বার্ষিক পরীক্ষার মধ্যে শিক্ষকদের কর্মবিরতি, ক্ষতিতে শিক্ষার্থীরা
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫
সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। বছরের শেষ প্রান্তে এসে দুটি বড় স্তরের শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে অনেক অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষার এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের চরম ক্ষতির মুখে ফেলছে।
রাত পৌনে ১০টার দিকে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাময়িকভাবে তাদের কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। আজ বুধবার থেকে মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিপরীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘোষণা দিয়েছে, তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির বলেন, “বার্ষিক পরীক্ষার সময় কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলছে। করোনার দীর্ঘ বন্ধে সৃষ্ট ক্ষত এখনো পুষিয়ে ওঠেনি। শিক্ষকরা দাবিতে আন্দোলন করতে পারেন, তবে পরীক্ষাকালের মতো স্পর্শকাতর সময়ে নয়।”
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতি–সংক্রান্ত ৩ দফা দাবিতে ২৭ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করছে। সোমবার থেকে তারা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন শুরু করে। মঙ্গলবারও দেশের বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ নামের প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন বলেন, “আজ বুধবার আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে হাজিরা দেব এবং কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করব।”
প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবির মধ্যে রয়েছে: সহকারী শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তত ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্তির জটিলতা দূর করা এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকেরা ১৩তম গ্রেডে রয়েছে, যার শুরুর মূল বেতন ১১ হাজার টাকা।
অন্যদিকে ৪ দফা দাবিতে সোমবার থেকে কর্মবিরতিতে ছিল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করে নবম গ্রেডসহ পদসোপান প্রকাশ, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ–পদায়ন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে বকেয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান এবং ২০১৫ সালের আগের মতো ২ থেকে ৩টি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন-সুবিধা পুনর্বহাল।
কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবারও রাজধানীর বহু সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। ফার্মগেটের গবর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুলসহ পুরোনো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বেশির ভাগেই পরীক্ষা বন্ধ ছিল। এতে অভিভাবকদের ক্ষোভ আরও বাড়ে।
তবে রাতে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি জানায়, শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর মানসিক চাপ বিবেচনায় কর্মবিরতি স্থগিত করে তারা আবার পরীক্ষা কার্যক্রমে ফিরছেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য দাবি সমাধানের আহ্বান জানায়।
ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক স্তরে কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় দুটি বড় স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো সংকটময় অবস্থায় রয়েছে।























