ভিয়েতনামে বন্যায় নিহত ৯০
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : নভেম্বর ২৩, ২০২৫
ভিয়েতনামে বন্যায় ৯০ জন মারা গেছে। নিখোঁজ রয়েছে ১২ জন। আজ রোববার দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে এ জানিয়েছে।
দক্ষিণ-মধ্য ভিয়েতনামে অক্টোবরের শেষদিক থেকে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। এই অঞ্চল কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানে জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতও রয়েছে।
বিখ্যাত অবকাশ যাপন কেন্দ্রগুলোও একাধিকবার বন্যার কবলে পড়েছে। কিছু এলাকায় এক সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১,৯০০ মিলিমিটার বা ৭৪.৮ ইঞ্চি ছাড়িয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় পাহাড়ি জেলা ডাকলাকে ১৬ নভেম্বরের পর ৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছে। অঞ্চলটিতে ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি বন্যায় তলিয়ে গেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বন্যা কবলিত কুই নোন উপকূলীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার ও রোগীরা ৩ দিন ধরে শুধু নুডলস ও পানি খেয়ে দিন কাটাচ্ছিল। উদ্ধারকারীরা তাদের খাবার ও পানি পৌঁছে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে উপকূলীয় নাহা ট্রাংয়ের পুরো শহর প্লাবিত হয়। দা লাট পর্যটন কেন্দ্রের আশপাশে ভয়াবহ ভূমিধস ঘটে। বন্যা ও ভূমিধসে রোববার জাতীয় মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ভূমিধসে যান চলাচল বন্ধ ছিল, রেলপথের কিছু অংশে এখনও ট্রেন চলাচল করতে পারছে না।
বন্যার কারণে গত সপ্তাহে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এখনও ১ লাখ ২৯ হাজারেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ ছাড়াই দিন কাটাচ্ছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যার কারণে ৫টি প্রদেশে প্রায় ৩৪৩ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর।
ভিয়েতনামের দুর্যোগ সংস্থা আগেই জানিয়েছে, ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি বাড়ি বন্যায় তলিয়ে গেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ার পেছনে দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান























