পাকিস্তানে ব্যাংক-থানা দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষে নিহত ১২
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানের খারান শহরে সরকারি ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় চালানো একাধিক হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে অন্তত ১২ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত-পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ১৫ থেকে ২০ সন্ত্রাসী খারান শহরে একযোগে হামলা চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল খারান সিটি পুলিশ স্টেশন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং হাবিব ব্যাংক লিমিটেড।
হামলার সময় সন্ত্রাসীরা ব্যাংক দুটি থেকে প্রায় ৩৪ লাখ রুপি লুট করে। তারা পুলিশ স্টেশনে জিম্মি নেওয়ারও চেষ্টা চালায়, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর অভিযানে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
আইএসপিআর জানায়, খারান ও আশপাশের এলাকায় ক্লিন-আপ বা মপ-আপ অভিযান চলমান রয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) এবং ফেডারেল সরকারের অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাকিস্তান সরকার বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, ভারত একটি বিস্তৃত হাইব্রিড যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে বিশেষ করে বেলুচিস্তানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “অভিযানে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে। তাকে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৩টি স্থানে প্রাথমিক সংঘর্ষে ৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়, পরে অন্যদেরও বিভিন্ন অভিযানে নিষ্ক্রিয় করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, সন্ত্রাসীরা আদর্শিক তৎপরতার পাশাপাশি এখন সংগঠিত অপরাধ যেমন: ব্যাংক ডাকাতির দিকে ঝুঁকছে। ওরা রাস্তায় নামলে পরাজিত হবে, আর লুকিয়ে থাকলে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে খুঁজে বের করা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বেলুচিস্তানের দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাঙ্গানের মতো কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “নিয়ন্ত্রণহীন ফোরজি নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।”
একই সঙ্গে তিনি ৩০০ কোটি রুপির একটি প্রাদেশিক প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন, যার আওতায় বেলুচিস্তানজুড়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করা হবে, পাশাপাশি অপব্যবহার রোধে নজরদারিও বজায় রাখা হবে। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
























