বৃহস্পতিবার গাজায় ইজরায়েলি হামলায় নিহত ১৪

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৯, ২০২৬

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে বৃহস্পতিবার গাজায় চালানো ইজরায়েলি হামলায় ৫ শিশুসহ ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

দক্ষিণ গাজার আল মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য স্থাপিত তাঁবুতে চালানো ইজরায়েলি হামলায় চারজন নিহত হয়।

এছাড়া গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় আরেকটি হামলায় নিহত হয় চারজন। একই সঙ্গে মধ্য গাজার বুরেইজ ও নুসাইরাত এলাকাতেও বোমা হামলা চালানো হয়।

পৃথকভাবে, উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ইজরায়েলি গুলিতে হামসা হুসু নামের ১১ বছর বয়সি এক কন্যাশিশু নিহত হয়েছে। তার চাচা খামিস হুসু বলেন, “পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে আমার ঘুম ভাঙে। আমি দেখি, হামসা মেঝেতে পড়ে আছে। তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।”

গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর কররেও তা লঙ্ঘন করে গাজায় হামলায় চালিয়ে আসছে ইজরায়েল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার এই হামলা চালানো হয়।

দ্য পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেলন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) বিবৃতিতে জানায়, বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর বৃহস্পতিবারের এ হামলাকে যুদ্ধাপরাধ। এসব হামলা গাজাকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার ইজরায়েলি লক্ষ্যকেই প্রতিফলিত করে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই দখলদার রাষ্ট্র কোনো যুদ্ধবিরতি মানে না এবং প্রতারণা ও মিথ্যা নিরাপত্তাজনিত অজুহাত ব্যবহার করে হত্যা ও উচ্ছেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১১ অক্টোবরের পর থেকে ইজরায়েলি হামলায় অন্তত ৪২৫ জন নিহত এবং ১,২০৬ জন আহত হয়েছে। ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি পরিবার গাজাজুড়ে অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থা সতর্ক করে বললেও ইজরায়েল গাজায় পর্যাপ্ত আশ্রয় ও ত্রাণসামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এর মধ্যে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সূত্র: আল জাজিরা