ফিলিস্তিনি শিশুরা ইজরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু: জাতিসংঘ

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জুন ২৯, ২০২৬

ইজরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে গাজা ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন। গত সপ্তাহে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইজরায়েল যে গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে, সে বিষয়ে গত বছরেই নিশ্চিত ছিল তদন্ত কমিটি। কিন্তু বর্বর ইজরায়েলিদের নৃশংসতা সেখানেই শেষ হয়নি। তারা ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে গণহত্যার শিকার হচ্ছে শিশুরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের গণহত্যামূলক উদ্দেশ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলীধর বলেন, “২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইজরায়েলি হামলায় শিশুরা নিহত ও গুরুতর আহত হচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনি শিশুদের যে সুরক্ষা দেওয়ার কথা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত— দুটিকেই ইজরায়েল ধারাবাহিক ভাবে উপেক্ষা করছে।

ইজরায়েল বারবার গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনেরও তীব্র সমালোচনা করেছে তারা। ইজরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে আগের প্রতিবেদনগুলোর মতোই চরম পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারপত্র বলে অভিহিত করেছে।

জাতিসংঘে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, “এটি জাতিসংঘের নথির ছদ্মবেশে রাজনৈতিক অপবাদ। হামাসের অপরাধ, ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড, পণবন্দি রাখা এবং শিশু ও সাধারণ মানুষকে হামাসের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার বদলে কমিশন শুধু ইজরায়েলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইজরায়েল যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে, ব্যাপক হামলা চালানো এবং মানবিক ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত সাহায্য প্রবেশে বাধা দেওয়া— তা ফিলিস্তিনি শিশুদের বেঁচে থাকা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে।

মিশনের দাবি, ইজরায়েল পরিকল্পিতভাবে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রজননস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি— দুই ধরনেরই ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে।

আমেরিকার মধ্যস্থতায় ২০২৫-এর অক্টোবরে ইজরায়েল ও হামাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়। কিন্তু তার ৮ মাস পরও ইজরায়েল প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, তার মধ্যে ২৫০টিরও বেশি শিশু।