ভারত থেকে এলো ৯ টন কাঁচা মরিচ

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : আগস্ট ০৪, ২০২৬

সোমবার প্রথম চালানে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ টন ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বাংলাদেশে ঢুকেছে। বন্দরের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার পর সন্ধ্যায় আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়।

এই চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘শিমু এন্টারপ্রাইজ’ এবং বন্দর থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘শিমু শিপিং লাইন্স’।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, “মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের কাজ শেষ করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েকটি ট্রাক কাঁচা মরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।”

মরিচ আমদানিকারক শাহাজান বলেন, “প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে আমার মোট খরচ পড়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে তা বাজারে বিক্রি করা হবে। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম কমে আসবে। তবে কাস্টমসের হয়রানি ও পণ্য খালাসে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি দিতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছে এবং আমদানির খরচও বেড়ে যাচ্ছে।”

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছে। সোমবার থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে সোমবার প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের আশা, আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কিছুটা কমে আসবে।

আমদানির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, যা প্রতি কেজিতে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে সরকারকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক দিতে হয়। সেই হিসেবে আমদানি ব্যয় কেজিপ্রতি প্রায় ৭৮ টাকা হওয়ার কথা।

তবে আমদানিকারকদের দাবি, পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর ও খালাসসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় তাদের প্রকৃত খরচ আরও অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কাঁচা মরিচের এমন দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তারা বাজারে সঠিক ও কঠোর তদারকি বাড়াতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

উল্লেখ্য, দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট সামাল দিতে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।