পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি, জানা গেল কারণ
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জুলাই ২৪, ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, তিন দু’একদিনের মধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বঙ্গভবন ত্যাগ করবেন। পদত্যাগের পর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন।
সূত্র জানায়, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এ-সংক্রান্ত প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তিনি দেশে ফেরার পর বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি এরই মধ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কয়েকজন কর্মকর্তা এরই মধ্যে ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রপতি অধস্তন কর্মকর্তাদের চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসায় অবস্থান করবেন এবং পরে চিকিৎসা ও বিশ্রামের জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনকারী আরেক কর্মকর্তা বলেন, “স্যার দু’দিন আগে জানিয়েছেন যে, ওরা আমাকে চলে যেতে বলেছে। হয়তো আমার চলে যেতে হবে। তোমরা চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছেড়ে যার যার মতো করে চলে যাও।”
কী কারণে হঠাৎ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে? জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গুঞ্জন রয়েছে, লন্ডনে অবস্থানকালে অতি গোপনীয়তা রক্ষা করে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেন তিনি।
১৮ মে দেশে ফেরার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এ তথ্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পেছনে মূলত দুটি বিষয় কাজ করতে পারে। একটি হচ্ছে, লন্ডনে উল্লিখিত গোপন আলাপ, অন্যটি এ বছরের ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া।
সব মিলিয়ে সরকারও মনে করছে রাষ্ট্রপতিকে এই পদে আর রাখা সমীচীন হবে না। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অফিশিয়াল বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন।
সর্বশেষ তিনি বলেছিলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।























