। অতিবিপ্লবী নেতৃত্বের কোন্দলে দলের বিপ্লবী চেতনা হারিয়ে যাবে। লুটপাটের আখড়া হয়ে উঠবে দলগুলো। সরকার  ঘটনাগুলোকে মদত জোগাবে। সরকার জনগণকে বোঝাতে চাইবে, বিপ্লবী দল মানেই কিছু ডাকাত, কিছু চাঁদাবাজ লুটপাটকারী। বহুলোকের নিঃস্বার্থ প্রাণ দেয়া তখন অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
ইন্সপেক্টর: যাই বলুন, আপনাদের দলে আমরা বহু সাহসী এবং ত্যাগী কর্মীদের দেখেছি। যাদের সাহসের তুলনা হয় না। যারা নানা অত্যাচারেও মাথা নত করেনি। তারা কি বিশ্বাসঘাতকতা করবে?  
দারা: দলের বহু ছেলে কর্মে দক্ষ কিন্তু তাঁদের চিন্তার জগৎ পরিষ্কার নয়। সঠিক বিপ্লবী চিন্তা ছাড়া বিপ্লব করা সম্ভব নয়। বিপ্লবের সঠিক চিন্তা বাদ দিয়ে হাতে অস্ত্র তুলে নেয়া হলে যে-কোনো সময় তা সন্ত্রাসে রূপান্তরিত হতে পারে। ভয়টা আমার সেখানেই।
ইন্সপেক্টর: দারা বাহাদুর, আমাকে বলুন আমি কীভাবে এ ব্যাপারে আপনাদের দলকে সাহায্য করতে পারি। বিশ্বাস করুন বিপ্লবের প্রয়োজনে আমি কিছুটা কাজে লাগতে চাই।
দারা: বিপ্লবের একজন শত্রুও তাহলে বিপ্লবের একজন ভাল বন্ধু হতে পারে? পৃথিবীতে সবকিছুই পরিবর্তনশীল। মানুষের চিন্তাও। এই লেখাগুলো প্রকাশ করার যে দায়িত্ব নিয়েছেন তা যদি সত্যিই পালন করেন, বিপ্লবের জন্য বড় কাজ হবে। দল সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতার কথা এখানে আমি যতোটা সম্ভব বলে গেছি।
ইন্সপেক্টর: নিশ্চিত থাকুন, আপনার লেখার প্রতিটি অক্ষর আমি প্রকাশ করে রেখে যাব। আর কী করবার আছে বলুন?
দারা: হ্যা, আর একটি কাজ। এই চিঠিটা আপনার মেয়ের জন্য, যেদিন আপনার মেয়ের বয়স সতেরো পার হবে এই চিঠিটা তাকে দেবেন। আপনার মেয়ের সতেরোতম জন্মদিনে এটা আমার উপহার।
ইন্সপেক্টর: দারা বাহাদুর, আপনাকে আমি বুঝে উঠতে পারছি না। কী করে এখনো এতো অবিচল শান্ত আছেন আপনি? আমার স্ত্রী চেয়েছিল আপনার সাথে একবার দেখা করতে আসবে। আমি না করেছি। আমি জানি আপনার মৃত্যু কিছুতেই সে সহ্য করতে পারবে না। কান্নাকাটি করবে। তাহলে সকলের সন্দেহের মধ্যে পড়ে যাব আমি।
দারা: চিঠি ও লেখাগুলো কোথাও যত্ন করে রেখে দিন। না হলে আপনাদের কর্তারা হয়তো পরে কখনো তা কেড়ে নেবে।

(ইন্সপেক্টর চিঠি ও লেখাগুলো ড্রয়ারে রাখে।)
ইন্সপেক্টর: এবার আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পৃথিবীতে অনেকদিন সুন্দর সময় কাটিয়েছি। এবার বিদায়ের পালা। শেষ দিনগুলোতে আপনার স্ত্রীর অনেক সেবা যত্ন পেয়েছি। তাকে আমার শুভেচ্ছা জানাবেন। ডাকুন আপনার লোকদের।
ইন্সপেক্টর: খুনী, আমি একজন খুনী। একজন বিপ্লবীকে আমি বাঁচাতে পারছি ন। ক্ষমা করবেন, দারা বাহাদুর আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি একজন খুনী।
(হতাশায় ইন্সপেক্টর টেবিলের ওপর মাথা রেখে বসে পড়ে।)
দারা: ইন্সপেক্টর, নিজের ঘাড়ে দোষ নিচ্ছেন কেন? এখানে আপনার কিছুই করবার নেই। (ইন্সপেক্টর মাথা তুললে) আপনাকে এখন শক্ত হতে হবে। নাহলে সরকার আপনাকে সন্দেহ করবে। রাষ্ট্রের কাছে সন্দেহ মুক্ত থেকে বিপ্লবকে আপনার সাহায্য করে যেতে হবে।
ইন্সপেক্টর: বড় কষ্ট হচ্ছে, বড় কষ্ট হচ্ছে আপনার জন্য। বিপ্লবের জন্য অকাতরে প্রাণ দিতে যাচ্ছেন, কিন্তু দেশ-জাতির কাছে কিছুই পেলেন না। (ইন্সপেক্টরের দু চোখ জলে ভরে আসে) আমার সন্তানকে আপনি রক্ষা করলেন, আর আমি আপনাকে বধ্য ভূমিতে পাঠাচ্ছি।
দারা: খুনী বন্ধু আমার, আপনার চোখে তো দেখছি জল। আমার মৃত্যুতে আমারই খুনীর চোখে জলের ধারা নেমেছে, একজন বিপ্লবীর জন্য এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী হতে পারে? মৃত্যুর আগে আমার জন্য আপনার চোখের দুফোটা জল পুরস্কার হিসাবে নিয়ে গেলাম। আর মন খারাপ করবেন না।
ইন্সপেক্টর: পৃথিবীতে আপনার চেয়ে ভাল মানুষ আমি দেখিনি। বাকি জীবন আপনি আমার হৃদয়ের, চিন্তার সকল কর্মের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। আপনার মৃত্যু নেই।
দারা: সময় পার হয়ে যাচ্ছে ইন্সপেক্টর, আপনার কাজ সমাধা করুন। কাউকে কোন রকম সন্দেহের অবকাশ দেবেন না। যান আপনার লোকদের ডেকে আনুন। (ইন্সপেক্টর বাইরে যায়। সেকেন্ড অফিসার ও দুজন সেপাই তার সঙ্গে কক্ষে প্রবেশ করে। ইন্সপেক্টরের নির্দেশে সেপাইরা দারার হাত-পায় শেকল পড়িয়ে দেয়। কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেধে ফেলে।) ইন্সপেক্টর, এবার কি তবে আমায় যেতে হবে?
ইন্সপেক্টর: (মাথা নত করে) হ্যাঁ, দারা বাহাদুর সাহেব।
দারা: বিপ্লব সকলের মুক্তি বয়ে আনুক। বিপ্লব সকল শোষণ-বঞ্চনা থেকে মানুষকে মুক্ত করুক। বিপ্লব মানুষে মানুষে সকল বিভেদ দূর করুক। হ্যাঁ, আমাকে নিয়ে চলুন।

(দারা দু পা এগিয়ে যায়। সেকেন্ড অফিসার মাথা নত করে থাকে তার সামনে অনেকক্ষণ। সেপাইরা সসম্মানে দারাকে নিয়ে কক্ষ ত্যাগ করে। ইন্সপেক্টর নিজের কক্ষে দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে থাকে। কী মনে করে তারপর তার কন্যাকে লেখা দারার চিঠিটা বের করে পড়তে থাকে। নেপথ্যে দারার কণ্ঠ ভেসে আসে।)
চিঠির কথা: তোমার ঠিক সতেরোতম বছর বয়সে যখন এ চিঠি তোমার হাতে পৌঁছুবে তখন আমার হাড়-মাংস সবকিছু মাটিতে মিশে যাবার কথা। কিন্তু চিঠির মধ্যে দিয়ে কিছু সময়ের জন্য হলেও আমি আবার বেঁচে উঠবো, প্রিয় কন্যা আমার। তোমাকে কন্যা বলেই সম্বোধন করলাম। বহু বছর আগে যেদিন ঘুমন্ত তোমাকে আমার বুকের মধ্যে করে তোমার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে এনেছিলাম, আমি অনুভব করছিলাম আমি নিজের কন্যাকে ফিরিয়ে এনেছি। বুকের মাঝে ঘুমন্ত তোমাকে দেখতে দেখতে বারবার মনে  হয়েছিল ভবিষ্যতের এক বিপ্লবীকে আমি বহন করে  চলেছি। নিজের মৃত্যু তখন আমার কাছে অর্থবহ হয়ে উঠল। মনে হলো, আমার মৃত্যুর বিনিময়ে ভবিষ্যতের এক বিপ্লবীকে পৃথিবীতে রেখে যাচ্ছি।

(ইন্সপেক্টর চিঠি পড়তে পড়তে ‘ফায়ার’ শব্দটি শোনা যায় সঙ্গে সঙ্গে কতোগুলি গুলির শব্দ ভেসে। চিঠি পড়া বন্ধ করে ইন্সপেক্টর কানে হাত দিয়ে বসে পড়ে। দারাকে হত্যা করা হয়েছে। ধীরে ধীরে আলো নিভে গিয়ে যায়, পরক্ষণে তীক্ষ্ণ একটা আলোর গোলকের মধ্যে ইন্সপেক্টরের সতেরো বছরের কিশোরী মেয়েটাকে দেখা যায় চিঠিটা পাঠ করছে। কন্যার মাথার পেছনে ইনসপেক্টরের একটা ছবি।)
সতেরো বছরের কিশোরী আজ তুমি। তোমার মতো কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে আমি মৃত্যুর আগে নানা স্বপ্ন দেখে গেছি। তোমরা চারদিকের পঁচা-গলা সমাজটাকে পাল্টাতে তৈরি হচ্ছ। নতুন পৃথিবী সৃষ্টির জন্য তোমরা প্রস্তুতি নিচ্ছ। তোমাদের চারদিকে সারা পৃথিবীতে যে লক্ষ-কোটি মানুষ না খেয়ে আছে তাদের ভাগ্য পাল্টাবার জন্যই তোমরা তোমাদের সকল শিক্ষা কাজে লাগাচ্ছ। তোমরা চোখ-কান বন্ধ করে নেই। তোমরা সব দেখছ, সব শুনছ। লক্ষ কোটি বিপ্লবীদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার দায়িত্ব তোমরা নিয়েছ। লক্ষ কোটি বিপ্লবীরা মানুষের মুক্তির জন্য যেভাবে প্রাণ দিয়েছে তোমরাও সেই পথেই নিজেকে উৎসর্গ করবে। কিন্তু কন্যা আমার, তোমরা অন্ধকারে ঝাঁপ দেবেন না।

হাজার হাজার বছরের মানুষের ইতিহাসকে আগে বুঝতে হবে। মানুষের দীর্ঘদিনের ইতিহাসটাকে জানতে হবে, তার দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসের সাথে পরিচিত হতে হবে। হাজার হাজার বছরের ইতিহাসের মধ্যে দিয়েই মানুষের আবেগ অনুভূতির জগৎ তৈরি হয়েছে। মানুষের সেই আবেগ অনুভূতিকে বুঝতে হবে। যাদের ভাগ্য পাল্টাতে চাও তাদের আবেগ অনুভুতি না বুঝলে তো চলবে না। মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের ভিতর দিয়েই তার আবেগ অনুভূতির জগৎ তৈরি হয়েছে। মানুষের আবেগ অনুভূতিও তার ইতিহাসের অংশ। মানুষের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসের কারণ আমাদের বুঝতে হবে। শত্রুকে চরমভাবে আঘাত করে নিশ্চিহ্ন করতে হবে এবং শত্রুর জন্যও হৃদয়ের ভিতরে ভালবাসা অনুভব করতে হবে। কারণ কোন মানুষই খারাপ হয়ে জন্মায় না। ইতিহাসই এক এক মানুষকে এক এক পথে নিয়ে যায়। শত্রুদের চিন্তা ভাবনা ভাববাদের শেকলে বন্দী, তাদের বন্দী-ভাবনাকে মুক্তি দিতে পারলে দেখবে তারাও আমাদের বন্ধু হয়ে উঠবে। শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে হবে এবং শত্রুকে বন্ধু করে তুলবার জন্য কাজ করতে হবে। প্রিয় কন্যা আমার, বিদায়। শেষ