শবে কদরেও মুসল্লিশূন্য মসজিদে আকসা, বন্ধ ইতিকাফ

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : মার্চ ১৭, ২০২৬

রমজানের শেষ দশ দিন আল-আকসা মসজিদ চত্বরে তাঁবু খাটিয়ে ইতিকাফ করা ফিলিস্তিনিদের ঐতিহ্য। কিন্তু এবার তারা সেই ঐতিহ্য পালন করতে পারেনি। কারণ, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মসজিদটি অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে।

ইরান-ইজরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জরুরি অবস্থার অজুহাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জর্ডান পরিচালিত ওয়াকফ কমিটির কর্তৃত্বে হস্তক্ষেপ করে মুসল্লিদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইজরায়েল বাহিনী।

২৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি তরুণী শায়মা আবেদ বলেন, “পাঁচ বছর ধরে আমি আল-আকসায় ইতিকাফ করে আসছি। সেখানকার আধ্যাত্মিক পরিবেশ আমাকে বারবার টেনে নিয়ে যেত। আল-আকসা ছিল এক মিলনমেলা। জেরুজালেম, পশ্চিম তীর কিংবা দূর দেশ তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা মুসলিমদের সঙ্গে গড়ে উঠত ভ্রাতৃত্বের অনন্য বন্ধন। লাইলাতুল কদরের সেই জনসমুদ্র আজ যেন কেবল স্মৃতিতেই আটকে আছে।”

২১ বছর বয়সী তায়মা আবু লায়লা বলেন, “শুধু এবারই নয়, ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। আগে যেখানে ইবাদতে প্রশান্তি ছিল, এখন সেখানে সর্বত্র অস্ত্রধারী সেনার উপস্থিতি। ইবাদতের মাঝেও মানুষকে ভয়ে থাকতে হয়, কখন যে দমন-পীড়ন শুরু হয়!”

তিনি আরও বলেন, “আল-আকসায় রমজানের শেষ দশক ছিল যেন ‘পৃথিবীর জান্নাত’। কেউ কুরআন তিলাওয়াতে মগ্ন, কেউ নির্জনে দোয়া করছে, আবার কেউ দলবেঁধে ইসলামের আদর্শ নিয়ে আলোচনা করত। সেসব দৃশ্য আজ যেন মুহূর্তেই মুছে গেছে।”

জেরুজালেমের রাস আল-আমুদ এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী জোহদি আলিয়ান বলেন, “আমার ঘরের জানালা থেকেই দেখা যায় ‘ডোম অব দ্য রক’-এর সোনালি গম্বুজ। ২০০০ সাল থেকে আমি নিয়মিত ইতিকাফ করে আসছি। আল-আকসা বন্ধের খবরটি আমার কাছে প্রিয়জন হারানোর মতোই বেদনাদায়ক।”

তিনি আরও বলেন, “এখন আমরা বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশের মসজিদে ইবাদত করি, আর দূর থেকে আল-আকসার দেয়ালের দিকে তাকিয়ে অঝোরে কাঁদি। আল-আকসায় ইবাদত মানে যেন আসমানের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা। সেখানে আল্লাহর সঙ্গে যে গভীর সংযোগ অনুভব করা যেত, তা অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। আল-আকসাহীন রমজান যেন শুধু সময় পার করার নামমাত্র।”