করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৪৫৮০৫ ২৫২৩৩৫ ৪৮৮১
বিশ্বব্যাপী ৩০৩৭৫৩৯৭ ২২০৬০০১৬ ৯৫০৯৮৮

বুরহান উদ্দিনের প্রবন্ধ ‘ইসলামে রাজনীতি’

প্রকাশিত : জুন ০৫, ২০২০

ইসলামে রাজনীতি আছে কি নাই, থাকলেই বা কিভাবে আছে— এই বিতর্ক অনেক পুরাতন হলেও সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে ১৯২৪ সালের পরে তথা উসমানি খিলাফতের পতনের পরে। উসমানি খিলাফত ছিল সর্বশেষ ইসলামি রাষ্ট্র এবং এর আইন-কানুন, সমাজনীতি, রাজনীতি ও অর্থনীতি ছিল ইসলামি মূলনীতিগুলোর আলোকে।

ফরাসি বিপ্লব ও ইউরোপীয় রেনেসাঁর প্রভাবে ও অযোগ্য কিছু সুলতানের কারণে উসমানি খিলাফত তাঞ্জিমাত ফরমান ও আরো অন্যান্য সংস্কারের মাধ্যমে ইউরোপের কিছু আইন কানুন আমদানি করলেও ১৮৭৬ সালে উসমানি খিলাফতের সবচেয়ে সফল খলিফা সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ হানের ক্ষমতা করেই সেই সকল সংস্কারকে তিনি বাতিল করেন এবং প্রখ্যাত আলিম ও দার্শনিক জাওদাত পাশার নেতৃত্বে সেই সময়ের সমগ্র উম্মাহর শ্রেষ্ঠ আলিমদের নিয়ে তৈরি মাজাল্লা-ই-আহকামে-আদলিয়া উসমানি খিলাফতের সবচেয়ে বড় আইনের গ্রন্থ হিসেবে মর্যাদা দেন এবং সমগ্র মুসলিম দেশে পাঠিয়ে দেন।

তিনি যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন ততদিন এর আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন এবং বলতে গেলে উসমানি খিলাফতের পতনের আগের দিন পর্যন্তও এটাই ছিল উসমানি রাষ্ট্রের আইনের গ্রন্থ। সুলতান আব্দুল হামিদ হান ক্ষমতায় গ্রহণ করেই মুসলিম উম্মাহর মধ্যকার উম্মাহর চেতনাকে জাগ্রত করার জন্য ব্যাপক কাজ করেন। জাপান থেকে শুরু করে অ্যামেরিকা ও ল্যাটিন অ্যামেরিকা পর্যন্ত সকল দেশে বড় বড় আলিমদেরকে পাঠান মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য। তার এই প্যান ইসলামিজমের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বিশ্বে এবং উসমানি খিলাফতের পতনের পরে তার এই ধারণার আলোকেই মূলত গড়ে ওঠে আজকের ইসলামি রেনেসাঁ আন্দোলনগুলো।

এখন হয়তো অনেকেই বলবেন, আপনি তো দুশো বছরের কথা বলছেন। খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগে কিংবা তাদের পরে কি কোনও রাজনীতি ছিল? তারা কি রাজনীতি করেছেন? এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কিংবা খুঁজতে গিয়ে আমরা সবসময় একটি বিষয়কে ভুলে যাই, সেটা হলো,আমরা সেই সময়কে সেই সময়ের আলোকে বিবেচনা না করে আজকের ঘটনা প্রবাহের আলোকে তাদের কর্মকাণ্ডগুলোকে বিবেচনা করে থাকি। আমাদেরকে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, খিলাফত পূর্ববর্তী সমূহে এরকম জাতি রাষ্ট্র ছিল না। বিশ্ব পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা তাদের সময়ের আলোকে ইসলামের বিধানকে বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করেছেন। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারা অবশ্যই বর্তমান সময়ের মত ছিল না। তবে তারা রাষ্ট্রয় কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, এটা আমরা সকলেই জানি।

আমরা যদি ইসলামে রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, রাজনীতি বা সিয়াসাত শব্দের সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন বিখ্যাত দার্শনিক আবু নসর আল ফারাবী (রহ.) তার বিখ্যাত বই আল মাদিনাতুল ফাদিলাহ এবং আস-সিয়াসাতুল মাদানিয়্যায়। তার পরে ইসলামি রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন আল মাওয়ারদি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আহকামুস সুলতানিয়া’তে। তার এই বইকে আংশিক ও অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়ে ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসে রাজনৈতিক দর্শনের উপর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ রচনা করেন ইমাম গাজ্জালীর উস্তাদ, বিখ্যাত মুতাকাল্লিম ইমাম জুয়াইনী (রহ.)। তার সেই কালজয়ী গ্রন্থের নাম غياث الأمم في التياث الظلم ।

তাদের পরে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) রচনা করেন আস-সিয়াসাতুশ শারিইয়্যাহ। এবং এই সকল আলিম ও দার্শনিকদের পরে ইসলামে রাজনীতি কেমন হবে এটাকে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরেন ইবনে খালদান তার দায়েরাতুস সিয়াসাত নামক বৃত্তের মাধ্যমে। এখানে তিনি বলেন, রাষ্ট্র একটি শক্তির নাম।, আর সুন্নাহ এই রাষ্ট্রের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। এখানে ইবনে খালদুন তুলে ধরেছেন যে, সুন্নত রাষ্ট্রের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। ভালো করে খেয়াল করুন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ‘রাষ্ট্র বিহীন সুন্নাহ বেঁচে থাকতে পারে না’। কারণ রাসূলে আকরাম (স.) জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গুহায় বসবাসকারী কোনও ব্যক্তি ছিলেন না কিংবা মসজিদে নববিতে বসে শুধুমাত্র ওয়াজ নসিহত করেননি। তিনি একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি নিজে।

এই জন্যই ইবনে খালদুন এইভাবে তুলে ধরেছেন, যে রাষ্ট্র ছাড়া সুন্নত তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারবে না। কারণ রাষ্ট্র না থাকলে সুন্নত শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। অথচ সুন্নত শুধুমাত্র আমাদের ব্যক্তিজীবনকেই প্রভাবিত করে না, সামগ্রিকভাবে সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। আর সেটা কেবলমাত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই হতে পারে। ইবনে খালদুন এখানে সুন্নাহর একটি অসাধারণ ধারণা প্রদান করেছেন। আমরা সুন্নত বলতে কি বুঝি? সুন্নত বলতে শুধুমাত্র কিছু আনুষ্ঠানিকতা বুঝে থাকি। অপরদিকে ইবনে খালদুন সুন্নতকে সমাজের একটি নিজাম (ব্যবস্থা) হিসেবে দেখে থাকেন। সুন্নত কি, এর উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, السنة سياسة (আস-সুন্নাতু সিয়াসাতুন)। চিন্তা করুন, কত অসাধারণ ও বড় একটি কথা! তিনি বলেন, সুন্নত হলো সিয়াসাতুন বা রাজনীতি! আমি এটা প্রথম দেখে অনেকক্ষণ অবাক বসে ছিলাম।

আমরা সুন্নতের নামে কি শিখি আর ইসলামি চিন্তা দর্শনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চিন্তাবিদ ইবনে খালদুন সুন্নতকে কিভাবে দেখেন? সুন্নতের এমন এই ব্যাখ্যা আমরা কোথাও দেখেছি? তবে হ্যাঁ, ইবনে খালদুনের মতো একজন আলিম, দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীই পারেন সুন্নতের এমন একটি ধারণা দিতে। অর্থাৎ সমাজকে পরিচালনা পদ্ধতি, একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। তবে এখানে সিয়াসাতকে সংকীর্ণ ‘রাজনীতি কিংবা পলিটিক্স’ অর্থে গ্রহণ করা উচিত হবে না। বিস্তৃত অর্থে, এর নিজস্ব বৈশিষ্টের আলোকে সামাজিক সিস্টেম ও রাষ্ট্রীয় সিস্টেম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া সুন্নতকে শুধুমাত্র ব্যক্তিজীবনকে গঠনকারী একটি বিষয় হিসেবে নয়, ম্যাক্রো বা সামগ্রিক অর্থে সমগ্র দুনিয়াকে শাসনকারী একটি ব্যবস্থার নাম বলে তিনি সুন্নতকে সঙ্গায়িত করেছেন। এর পর তিনি বলেন, সুন্নাহ থেকে উৎসারিত এই রাজনীতিকে কে বাস্তবায়ন করবে? এর জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র এর বাস্তবায়ন করবে। যার অর্থ হলো, রাসূল (স.) সুন্নতের একটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ধারণা রয়েছে। আর এটা বাস্তবায়ন করবে রাষ্ট্র! আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় এটা না হওয়ায় আমি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। ইবনে খালদুনের এই দায়েরাতুস সিয়াসাত বা রাজনীতির বৃত্তে আটটি মূলনীতি রয়েছে। যার প্রতিটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইবনে খালদুনের পর রাষ্ট্রচিন্তা ও রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ইসলামি চিন্তার পর্যায়কালের নবায়নের যুগের বিখ্যাত দার্শনিক ও আলিম কিনালিযাদে আলী চেলেবী (রহ.)। তার লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আখলাকে আ’লা’তে রাজনীতির কেন্দ্রে আখলাককে স্থাপন করে রাজনীতিতে এক নতুনমাত্রা এনে দেন। তার পরে আরো অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও দার্শনিক আসেন যারা ইসলামের রাজনৈতিক চিন্তাকে অসাধারণ ভাবে তুলে ধরেন। এখন হয়তো কেউ কেউ বলবেন, আমি এই সব কিছু মানি না, আমাকে কোরআন থেকে বলেন। কোরআনে রাজনীতি বলে কিছু আছে কি? তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলব, কোরআনে দুইটি পরিভাষা আছে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেই দুইটি পরিভাষা হলো:

এক. ইসলাহ। এর সমার্থক আরও দুইটি শব্দ রয়েছে,  আস-সুলহু ও আল-মাসলাহ।

দুই. ইফসাদ। এরও সমর্থক দুইটি শব্দ রয়েছে, আল-ফাসাদু ও আল-মাফসাদাতু।

আমাদের মুফাসসির এবং আলিমরা বলে থাকেন, ‘ইসলাহ’ প্রতিনিধিত্ব করে থাকে ইসলামি জীবন ব্যবস্থা আর ইফসাদের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে বাতিল বা শয়তানি ব্যবস্থা। সুলতানুল উলামা ইয বিন আব্দুস সালাম (র.) বলেন, কোরআনের একটি মাত্র উদ্দেশ্য রয়েছে। আর সেটি হলো, মাসলাহাতের প্রতিষ্ঠা ও মাফসাদাতের প্রতিরোধ। এর পক্ষে কোরআনে প্রচুর আয়াত রয়েছে। পরবর্তীতে এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে অনেক গ্রন্থও রচিত হয়েছে।

মূলত মাসলাহাতের প্রতিষ্ঠার জন্যই আলিমরা যুগে যুগে কাজ করে গিয়েছেন এবং এই পথে শহিদ পর্যন্ত হয়েছেন। সালতানের যুগেও মূলত আলেমদের ভূমিকার কারণেই শাসকরা তাদেরকে ভয় করতেন। বিখ্যাত জার্মান কবি গ্যাটো মুসলমান আলিমদের কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, “ইস্তানবুলে ৯০০ মাদ্রাসা, ২৫০ মসজিদ রয়েছে। এটা এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা যেখান থেকে তারা মৌলিক সকল কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে। এখান থেকে যারা বের হয় তারা একমাত্র `হাকিকত` ছাড়া অন্যকিছুকে মানে না। এমনকি তারা সুলতানকেও পরোয়া করে না।”

আলিমরা হলেন এই উম্মাহর বিবেক এবং নবিদের উত্তরসুরী। আলিমরা শুধুমাত্র সালিহ তথা সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গই নন, তারা কোরআন-হাদিসকে মুখস্ত করে মিম্বার থেকে বর্ণনা করেন বলেই নবিদের উত্তরসূরী নন, একই সাথে তারা নবিদের থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার আলোকে ইসলাহ ও মাসলাহাতের কাজ করে থাকেন। আমাদের পূর্ববর্তী আলিমরা এমন কাজই করেছেন। সারা দুনিয়াতে ইসলামের বাণীকে পৌঁছে দেয়ার জন্য ও হক্বকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করেছেন। তারা শুধুমাত্র সালিহ ছিলেন না। তারা একই সাথে মুসলিহ ছিলেন। কারণ শুধুমাত্র সালিহ ব্যক্তিদের কারণে একটি সমাজ টিকে থাকে না। একটি সমাজ টিকে থাকে মুসলিহ ব্যক্তিদের কারণে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমার প্রতিপালক এমন নন যে, তিনি জনবসতিগুলো অন্যায়ভাবে ধ্বংস করবেন। অথচ তার অধিবাসীরা সংশোধনকারী।” তাই আমাদের দায়িত্ব হলো, মুসলিহ তথা সংশোধনকারী হওয়া। শুধুমাত্র সালিহ বা সৎকর্মশীল হলেই হবে না। যুগে যুগে মুসলমানরা সকল অন্যায়, অত্যাচার অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এই শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই। আমরা প্রতিদিন বিতরের নামাজে দোয়ায়ে কুনুত পাঠ করে থাকি। দোয়ায়ে কুনুতে একটি বাক্য আছে। সেটি হলো, وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ, অর্থাৎ যারা অত্যাচার করে, নির্যাতন করে তাদেরকে পরিত্যাগ করি এবং তাদের থেকে আমাদেরকে মুক্ত করে নেই।

এখানে কার কথা বলা হয়েছে? এখানে সেই সকল শাসকের কথা বলা হয়েছে তারা জুলুম করে অন্যায় করে। আর আমরা মুসলিম হিসেবে যে তাদের আনুগত্য করতে পারি না এটা আমরা প্রতিদিন নামাজের মধ্যে আল্লাহর সামনে বলে থাকি। এটাই হলো সুলহ, ইসলাহ এবং মাসলাহাতের চেতনা। এই চেতনাকে ধারণ করতেন বলেই বড় বড় ইমামরা তাদের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। এখানেই হলো মূলকথা, একজন মুসলিম হিসেবে আমাকেও মুসলিহ বা সংশোধকারী হতে হবে। আমি যদি মাসলাহাতের জন্য কাজ না করি তাহলে ফাসাত বা মাফসাদাত থেকে মানব জাতিকে রক্ষা করবে কে? শয়তানি ও বাতিল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যদি আমরা না দাঁড়াই তাহলে এই মাসলাহাতের কাজ কে করবে?

তাহলে আমি আজকের এই যুগে এই আধুনিক রাষ্ট্রে কিভাবে একজন মুসলিহর ভূমিকা পালন করব? যেমন, এই মাসে বাংলাদেশে বাজেট ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট পাশ হবে। এই বারের বাজেটেও সবচেয়ে বড় খাতটি থাকবে সুদ। সুদের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান কি আমরা সকলেই জানি। এই সুদ হলো, শোষণের হাতিয়ার। আমাদের দেশের মানুষ যেখানে খাবার ও চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে সেখানে আমরা এই বছর ৬৫ হাজার কোটি টাকা সুদ দেব ইয়াহুদিদেরকে! যা বাংলাদেশের বাজেটের ১৫%! অর্থাৎ আমার দেশের এই গরিব মানুষদের টাকা কাদের হাতে যাচ্ছে আমরা কি একবার ভেবে দেখছি?

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? এখানে কি আমার ‘মুসলিহ’র ভূমিকা পালন করা জরুরি নয়? আমার কি দায়িত্ব নয় জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলা? মানুষকে অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং সাম্রাজ্যবাদীদের হাত থেকে মুক্ত করার স্পৃহা নিয়েই মূলত আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার এই ফরমেটের মধ্যে ইসলামি আন্দোলনগুলোর যাত্রা শুরু হয়েছিল। আর এই রাজনৈতিক চিন্তর পেছনে মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল এই সুলহ, ইসলাহ এবং মাসালাহা। তাইতো আল্লামা ইকবাল বলেছিলেন, Political activity is the expression of Islam`s Spirituality.

তাই আজকের দুনিয়ায় হক্ব ও আদালতকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনীতি কোনও চয়েস নয়, এটা আবশ্যক, জরুরত। কারণ মুসলিম হিসেবে মাসলাহাতের জন্য কাজ করতে হবে। আর সেটা হবে আস-সিয়াসাতুস সুন্নাহর আলোকে।